• শনিবার   ১৬ অক্টোবর ২০২১ ||

  • আশ্বিন ৩০ ১৪২৮

  • || ০৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

ঝালকাঠি আজকাল

রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশ, প্রতারণা ও সন্ত্রাসী কার্যক্রম বেড়েই চলেছে

ঝালকাঠি আজকাল

প্রকাশিত: ২২ সেপ্টেম্বর ২০২১  

রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে প্রতিদিন কোনো না কোনো অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে। বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ, সন্ত্রাসী কার্যক্রম, মানবপাচার, ইয়াবা ব্যবসা, নিজেদের মধ্যে হানাহানি, ডাকাতি, অপহরণ কাজে রোহিঙ্গাদের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যাচ্ছে।

আজ মঙ্গলবার (২১ সেপ্টেম্বর) কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার কুতুপালং রেজিস্টার্ড রোহিঙ্গা ক্যাম্পর ই-ব্লকে অভিযান চালিয়ে বেশ কিছু অস্ত্রসহ রোহিঙ্গা আ. শুক্কুরকে (৪৭) আটক করেছে যৌথ বাহিনী।

আ. শুক্কুর রেজিস্টার্ড রোহিঙ্গা ক্যাম্পর ই-ব্লকে ৫ নম্বর রুমের মো. সিদ্দিকের ছেলে।

জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ৬৩ ই বেঙ্গলের ক্যাপ্টেন সাইফ উদ্দিনের নেতৃত্বে যৌথ বাহিনীর টহলদল রেজিস্টার্ড রোহিঙ্গা ক্যাম্পর ই-ব্লকে অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে অভিযুক্ত আ. শুক্কুর আটক করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে এক দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র, তিন রাউন্ড তাজা অ্যামোনিশন ও একটি চায়নার তৈরি ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।  

একইদিন কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডে নির্বাচনী ফলাফল ঘোষণার পর সংঘটিত সহিংসতায় জড়িত থাকায় এক রোহিঙ্গাসহ দুইজনকে আটক করেছে পুলিশ। 

আটককৃতরা হলো- নয়াপাড়া আর্মি ক্যাম্পের আওতাধীন ২৭ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের (জাদিমুড়া) এ/৮ ব্লকের আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে মো. আবু বক্কর (১৬) ও টেকনাফের রংগীখালীর জাদিমুড়া গ্রামের মো. জহিরের ছেলে বাঙালি জোবায়ের ইকবাল (২৫)।

জানা যায়, ২০ সেপ্টেম্বর হ্নীলা ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য (মেম্বার) প্রার্থী মোহাম্মদ আলীকে (টিউবওয়েল মার্কা) সাত ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। তখন নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ইউপি সদস্য প্রার্থী মোহাম্মদ হাসান আব্দুল্লাহ (টর্চলাইট মার্কা) ঘোষণাকৃত ফলাফল না মেনে দ্বিতীয়বার ভোট গণনার জন্য আবেদন করেন। নির্বাচন কর্তৃপক্ষ আবেদনটি প্রত্যাখ্যান করলে মোহাম্মদ হাসানের সমর্থকরা দুই থেকে তিনটি গাড়ি ভাঙচুর ও চার রাউন্ড ফাকা গুলি করে। সেই ঘটনায় মো. আবু বক্কর ও জোবায়ের ইকবাল জড়িত।  আটককৃতদের বিরুদ্ধে আইনি কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

আজ মঙ্গলবার (২১ সেপ্টেম্বর) কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার পালংখালী ইউপির ১৮ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের নাজিয়াতুল উলাম মাদরাসায় হামলা চালিয়েছে জঙ্গিগোষ্ঠী আরসার ৪০ সদস্য। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তাৎক্ষণিক তৎপরতায় বড় ঘটনা থেকে রেহাই পায় মাদরাসাটি।

জানা যায়, ২০ সেপ্টেম্বর রাতে ১৮ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সি ব্লকে ১৩, ১৮ ও ১৯ রোহিঙ্গা ক্যাম্পের মাস্টার, হাফেজ ও রোহিঙ্গা যুবকদের নিয়ে গোপন বৈঠক করে আরসার জিম্মাদার হাফেজ মাহবুব ও তার সহযোগীরা। বৈঠকে উপস্থিতদের উদ্দেশ্যে হাফেজ মাহবুব বলেন, ‘আপনাদের মায়ানমারে তসকিলে যেতেই হবে। কেউ যেতে না চাইলে তাকে প্রাণে মেরে ফেলা হবে। আর যেকোনো মূল্যেই ১৮ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের এইচ ব্লকে অবস্থিত নাজিয়াতুল উলাম মাদরাসা আমরা ভেঙে দেবই। আমাদের মতের বিরোধীদের ক্যাম্পে কোনো ঠাঁই নাই।’ সেই বৈঠকের ধারাবাহিকতায় আজ মঙ্গলবার মাদরাসায় হামলা চালালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তা প্রতিহত করলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

এর আগে, সোমবার কক্সবাজারের উখিয়ার বালুখালিতে ১০ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন ধরনের অনুমোদনহীন ২৭ বস্তা ওষুধ উদ্ধার করেছে ৮ এপিবিএন পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত রোহিঙ্গা সৈয়দ হোসেনকে (৪২) আটক করা যায়নি। 

রোহিঙ্গা সৈয়দ হোসেন ১০ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের জি/১৬ ব্লকের নেজাম উদ্দিনের ছেলে।  

জানা যায়, চিকিৎসা জ্ঞান ছাড়া রোহিঙ্গা সৈয়দ হোসেন রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সাধারণ রোহিঙ্গাদের চিকিৎসা করে আসছে। সে অন্যান্য রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অনুমোদনহীন ওষুধের পাইকারি ব্যবসা শুরু করে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রোহিঙ্গা ক্যাম্প-১০ এর সহকারী সিআইসি হরি চরণের নেতৃত্বে পানবাজারস্থ ৮ এপিবিএন পুলিশের সহযোগিতায় জি/১৬ ব্লকে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় অনুমোদনহীন ২৭ বস্তা বিভিন্ন ধরনের ওষুধ উদ্ধার করা হয়।

তারও আগে, রোববার (১৯ সেপ্টেম্বর) ভারতের তিলকনগর থেকে দালালের মাধ্যমে পরিবারের চার সদস্যসহ মো. আলী (৪৫) নামের রোহিঙ্গা অবৈধভাবে বাংলাদেশে ঢুকেছে। মো. আলী রাখাইনের আকিয়াব জেলার বুচিডং থানার জব্বার পাড়ার মৃত আ. গণির ছেলে। 

জানা যায়, দালালের মাধ্যমে রোহিঙ্গা মো. আলী তার পরিবারের চার সদস্যসহ ভারতের তিলকনগর থেকে সাতক্ষীরা সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশ করে। বর্তমানে রোহিঙ্গা আলী ও তার পরিবারের সদস্যরা কক্সবাজার জেলার উখিয়া উপজেলার ১৩ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের (তানজিমারখোলা) জি/১৩ ব্লকের বাসিন্দা মৃত এজহার হোসেনের ছেলে রোহিঙ্গা নুরুল আমিনের (৪২) ঘরে অবস্থান করছে।

ঝালকাঠি আজকাল