• বুধবার ২৪ এপ্রিল ২০২৪ ||

  • বৈশাখ ১০ ১৪৩১

  • || ১৪ শাওয়াল ১৪৪৫

ঝালকাঠি আজকাল

ইলম অর্জন না করার ক্ষতি কী?

ঝালকাঠি আজকাল

প্রকাশিত: ৬ জানুয়ারি ২০২২  

মানুষের ইলম শেখার গুরুত্ব অনেক বেশি। ইলম ছাড়া যেমন সঠিকভাবে আমল করা যায় না। আবার দুনিয়ার জীবনে ভালো-মন্দ বুঝতেও ইলমের গুরুত্ব অপরিসীম। এ কারণেই ইলম শেখাকে ফরজ করা হয়েছে। হাদিসে পাকে প্রিয় নবি ঘোষণা দিয়েছেন, ‘ইলম তালাশ করা প্রত্যেক নারী-পুরুষের জন্য আবশ্যক’। কিন্তু মুমিন মুসলমানের জন্য ইলম না শেখার ক্ষতি অনেক বড়। তা কী?

ইসলামের প্রতিটি অংশের সঙ্গে ইলম শেখা খুবই জরুরি। ইলম শেখা ছাড়া যথাযথভাবে ইসলাম পালন সম্ভব নয়। ইলম শেখা ছাড়া মানুষের ব্যক্তিজীবন, পারিবারিক জীবন, সামাজিক জীবন, রাষ্ট্রীয় জীবন তথা কোনো ক্ষেত্রেই সত্যিকার অর্থে ইসলাম পালন সম্ভব নয়। এ কারণেই হজরত ওমর ইবনে আব্দুল আজিজ রাহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেছেন-

من عمل على غير علم كان ما يفسد أكثر مما يصلح

‘যে ব্যক্তি ইলম (শেখা) ছাড়া আমল করবে, সে সঠিকভাবে যতটুকু করবে - না করবে; বরবাদ করবে তার চেয়ে বেশি।’ (তারিখে তাবারি)

ইলম না শেখার সেরা ক্ষতি

ইলম না থাকলে আল্লাহকে ভয় করার গুণ থেকেও বঞ্চিত হতে হয়। অথচ আল্লাহকে ভয় করা মানুষের জন্য সেরা ইবাদত। ইলম না থাকলে আল্লাহকে ভয় করার মতো গুরুত্বপূর্ণ গুণ থেকে বঞ্চিত হয় মানুষ। আর আল্লাহর ভয়ই হলো নেক কাজ করার তাওফিক অর্জন করা। যার অন্তরে আল্লাহর ভয় আছে কোরআন তাদের জন্য পথপ্রদর্শক। ইলম শেখার কল্যাণেই আল্লাহ তাআলা বান্দার অন্তরে আল্লাহ ভয় উপলব্ধি করার তাওফিক দান করনে।

ইলম শেখার উপকারিতা

ইলম না শেখার ক্ষতি বুঝাতে ইমাম রাজি রাহমাতুল্লাহি আলাইহি ইলম শেখার ৫টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরেছেন। যা মানুষকে ইলম শেখার প্রতি প্রচণ্ড আগ্রহী করে তোলে। আর তাহলো-

১. আসমান থেকে যেভাবে বৃষ্টি বর্ষিত হয় ঠিক সেভাবে ইলমও আসমান থেকে দান করা হয়।

২. বৃষ্টি হওয়ার ফলে যেভাবে ফসল ফলানোর জন্য জমিন তৈরি হয়, ঠিক তেমনি ইলম অর্জন করার কারণে মানুষের মনে মানবিক সব গুণাবলী অর্জন হয়।

৩. আসমান থেকে বৃষ্টিবর্ষণ ছাড়া যেমন জমিনে ভালো ফসল উৎপন্ন হয় না, ঠিক ইলম ছাড়াও মানুষ আল্লাহ তাআলা ইবাদাত-বন্দেগি করতে সক্ষম হয় না।

৪. আসমানের বজ্র ধ্বনি বা বিদ্যুৎ চমকানোর ফলে যেভাবে বৃষ্টি হয় তেমনি ভাবে জান্নাতের আশা এবং জাহান্নামের ভয় মানুষকে ইলম শেখায় আগ্রহী করে তোলে।

৫. বৃষ্টি যেমন মানুষের জন্য অনেক সময় উপকারী হয় আবার কখনো অপকারী হয়, ঠিক ইলম সঠিকভাবে শেখার ফলে তা যেমন মানুষের জন্য উপকারী হয়। আবার সঠিক ইলম  না শেখা বা সে অনুযায়ী আমল না করার কারণে তা অপকারীও হয়।’ (তাফসিরে কবির)

ইলম অর্জনকারীর মর্যাদা

এ কারণেই রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইলম শেখা ব্যক্তির জন্য মর্যাদা ও ফজিলত ঘোষণা করেছেন এভাবে-

‘যে জাহান্নামের শাস্তি থেকে নাজাত লাভকারী মানুষ দেখতে চায়, সে যেন আল্লাহ তাআলার দ্বীনের ইলম অন্বেষণকারীদের দিকে দৃষ্টিপাত করে।’ তিনি হলফ করে বলেন-

১. কোনো আলেমের দরজায় যখন কোনো জ্ঞান অন্বেষণকারী জ্ঞানার্জনের জন্য যায়, তখন তার প্রত্যেক পদক্ষেপের বিনিময় একবছরের ইবাদাতের সওয়াব লেখা হয়।

২. জান্নাতে তার জন্য একটি শহর তৈরি করা হয়।

৩. সে যখন জমিনে বিচরণ করে, তখন জমিন তার জন্যে আল্লাহ তাআলার কাছে ক্ষমাপ্রার্থনা করে এবং তার উপর সকাল-সন্ধ্যা হয় এমন অবস্থায় যে, আল্লাহ তাকে ক্ষমা করেন। ফেরেশতারা সাক্ষ্য প্রদান করেন যে, তারা দোযখ থেকে নাজাত হাসিলকারী।

সুতরাং যারা ইলম শেখা থেকে বিরত থাকে, তারা উল্লেখিত উপকারিতাগুলো থেকে বঞ্চিত হয়। বিশেষ করে তারা আল্লাহর ভয় থেকেও দূরে থাকে।

সুতরাং মানুষের উচিত, যথাযথভাবে সঠিক ইলম শেখা। কোরআনের ইলম শেখার মাধ্যমে দুনিয়া ও পরকালের কল্যাণে নিজের জীবন সাজানো।

আল্লাহ তাআলা উম্মাতে মুসলিমাকে ধর্মীয়জ্ঞানসহ সব ধরনের ইলম শেখার তাওফিক দান করুন। দুনিয়ার কল্যাণে জ্ঞান অর্জন করে দুনিয়া ও পরকালের সফলতা লাভ করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

 

ঝালকাঠি আজকাল