• শনিবার ২৫ মে ২০২৪ ||

  • জ্যৈষ্ঠ ১০ ১৪৩১

  • || ১৬ জ্বিলকদ ১৪৪৫

ঝালকাঠি আজকাল

ভূমিহীন-গৃহহীন মুক্ত ঘোষণার অপেক্ষায় ঝালকাঠির নলছিটি ও রাজাপুর উপজেলা

ঝালকাঠি আজকাল

প্রকাশিত: ২২ মার্চ ২০২৩  

‘একজন মানুষও গৃহহীন থাকবে না’ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এমন প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হতে যাচ্ছে ঝালকাঠিতে। একই সাথে হতে চলেছে ভূমিহীন ও গৃহহীন মানুষদের স্বপ্নপূরণ। ২২ মার্চ মুজিববর্ষ উপলক্ষে আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের আওতায় জেলার সদর, নলছিটি এবং রাজাপুর উপজেলায় বিতরণ করা হবে দুই শতক জমিসহ ৪২৩ টি ঘর। এর মধ্য দিয়ে নলছিটি এবং রাজাপুরকে ঘোষণা করা হবে ভূমিহীন ও গৃহহীন মুক্ত উপজেলা। এর আগে গত বছরের ২১ জুলাই কাঠালিয়াকে ভূমিহীন ও গৃহহীন মুক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। এ নিয়ে জেলার চার উপজেলার মধ্যে তিনটিই  ভূমিহীন ও গৃহহীন মুক্ত হতে চলেছে। এদিকে ঘর পেয়ে উচ্ছসিত উপকারভোগীরা।

মুজিববর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা বাস্তবায়নে গ্রামবাংলার প্রান্তিক ভূমিহীন-গৃহহীন পরিবারকে দুই শতাংশ করে খাসজমিসহ ঘর প্রদান করা হচ্ছে। আশ্রয়ণের বাসিন্দাদের সুপেয় খাবার পানি ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের ব্যবস্থাসহ সম্ভাব্য সব সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যে আশ্রয়ণ প্রকল্পের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সারা দেশে ভূমিহীন-গৃহহীন ছিন্নমূল মানুষকে অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের আওতায় এনেছেন।
আশ্রয়ণ প্রকল্পে ঘর পেয়ে সুবিধাভোগীদের মুখে ফুটেছে হাসি। তারা বলছে কিছুদিন আগেও তাদের ছিলনা একখন্ড ভূমি, ছিলনা মাথা গোঁজার কোন ঠাই। প্রধানমন্ত্রীর উপহার পেয়ে আজ তাদের নিজেদের একটা ঠিকানা হয়েছে। যেটি তাদের জীবনসংগ্রাম এগিয়ে নিতে জীয়নকাঁঠির মতো কাজ করছে।

আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের আওতায় ঝালকাঠিতে ২১০১ টি পরিবারকে ভূমিহীন ও গৃহহীন তালিকাভুক্ত করে প্রশাসন। পূনর্বাসনের জন্য এরই মধ্যে চার পর্যায়ে সবগুলো পরিবারের জন্য ঘরও বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে ১৯১৬টির। প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় পর্যায়ে নির্মিত হওয়া এক হাজার ৬২৬টি ঘর থেকে ১৪৯৩ টি ঘর বিতরণ সম্পন হয়েছে। আগামী ২২ মার্চ তৃতীয় ও চতুর্থ পর্যায়ে নির্মিত হওয়া ঘরের মধ্যে ৪২৩ টি ঘর বিতরণের মধ্য দিয়ে জেলার নলছিটি ও রাজাপুর উপজেলা ভূমিহীন ও গৃহহীন মুক্ত ঘোষণা করবেন প্রধানমন্ত্রী। বাকী ১৮৫টি নির্মাণ কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে।
জেলা প্রশাসক জানিয়েছেন, উপকারভোগীদের ভূমি ও ঘর দেয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন প্রশিক্ষন দেয়া হচ্ছে যাতে তারা স্বাবলম্বী হতে পারে।
জেলা প্রশাসক ফারাহ্ গুল নিঝুম বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গৃহীত মুজিব শতবর্ষে এই আশ্রয়ণ প্রকল্প সমাজের একেবারে প্রান্তিক পর্যায়ের হতদরিদ্রদের মাথাপিছু আয় বৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছে। তাদের স্বাস্থ্য, গড়আয়ু, শিক্ষা, আয় প্রত্যেকটি ক্ষেত্রে একটি ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে।

১৪ দলের সমন্বায়ক ও মুখপাত্র আমির হোসেন আমু এমপি বলেছেন,‘একটি সুখি সমৃদ্ধশালী আত্মমর্যদাশীল জাতি হিসেবে পৃথিবীর বুকে প্রতিষ্ঠা লাভ করবে বাঙ্গালী জাতি’ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের এ স্বপ্ন আজ বস্তবায়িত হতে যাচ্ছে, বলেছেন ১৪ দলের সমন্বায়ক ও মুখপাত্র আমির হোসেন আমু এমপি।

বিশ্বের অনেক দেশ যখন মাথা গোঁজার ঠাঁই নিশ্চিত করার কথা ভাবতে পারেনা, সেখানে আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের আওতায় ভূমিহীন-গৃহহীন পরিবার দুই শতাংশ জমি ও তার উপর একটি সেমি পাকাঘর পাচ্ছে। এই উদ্যোগ যেমন মানবিক, তেমনি সংবিধানের মৌলিক অধিকার নিশ্চিতের অঙ্গীকার বাস্তবায়নের পদক্ষেপ। আশ্রয়ণ প্রকল্পে আশ্রয়প্রাপ্ত পরিবার অনিরাপদ জীবন-যাপন করত, ঝড়-বৃষ্টি, প্রাকৃতিক দুর্যোগ সহ সামাজিক নিরাপত্তাহীনতায় যখন আত্মমর্যাদা হারাতে বসেছিল; তখন এ প্রকল্প তাদের স্বপ্ন দেখায় উন্নত জীবনের। তারা উন্নয়নের মূল¯্রােতে ফিরে মানসম্মত জীবন-যাপনের মাধ্যমে আত্মমর্যাদাশীল নাগরিকে পরিণত হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে।

 

ঝালকাঠি আজকাল