• বুধবার   ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ||

  • মাঘ ২৫ ১৪২৯

  • || ১৬ রজব ১৪৪৪

ঝালকাঠি আজকাল

ঢাবিতে গবেষণাপত্রে চৌর্যবৃত্তি করলে শাস্তি

ঝালকাঠি আজকাল

প্রকাশিত: ২৪ জানুয়ারি ২০২৩  

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) গবেষণাপত্রে চৌর্যবৃত্তি ঠেকাতে বেশ কিছু উদ্যোগ হাতে নিয়েছে। এর মধ্যে প্লেজারিজম চেক করতে বাংলা সফটওয়্যার dubd21 (ডিইউবিডিটোয়েন্টিওয়ান) নামে একটি সফটওয়্যার উদ্ভাবন করা হয়েছে, যা গত বছরের ২ আগস্ট উদ্বোধন করা হয়। এবার চৌর্যবৃত্তি ঠেকাতে শাস্তির বিধান রেখে ‘দ্য রুলস ফর দ্য প্রিভেনশন অব প্লেজারিজম’ শীর্ষক নীতিমালা তৈরি করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

সোমবার (২৩ জানুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলের সভায় প্রাথমিকভাবে এ সংক্রান্ত নীতিমালা নিয়ে প্রাথমিকভাবে সবাই সম্মতি জ্ঞাপন করেছে। তবে কেউ কেউ কিছু বিষয়ে সংযোজনের কথা বলেছেন। শাস্তির বিধান রেখে এসব নীতিমালা গৃহীত হওয়ায় আরও সম্মৃদ্ধ করা যায় কিনা, সেজন্য আরও দু’সপ্তাহ সময় দেওয়া হয়েছে নীতিমালা প্রণয়নকারী কমিটিকে। কারও পরামর্শ থাকলে সেটি জানাতে বলা হয়েছে, সবার মতামত আলোকে পরামর্শ গ্রহণ হতে পারে।

কতটুকু চুরির জন্য কতটুকু শাস্তি

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রস্তাবিত নীতিমালায় ২০ শতাংশ পর্যন্ত কোনও শাস্তি রাখা হয়নি। ২০ শতাংশের ওপর থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত অপরাধ ‘লেভেল-১’ হিসেবে গণ্য হবে। এর প্রমাণ মিললে সংশ্লিষ্ট ডিগ্রি বা ক্রেডিট ছয় মাসের জন্য স্থগিত করে ওই সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট পাণ্ডুলিপি সংশোধনের সুযোগ দেওয়া হতে পারে। এক্ষেত্রে দায়ী ব্যক্তিকে থিসিস সংশোধনের সুযোগ সাপেক্ষে নির্দিষ্ট পরিমাণ জরিমানা করা হবে। অন্যথায়, সংশ্লিষ্ট ডিগ্রি বা কোর্স বাতিল বা প্রত্যাহারের বিধান রাখা হয়েছে।

গবেষণায় ‘লেভেল-২’-এর আওতায় পড়বে ৪০-এর ওপর থেকে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত। এক্ষেত্রে দায়ী ব্যক্তি আর্থিক জরিমানা সাপেক্ষে নকলকৃত পাণ্ডুলিপি সংশোধনের জন্য সর্বোচ্চ দেড় বছর পর্যন্ত সময় পাবেন। ওই সময়ে সংশ্লিষ্ট ডিগ্রি বা ক্রেডিট স্থগিত থাকবে। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংশোধনে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট ডিগ্রি বা কোর্সটি বাতিল হয়ে যাবে। লেভেল-২ এ দায়ী ব্যক্তি যদি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনও শিক্ষক, কর্মকর্তা কিংবা গবেষক হন এবং তিনি যদি নকলকৃত ডিগ্রির ভিত্তিতে নিয়োগ, পদোন্নতি বা অন্য কোনও আর্থিক সুবিধা পেয়ে থাকেন, তাহলে সংশ্লিষ্ট সময়ে পাওয়া সমুদয় অর্থ অনতিবিলম্বে কোষাগারে ফেরত নেওয়া হবে। এছাড়া সংশ্লিষ্ট ডিগ্রি বাতিলের পাশাপাশি এক ধাপ পদাবনতি ও চার বছরের জন্য পদোন্নতি বন্ধের শাস্তির মুখে পড়বেন দায়ী ব্যক্তি।

৬১ শতাংশের ওপরে সামঞ্জস্যকে উচ্চ ধাপ বা লেভেল-৩ তে রাখা হয়েছে। এই মাত্রার সামঞ্জস্যের প্রমাণ মিললে সংশ্লিষ্ট ডিগ্রি বা কোর্স দুই বছরের জন্য স্থগিত করা হতে পারে। দায়ী ব্যক্তি ওই সময়ের মধ্যে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা সাপেক্ষে পাণ্ডুলিপি সংশোধনের সুযোগ পাবেন। এতেও ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট ডিগ্রিটি বাতিল ও কোর্স অনুত্তীর্ণ (এফ গ্রেড) হিসেবে গণ্য হবে। কোনও অভিযুক্ত লেভেল-৩ পর্যায়ের অপরাধের পুনরাবৃত্তি ঘটালে, তার চাকরিচ্যুতির বিধান রাখা হয়েছে। আবার সব পর্যায়ের প্লেজারিজমের ক্ষেত্রেই সংশ্লিষ্ট প্রকাশনা প্রত্যাহারের বিধান রাখা হয়েছে। এমনকি অভিযুক্তের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ডিগ্রি বা কোর্সের সুপারভাইজার, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব জার্নালের ক্ষেত্রে এডিটোরিয়াল বোর্ডের সদস্যদের বিরুদ্ধেও বিভিন্ন ধরনের ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে নীতিমালায়।

উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল বলেন, ‘এ সব নীতিমালা সংক্রান্ত প্রাথমিকভাবে আলোচনা হয়েছে। আলোচনা শেষে আরও দুই সপ্তাহের সময় দেওয়া হয়েছে। যদি কারও কোও পরামর্শ থাকে সেগুলো যুক্ত করা হবে। যেহেতু একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতিমালা, যার মধ্যে পেনাল্টি আরোপ করা আছে। সুতরাং, পরামর্শের ভিত্তিতে যৌক্তিক পরামর্শগুলো নিয়ে বিষয়টাকে আরও সমৃদ্ধ করা যায় কিনা আমরা সেটি দেখবো। ইন প্রিন্সিপাল এসব নীতিমালার বিষয়ে সবার সর্বসম্মতি আছে। তবে কোথাও কোথাও কারও কিছু পরামর্শ আছে, সেগুলো সংযোজন বা বিয়োজন করা যায় কিনা, আমরা দেখবো।’

ঝালকাঠি আজকাল