• সোমবার ২৪ জুন ২০২৪ ||

  • আষাঢ় ১০ ১৪৩১

  • || ১৬ জ্বিলহজ্জ ১৪৪৫

ঝালকাঠি আজকাল

পাইকারিতে কিছুটা কমেছে ভোজ্যতেল, চিনি ও ছোলার দাম

ঝালকাঠি আজকাল

প্রকাশিত: ২২ জানুয়ারি ২০২৪  

আন্তর্জাতিক বাজারে বুকিং রেট কমায় দেশের বাজারে ভোজ্যতেল, চিনি এবং ছোলার মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্যের দাম কিছুটা কমেছে। তবে কয়েক মাস ধরে লাগামহীনভাবে বাড়লেও দাম কমার হার নামমাত্র। এর মধ্যে সয়াবিন তেলের দাম লিটারে কমেছে ৩ টাকা, চিনি ২ টাকা এবং ছোলা কমেছে ৫ টাকা।

ছোলা
দেশের সবচেয়ে বড় পাইকারি বাজার চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জে সরেজমিন তথ্য বলছে, ট্রাকে করে ছোলা এনে বস্তায় ভরে গুদামে রাখা হচ্ছে। কারণ, সীমিত কিছু ভোগ্যপণ্য আমদানির ক্ষেত্রে এলসি (ঋণপত্র) খোলার বিধিনিষেধ সরকার শিথিল করেছে। এতে শিল্পগ্রুপগুলো এখন ব্যাপক হারে ছোলা আমদানি করছে। বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ার প্রতি টন ছোলার বুকিং রেট ৭২০ ডলার এবং ভারতের ৭৭০ মার্কিন ডলার।
 
বাজারে ছোলার জোগান বাড়ায় এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতিকেজিতে দাম কমেছে অন্তত ৫ টাকা। গত সপ্তাহে এ বাজারে প্রতিকেজি ভালো মানের ছোলার দাম ছিল ৯৭ টাকা এবং সাধারণ মানের দাম ছিল ৮৫ টাকা, যা বর্তমানে কমে নেমেছে যথাক্রমে ৯২ টাকা এবং ৮০ টাকায়।

 

ছোলার দাম কমার বিষয়ে চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জের মেসার্স তৈয়বীয় ট্রেডার্সের পরিচালক সোলায়মান বাদশা বলেন,
রমজানে গত বছরের মতো এবারও ভারত থেকে ছোলা আসবে। তাই আশা করি, বাজার স্থিতিশীল থাকবে। তবে বাজারে কোনো প্রকার কারসাজি করা হলে দাম বাড়তে পারে।

ভোজ্যতেল
বিশ্ববাজারে বর্তমানে প্রতি মেট্রিক টন ভোজ্যতেলের বুকিং রেট এক হাজার মার্কিন ডলারের কম। এর মধ্যে প্রতি মেট্রিক টন সয়াবিনের বুকিং রেট ৯৫০ ডলার এবং পাম তেলের ৯১০ ডলার। যা গত সপ্তাহে ছিল যথাক্রমে ১ হাজার ৫০ মার্কিন ডলার ও ৮৬০ মার্কিন ডলার।  

 

তাই দেশের বাজারে সয়াবিন তেলের দাম কমছে। তবে বাড়ার ক্ষেত্রে রকেট গতি থাকলেও কমার ক্ষেত্রে গতি কচ্ছপের মতো। গত দুই সপ্তাহে মণপ্রতি সয়াবিন তেলের দাম কমেছে মাত্র ১০০ টাকা। বর্তমানে প্রতি মণ সয়াবিন তেলের দাম ৫ হাজার ৯০০ টাকা। যা গত সপ্তাহে ছিল ৬ হাজার টাকা। অথচ সাড়ে চার হাজার টাকার সয়াবিন দুই বছরে সাত হাজারে পৌঁছে। আবার পাম তেলের দাম কিছুটা বেড়ে গেছে। গত সপ্তাহে প্রতি মণ পাম তেলের দাম ছিল ৪ হাজার ৭৫০ টাকা। যা বর্তমানে কিছুটা বেড়ে ঠেকেছে ৪ হাজার ৮২০ টাকা।
 
চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জের মেসার্স সবুজ কমার্শিয়ালের মালিক শাহেদ উল আলম বলেন, রমজানে যদি আমদানিকারকরা বিপুল পরিমাণ আমদানি করে থাকে, তাহলে আমরা আশা করি বাজারে নিত্যপণ্যের দাম ক্রমান্বয়ে কম থাকবে।
 
চিনি
৭০ টাকার প্রতিকেজি চিনি ১৪০ টাকা হতে সময় লেগেছিল মাত্র দেড় বছর। ১০০ টাকা থেকে ৪০ টাকা বাড়তে সময় লেগেছিল মাত্র ৬ মাস। কিন্তু এখন কমছে চিনির দাম। তবে তা যেভাবে বেড়েছে তার তুলনায় একেবারে নগণ্য। গত এক সপ্তাহে কেজিতে নামমাত্র ২ টাকা কমে এখন চিনি ১৩৩ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
 
অথচ বিশ্ববাজারে চিনির বুকিং রেট প্রতিদিনই কমছে। তবে ভারত থেকে চোরাই পথে চিনি আসায় সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীরা দাম কমাতে বাধ্য হচ্ছেন বলে জানা গেছে।
 
চিনির বাজার দর নিয়ে চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জের মেসার্স আর এন এন্টারপ্রাইজের মাহমুদুল হক লিটন বলেন, ডলার সংকট সত্ত্বেও যদি এলসি পর্যাপ্ত পরিমাণ খুলতে দেয়া হয়, তাহলে রমজানের মধ্যে চিনির সংকট হবে না। বাজারেও দাম অব্যাহতভাবে কমবে।
 
ডলার সংকট
এদিকে পাইকারি ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, বড় শিল্পগ্রুপগুলো ভোগ্যপণ্য আমদানির ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলো থেকে বিশেষ সুবিধা পেলেও সাধারণ ব্যবসায়ীরা তা পাচ্ছেন না। এমনকি এলসি খোলার ক্ষেত্রে ডলারের দামেরও তারতম্য হচ্ছে। ১১০ থেকে ১২২ টাকা পর্যন্ত ওঠানামা করছে এলসি খোলার ডলার রেট।

 

ডলারের দর নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ ছগির আহমেদ বলেন,
ব্যাংক একটি এলসি খুললে আরেকটি খুলতে দিচ্ছে না। এ সমস্যা যদি সমাধান না করা হয়, তাহলে রমজানে অনেক ভোগ্যপণ্যের সমস্যা থেকে যাবে।

 

প্রতিদিন এক হাজার কোটি টাকার বেশি ভোগ্যপণ্য বিক্রি হচ্ছে চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জে। আন্তর্জাতিক বাজারে এ মুহূর্তে সব ধরনের ভোগ্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশের বাজারে সেভাবে দাম কমছে না। এ ক্ষেত্রে দায়ী করা হচ্ছে ডলারের দর ওঠানামাকে। আসন্ন রমজানে নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে হলে আগে ডলারের দাম নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে, এমনটাই বলছেন ব্যবসায়ীরা।

ঝালকাঠি আজকাল