• সোমবার   ০৮ আগস্ট ২০২২ ||

  • শ্রাবণ ২৩ ১৪২৯

  • || ০৮ মুহররম ১৪৪৪

ঝালকাঠি আজকাল

কাঠালিয়া উপজেলাকে ভূমিহীন ও গৃহহীন মুক্ত এলাকা ঘোষণা 

ঝালকাঠি আজকাল

প্রকাশিত: ২০ জুলাই ২০২২  

ঝালকাঠি প্রতিনিধি: 
ঝালকাঠি জেলায় প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার আশ্রায়ন প্রকল্পের আওতায় মুজিববর্ষ উপলক্ষে ভূমিহীন ও গৃহহীন ১৬২৬টি পরিবারকে গৃহ নির্মান করে দেয়া হয়েছে। ৩ ধাপে এই গৃহ নির্মান করে দেয়া হয়েছে। প্রথম ধাপে জেলায় ৪৭৪টি, দ্বিতীয় ধাপে ৪৭২টি এবং তৃতীয় ধাপে ৬৮০টি গৃহ নির্মান করা হয়েছে। আগামী ২১ জুলাই প্রধানমন্ত্রীর এই কর্মসূচির আওতায়  জেলায় গৃহ নির্মান হওয়া ১৪৯৩টি ঘরের মধ্যে ১৫২টি গৃহ নির্মান শেষে চাবি হস্তান্তরের মধ্য দিয়ে সুবিধাভোগিদের কাছে আনুষ্ঠানিক ভাবে গৃহ হস্তান্তর হবে। এর মধ্যে রাজাপুর উপজেলায় ৩০টি এবং নলছিটি উপজেলায় ১২২টি ঘর রয়েছে। এরপরও ঝালকাঠি জেলায় আরও ১৩৩টি ঘর নির্মানের বরাদ্দ পাওয়া গেছে।

এর মধ্যে সদর উপজেলায় ২০টি, নলছিটি উপজেলায় ৫২টি এবং রাজাপুর উপজেলায় ৬১টি তৃতীয় পর্যায়ের দ্বিতীয় ধাপে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে মাটি ভরাট করে এই গৃহ নির্মান করা হবে। ঝালকাঠি জেলা পর্যায়ে ৪টি উপজেলার মধ্যে ২০২২ সালের ৫ জুন আনুষ্ঠানিকভাবে কাঠালিয়া উপজেলাকে ভূমিহীন ও গৃহহীন মুক্ত এলাকা ঘোষনা করা হয়েছে। জেলা প্রশাসন গৃহ নির্মান করতে গিয়ে ১১৩ একর জমি অবৈধ দখলদারদের কাছ থেকে উদ্ধার করে সেখানে এই গৃহ নির্মান করা হয়েছে। মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৩টায় ঝালকাঠি জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে প্রধানমন্ত্রীর ২১ জুলাই গৃহ নির্মান উদ্বোধনি অনুষ্ঠানে ঝালকাঠি জেলার বিয়য়ে প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রেস ব্রিফিংকালে জেলা প্রশাসক মোঃ জোহর আলী এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এ সময় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোঃ কামাল হোসেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) নাজমুল আলম এবং অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট লতিফা জান্নাতি ও জেলা প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ঝালকাঠি জেলার কাঠালিয়া উপজেলাকে এই সময়ে ভূমিহীন ও গৃহহীন মুক্ত এলাকা ঘোষনা করা হয়েছে। জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে টাস্কফোর্স কমিটির সভায় এই ঘোষনা করা হয়েছে। জেলা প্রশাসক মোঃ জোহর আলীর সভাপতিত্বে জেলার চারটি উপজেলার মধ্যে কাঠালিয়া উপজেলার ৬টি ইউনিয়নে প্রধানমন্ত্রীর উদ্ভাবনি ১০টি বিশেষ উদ্যোগের মধ্যে আশ্রায়ন প্রকল্পের আওতায় চাহিদা ভিত্তিক ৪৭৭টি গৃহ নির্মানের মধ্য দিয়ে ভূমিহীন ও গৃহহীন মুক্ত এলাকা ঘোষনা করা হয়। এ সময় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) নাজমুল আলম, কাঠালিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুফল চন্দ্র গোলদার, সদর ও রাজাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা  এবং টাস্ক ফোর্স কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। এই উপজেলায় ৬টি ইউনিয়নের মধ্যে চেচরি-রামপুর ইউনিয়নে ৮০টি, আমুয়া ইউনিয়নে ৯৩টি, কাঠালিয়া সদর উপজেলা ইউনিয়নে ১৩৮টি, সৌলজালিয়া ইউনিয়নে ৬৬টি, আওরাবুনিয়া ইউনিয়নে ৫১টি ও পাটিখালঘাটা ইউনিয়নে ৪৯টি গৃহ নির্মান করে দেয়া হয়েছে। প্রতিটি গৃহ নির্মানে ধাপ অনুযায়ী ১ লক্ষ ১০ হাজার টাকা থেকে ১ লক্ষ ২৬ হাজার টাকা পর্যন্ত ব্যায় করা হয়েছে। প্রাকৃতিক দূর্যোগজনিত কারনে এই এলাকায় আগামীতে কোনো পরিবার ভূমিহীন হলে তাকে গৃহ নির্মান করে দেয়া হবে। সরকার যে সকল পরিবারের জায়গা-জমি ও গৃহ নেই তাদেরকে “ক” শ্রেণীভুক্ত করে তাদের সরকারি খাস অথবা সরকারের অনুকুলে দান করা জমিতে গৃহ নির্মান করে ভুমিহীনদের ঠিকানা তৈরী করে দিয়েছে। সরকার এই “ক” শ্রেণীভুক্ত মানুষের গৃহ নির্মানের চাহিদা পূরণ করে যে সকল পরিবারের নিজস্ব জমি আছে অথচ ঘর নেই তাদেরকে “খ” শ্রেণীভুক্ত করে তাদেরকেও গৃহ নির্মন করে দেয়া হবে এবং যাদের জায়গা আছে কিন্তু বাড়ি ঘরের কাঠামো দূর্বল তাদেরকেও “গ” শ্রেণীভুক্ত করে ধাপে ধাপে গৃহ নির্মান করে দেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

ঝালকাঠি জেলায় এ নিয়ে চারটি উপজেলায় ১৬২৬টি পরিবারকে মুজিব বর্ষ উপলক্ষে গৃহ নির্মান করে দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে ঝালকাঠি সদর উপজেলায় ২০১টি পরিাবারকে, নলছিটি উপজেলায় ৪৩৭টি পরিবারকে, রাজাপুর উপজেলায় ৫১১টি এবং কাঠালিয়া উপজেলায় ৪৭৭টি গৃহ নির্মান করা হয়েছে। 
 

ঝালকাঠি আজকাল