• বুধবার   ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ||

  • মাঘ ২৫ ১৪২৯

  • || ১৬ রজব ১৪৪৪

ঝালকাঠি আজকাল
ব্রেকিং:

৪ মেগা প্রকল্পে পাল্টে যাবে কক্সবাজার

ঝালকাঠি আজকাল

প্রকাশিত: ২৩ জানুয়ারি ২০২৩  

কক্সবাজারে সাড়ে তিন লাখ কোটি টাকা ব্যয়ে ৭৭টি মেগা প্রকল্পের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। বিশেষ করে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নির্মাণকাজ, খুরুশকুল শেখ হাসিনা আশ্রয়ণ প্রকল্প, রেললাইন প্রকল্প ও মাতারবাড়ি তাপভিক্তিক কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র।

এছাড়াও রয়েছে, ৭টি অর্থনৈতিক অঞ্চল, গভীর সমুদ্রবন্দর, হাইটেক পার্ক, মেরিন ড্রাইভ সড়ক চারলেন উন্নয়ন প্রকল্প, বিদেশি পর্যটকদের জন্য আলাদা জোন তৈরি, এলএনজি টার্মিনাল, এসপি এম প্রকল্প, সমুদ্র গবেষণা কেন্দ্র ও কক্সবাজারে অত্যাধুনিক দৃষ্টিনন্দন পর্যটন কেন্দ্রে রূপান্তরসহ ৭৭টি মেগা প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে সাড়ে তিন লাখ কোটি টাকা। 

কক্সবাজার বিমানবন্দরে চলছে বিশাল কর্মযজ্ঞ। শেষ হয়েছে ১০৫ একর ভূমি উন্নয়নের কাজ। একসঙ্গে চলছে চারপাশে ২ কিলোমিটার প্রতিরক্ষা বাঁধের কাজ। এজন্য ফেলা হচ্ছে ৩০০ কেজি ওজনের বোল্ডার ও ৪ টন ওজনের সিসি ব্লক। আর বিমান ওঠানামার জন্য সমুদ্রের ২ হাজার ২০০ ফুট অংশে বসানো হচ্ছে সমুদ্র ছুঁয়ে ওঠানামা করবে বড় আকারের উড়োজাহাজ। আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সম্প্রসারণ প্রকল্পের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। এ প্রকল্পটির পরিচালক ইউছুপ ভূঁইয়া জানিয়েছেন, এরমধ্যে প্রকল্পের প্রায় ৪৮ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। আগামী অক্টোবরের মধ্যে প্রকল্পের পুরো কাজ শেষ হবে।

মাতারবাড়ি কয়লাবিদ্যুৎ কেন্দ্র কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়িতে নির্মাণাধীন কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্পের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। চলতি ২০২৩ সালের শেষ নাগাদ ১২শ’ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে বলে আশা করছেন বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

মাতারবাড়ি বিদ্যুৎ প্রকল্পের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আবু রায়হান সরকার জানান, কয়লাভিত্তিক এ বিদ্যুৎ প্রকল্পটির ৮৮ শতাংশ কাজ এরমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। দুটি জেটির কাজ শেষ হওয়ায় সেখানে কয়লা নিয়ে জাহাজ ভিড়তে পারবে। এছাড়াও প্রকল্পের বিভিন্ন অবকাঠামোর কাজ শেষপর্যায়ে। ২০২৩ সালের শেষ নাগাদ ৬শ’ মেগাওয়াট এবং ২০২৪ সালের জুনে আরও ৬শ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে।

নির্বাহী প্রকৌশলী জানান, ২০১৭ সালের আগস্টে সরকারের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে মহেশখালীর মাতারবাড়িতে কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। ‘কোল পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেড’ (সিপিজিসিবিএল) এ প্রকল্পের কাজটি বাস্তবায়ন করছে। কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প ও গভীর সমুদ্রবন্দরের জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৫১ হাজার ৮৫৪ কোটি ৮৮ লাখ টাকা। প্রকল্পে আল্ট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। প্রতিদিন ১০ হাজার ৫শ’ লোক এই বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও সার্বিক অবকাঠামো নির্মাণ কাজে যুক্ত রয়েছে। প্রায় ১ হাজার বিদেশি টেকনিশিয়ান এখানে কাজ করছেন। এরমধ্যে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মালামাল নিয়ে এখানে ১১০টি জাহাজ ভিড়েছে।

ট্রেন আসছে কক্সবাজারে
চট্টগ্রামের দোহাজারী থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত ১শ’ কিলোমিটার রেললাইনের নির্মাণ কাজ ২০২৩ সালেরব জুন মাস নাগাদ শেষ হবে। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে ১৮ হাজার ৩৪ কোটি ৪৮ লাখ টাকা। এ প্রকল্পে ঋণ সহায়তা দিচ্ছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। প্রকল্প পরিচালক মফিজুর রহমান বলেন, ‘২০২৩ সালের আগস্টের মধ্যে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেল চলাচল শুরু হবে বলে আশা করছি। কক্সবাজারে ঝিনুকের আদলে নির্মিত হচ্ছে দেশের প্রথম আইকনিক রেলওয়ে স্টেশন। এর কাজও শেষ পর্যায়ে। প্রকল্প পরিচালক জানান, কক্সবাজার ঝিলংজা ইউনিয়নের চান্দেরপাড়া এলাকায় তৈরি হচ্ছে ঝিনুক আকৃতির আইকনিক রেলওয়ে স্টেশন ভবন। ২৯ একর জমির ওপর রেলস্টেশনটি আয়তন ১ লাখ ৮৭ হাজার ৩৭ বর্গফুট। ভবনটি হবে ছয়তলা। মূলভবনের সামনে খোলা মাঠে তৈরি হবে ঝিনুকাকৃতির দৃষ্টিনন্দন একটি ফোয়ারা। যাত্রীরা ঝিনুক ফোয়ারা দিয়ে স্টেশনে প্রবেশ করবেন।

ভবনটিতে থাকবে টিকিট কাউন্টার, অভ্যর্থনা কক্ষ, তথ্যকেন্দ্র, মসজিদ, শিশুদের বিনোদনের জায়গা, যাত্রী লাউঞ্জ, শপিং মল, রেস্তোরাঁ, তারকামানের হোটেল, কনফারেন্স হল। কক্সবাজারে বাস্তবায়নাধীন চারটি বিশেষ প্রকল্পের কথা। এগুলো হলো- ১. চট্টগ্রামের দোহাজারী থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত ১০০ কিলোমিটারের রেললাইন সম্প্রসারণ ও কক্সবাজারে ঝিনুক আকৃতির আইকনিক রেলস্টেশন নির্মাণ। ২. সাগরের পানি ছুঁয়ে সুপরিসর বিমান ওঠানামার জন্য কক্সবাজার বিমানবন্দরে দেশের দীর্ঘ (১০ হাজার ৭০০ ফুট দৈর্ঘ্যের) রানওয়ে সম্প্রসারণ প্রকল্প ও ৩. জলবায়ু উদ্বাস্তু হয়ে গৃহহীন ৪ হাজার ৪০৯ পরিবারের ২০ হাজার মানুষের জন্য খুরুশকুলে ১৩৭টি পাঁচতলা ভবনের (ফ্ল্যাটবাড়ি) বিশেষ আশ্রয়ণ প্রকল্প ও মাতারবাড়ি কয়লাবিদ্যুৎ প্রকল্প অন্যতম।

কক্সবাজার চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি আবুল মোর্শেদ চৌধুরী বলেন, শেখ হাসিনা কক্সবাজারের উন্নয়নে অনেক কিছু দিয়েছেন। এরমধ্যে প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার চারটি প্রকল্প ছাড়া আরও অনেক প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে। সব প্রকল্পের কাজ শেষ হলে কক্সবাজারের চেহারা পাল্টে যাবে। পর্যটনের বিকাশের পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্যও চাঙ্গা হবে।

 

খুরুশকুল আশ্রয়ণ প্রকল্প

খুরুশকুল আশ্রয়ণ প্রকল্প
এ প্রকল্পের ২০টি পাঁচতলা ভবনে এরমধ্যে ঠাঁই হয়েছে প্রায় ৬০০ পরিবারের। তাদের মধ্যে বেশির ভাগ শুঁটকি শ্রমিক, জেলে, ভিক্ষুক, রিকশা ও ভ্যানের চালক। পাঁচতলা ভবনের প্রতিটিতে ৬৫০ বর্গফুট আয়তনের ৩২টি করে ফ্ল্যাট রয়েছে। ২০ লাখ টাকা দামের প্রতিটি ফ্ল্যাটবাড়ির মালিক হতে একেকটি পরিবারের খরচ হয়েছে মাত্র ১ হাজার ১ টাকা করে। এ টাকাও রেজিস্ট্রির কাজে ব্যয় হয়েছে।

কক্সবাজার পৌরসভার মেয়র মুজিবুর রহমান বলেন, মাত্র ১ হাজার ১ টাকায় ফ্ল্যাটবাড়ির মালিক হওয়ার নজির বিশ্বের কোথাও নেই। এটি গরিবের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর দরদ ও আন্তরিকতার কারণে সম্ভব হয়েছে। বর্ষীয়ান আওয়ামী লীগ নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা কামাল হোসেন চৌধুরী বলেন, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন ছিল সুখী-সমৃদ্ধ ছোট পরিবার এবং ঠিকানাবিহীন কোনো লোক থাকবে না দেশে। তারই কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ডাইনামিক নেতৃত্বে আজ দরিদ্রতম রাষ্ট থেকে মধ্যম আয়ের দেশের তালিকায় বাংলাদেশ।

আশ্রয়ণ প্রকল্পের দক্ষিণে বাঁকখালী নামের পাঁচতলা ভবনের তৃতীয়  তলার ৩০১ নম্বর ফ্ল্যাটটি বরাদ্দ পেয়েছেন নজির আহমদ (৪২)। সঙ্গে থাকেন তার এক মেয়ে ও তিন ছেলে। এতদিন তিনি ঝুপড়ি ঘরে ছিলেন।

কক্সবাজার জেলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি ফজলুল কাদের চৌধুরী বলেন, আজ বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনা ক্ষমতায়, তাই দেশের মানুষের চাহিদা ও বেশি। কক্সবাজারের উন্নয়নে যা যা করা হচ্ছে সবই অতি মমতায়। তাই কক্সবাজারবাসী তার কাছে কৃতজ্ঞ।

জেলা প্রশাসক মো. শাহীন ইমরান বলেন, কক্সবাজারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে সরাসরি নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। ফলে সব প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে কক্সবাজার হবে দেশের অর্থনীতির অন্যতম মূল চালিকা শক্তি। কক্সবাজারের পর্যটন শিল্প জিডিপিতে বিশেষ অবদান রাখবে, এতে কোনো সন্দেহ নেই।

ঝালকাঠি আজকাল