• সোমবার ১৫ জুলাই ২০২৪ ||

  • আষাঢ় ৩০ ১৪৩১

  • || ০৭ মুহররম ১৪৪৬

ঝালকাঠি আজকাল

পায়রার পাশেই আরএনপিএল তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র॥ উৎপাদনে আসছে সেপ্টম্বরে

ঝালকাঠি আজকাল

প্রকাশিত: ৬ জুলাই ২০২৪  

বৈশ্বিক নানা সংকটের মধ্যেও নির্ধারিত সময়ের আগেই শেষ হয়েছে ৯৩ শতাংশ কাজ। আমদানীকৃত কয়লায় চলছে পরীক্ষামুলক উৎপাদন। ব্যাকফিড পাওয়ার পেলে সেপ্টেম্বরেই আসবে বানিজ্যিক উৎপাদনে। আল্ট্রাসুপার ক্রিটিক্যাল পদ্ধতির পরিবেশ বান্ধব পটুয়াখালী ১৩২০ মেঘাওয়াট কয়লা ভিত্তিক তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র উৎপাদনে আসলে দেশের ক্রমবর্ধমান বিদ্যুৎ চাহিদার ঘাটতি পুরনের পাশাপাশি লোডশেডিং নিরসনে রাখবে বড় ভূমিকা। এমন প্রত্যাশায় উৎপাদন সময়সীমাকে সামনে দিনরাতে সমান তালে এগিয়ে চলছে কেন্দ্রটির নির্মান কাজ।

২০১৯ সালের ৩১ আগষ্ট চীনের রাষ্ট্রয়ত্ব প্রতিষ্ঠান নোরিনকো ইন্টারন্যাশনাল পাওয়ার কোম্পানী লিমিটেড এবং বাংলাদেশের রাষ্ট্রয়ত্ব প্রতিষ্ঠান রুরাল পাওয়ার কোম্পানী লিমিটেড(আরএনপিএল) যৌথ বিনিয়োগে এ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের নির্মান কাজ শুরু করে। গঠন করা আরএনপিএল নামে একটি যৌথ কোম্পানী। জেলার ধানখালী ইউনিয়নের লোন্দা গ্রামে ৯১৫ একর জমির উপর ২৭ হাজার কোটি টাকা ব্যয় ধরে এর নির্মান কাজ শুরু করা হয়। ৪ হাজার দেশী ও দেড় হাজার চাইনিজ শ্রমিকের দিনরাত নিরলস শ্রমে ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে টারবাইন, চুল্লি, কোলস্টোর, স্টিল স্টাকচার, বয়লার ও জেনারেটর বসানোর কাজ। জাতীয় গ্রীডে বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য কেন্দ্রের নিজস্ব অর্থায়নে ২০ কিলোমিটার সঞ্চালন লাইন, ৪’শ কেভি ডাবল সার্কিট সঞ্চালনসহ আমতলী উপজেলায় একটি সুইচিং স্টেশন তৈরী করা হয়েছে।

রামনাবাদ নদীর কোলঘেঁষে পায়রা সমুদ্র বন্দর ও পায়রা ১৩২০ মেঘাওয়াট তাপবিদুৎকেন্দ্রের পাশেই নির্মীয়মাণ পটুয়াখালী ১৩২০ মেগাওয়াট তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রটি ইন্দোনেশিয়া ও অস্ট্রেলিয়া থেকে আমদানি করা কয়লায় চালবে।

৬৬০ মেগাওয়াটের দুটি ইউনিট চালাতে প্রতিদিন প্রয়োজন ১২ হাজার মেট্রিক টন কয়লা। বছরে লাগবে ৪০ লাখ মেট্রিক টন কয়লা। পায়রা বন্দর দিয়ে নিজেদের জেটিতে সরাসরি আমদানীকৃত কয়লা পরিবেশ সম্মতভাবে খালাস এবং প্রক্রিয়াজাতকরণ হবে। দুই’শ বিশ মিটার উচু চিমনি দিয়ে কয়েক ধাপে ফিল্টারিং হয়ে বের হবে ধোয়া। মিশে বাতাসের সাথে। ফলে পরিবেশের ভারসম্য নষ্ট হওয়ার শঙ্কা নেই।

পটুয়াখালী ১৩২০ মেগাওয়াট তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্বাহী প্রকৌশলী (মেকানিক্যাল) শওকত ওসমান বলেন, শেষ পর্যায়ের রয়েছে টেস্টিং ও কমিশনিংয়ের কাজ। বয়লারে ফায়ারিংয়ের মাধ্যমে পরীক্ষামুলকভাবে চলছে উৎপাদন।

পটুয়াখালী ১৩২০ মেগাওয়াট তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্বাহী প্রকৌশলী (তড়িৎ) আসিফ মাহামুদ বলেন, জুলাই মাসে ব্যাকফিড পাওয়ার পেলে সেপ্টেম্বরে প্রথম ইউনিট থেকে ৬৬০ মেগাওয়াট ও ডিসেম্বরে দ্বিতীয় ইউনিট থেকে আরও ৬৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রীডে সংযুক্ত হবে। 

পটুয়াখালী ১৩২০ মেগাওয়াট তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো.আশরাফ উদ্দিন বলেন, কেন্দ্রটি চালু হলে দেশের ক্রমবর্ধমান বিদ্যুতের চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

ঝালকাঠি আজকাল