• বুধবার   ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ||

  • মাঘ ২৫ ১৪২৯

  • || ১৬ রজব ১৪৪৪

ঝালকাঠি আজকাল

নতুন জঙ্গি সংগঠনে ভিড়ছে নারীরাও!

ঝালকাঠি আজকাল

প্রকাশিত: ৫ নভেম্বর ২০২২  

নতুন জঙ্গি সংগঠন ‘জামাতুল আনসার ফিল হিন্দাল শারক্বীয়া’র সদস্যদের নানাভাবে সহায়তার জন্য দলে ভিড়ছেন নারীরাও। সংগঠনটির সামরিক শাখায় নারীদের অংশ নেওয়ার তথ্য এখনো মেলেনি। তবে জঙ্গি সংগঠনে আবারো নারীদের এই জড়িয়ে যাওয়ার তথ্য নতুন করে ভাবাচ্ছে সংশ্লিষ্টদের।

এই জঙ্গি সংগঠনটির অস্তিত্ব পাওয়ার পর ধারাবাহিক অভিযানে শীর্ষ পর্যায়ের নেতাসহ ২৯ জনকে গ্রেফতার করেছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

পার্বত্য এলাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় টানা অভিযানের প্রায় এক মাসের ব্যবধানে সংগঠনটিতে নারীদের সম্পৃক্ত হওয়ার তথ্য পেয়েছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)।

সংগঠনে নতুন সদস্য সংগ্রহ, অর্থ যোগান এবং তথাকথিত হিজরতে থাকা পুরুষ জঙ্গিদের পরিবারকে সহযোগিতার কাজ করছে এই নারী জঙ্গিরা।

র‌্যাব জানায়, প্রাথমিকভাবে সংগঠনটিতে অন্তত ৬ জন নারীর জড়িয়ে যাওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। তবে মোট কতজন নারী জঙ্গি সদস্য জামাতুল আনসার ফিল হিন্দাল শারক্বীয়ার সঙ্গে যুক্ত রয়েছে এর সঠিক সংখ্যা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। যদিও এই সংখ্যাটা আরও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন জানান, আমরা অন্তত ৫-৬ জন নারীর তথ্য পেয়েছি, তবে এটা বাড়তে পারে। দাওয়াতি শাখা, অর্থ দেওয়া, সংগঠনের যেসব সদস্য পাহাড়ে আছে তাদের পরিবারের খোঁজ খবর নেওয়ার কাজ করছেন এসব নারী। এখনো সংগঠনের সামরিক শাখায় তাদের অংশগ্রহণ পাওয়া যায়নি।

বৃহস্পতিবার (৩ নভেম্বর) কুমিল্লার লাকসামে আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় গ্রেফতার হয়েছেন সংগঠনটির অর্থ বিষয়ক প্রধান সমন্বয়ক মুনতাছির আহম্মেদ ওরফে বাচ্চু, সারাদেশে হিযরতরত সদস্যদের সার্বিক সমন্বয়ক আব্দুল কাদের ওরফে সুজন ওরফে ফয়েজ ওরফে সোহেল ও  ইসমাইল হোসেন ওরফে হানজালা ওরফে মানসুর। আর সামরিক শাখার তৃতীয় সর্বোচ্চ ব্যক্তি হেলাল আহমেদ জাকারিয়া। তাদেরকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সংগঠনের নারীদের সম্পৃক্ত হওয়ার তথ্য পেয়েছে র‌্যাব।

গ্রেফতার চারজনের বিষয়ে খন্দকার মঈন জানান, তারা জামাতুল আনসার ফিল হিন্দাল শারক্বীয়ার দাওয়াতী, সশস্ত্র প্রশিক্ষণ, হিজরত করা সদস্যদের তত্ত্বাবধানসহ অন্যান্য সাংগঠনিক কার্যক্রমে যুক্ত ছিল। তারা ২-৪ বছর আগে নিকটাত্মীয়, বন্ধু, স্থানীয় পরিচিত ব্যক্তির মাধ্যমে উগ্রবাদে অনুপ্রাণিত হয়ে সংগঠনে যুক্ত হয়। এই চারজন তাত্ত্বিক, শারীরিক সশস্ত্রসহ অন্যান্য বিষয়ক প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছে।

দেশব্যাপী জামাতুল আনসার ফিল হিন্দাল শারক্বীয়ার কার্যক্রমে জড়িত সদস্যদের বিরুদ্ধে র‌্যাবসহ অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানের কারণে তারা সংগঠনের নেতৃত্বস্থানীয়দের পরামর্শে কুমিল্লার লাকসাম এলাকায় আত্মগোপনে ছিলেন।

এই র‌্যাব কর্মকর্তা জানান, আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় তারা বিভিন্ন মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তাদের সদস্য ও সহানুভূতিশীলদের থেকে অর্থ সংগ্রহ করতেন। সাংগঠনিক প্রয়োজনে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে টাকা পাঠাতেন। এছাড়াও তারা পাহাড়ে প্রশিক্ষণরত সদস্যদের পরিবারের কাছে প্রয়োজন অনুযায়ী টাকাসহ অন্যান্য সহযোগিতা দিতেন।

কুমিল্লার বাড়ি বেঁচে নাইক্ষংছড়িতে আবাস আমিরের: গ্রেফতার চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব জানিয়েছে, সংগঠনের আমির মাহমুদ কুমিল্লা সদর দক্ষিণে একটি সিএনজি ফিলিং স্টেশনে ম্যানেজার হিসেবে চাকরি করতেন। প্রায় দুই বছর আগে চাকরি ছেড়ে নিরুদ্দেশ হয়ে যান।

পরবর্তীতে এক বছর আগে কুমিল্লার প্রতাপপুরে তার সেমি পাকা বাড়িসহ জমি স্থানীয় এক ব্যক্তির কাছে ১৭ লাখ টাকায় বিক্রি করেন। সেই টাকা দিয়ে বান্দবানের নাইক্ষংছড়িতে সাড়ে তিন বিঘা জমি কিনেন। পরিবার নিয়ে সেখানেই অবস্থান করছিলেন। নাইক্ষংছড়িতে চাষাবাদ, পোল্ট্রি ফার্ম ও গবাদি পশুর খামার পরিচালনা করতেন তিনি। তবে আমিরের বর্তমান অবস্থানের বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

ঝালকাঠি আজকাল