• সোমবার   ১৫ আগস্ট ২০২২ ||

  • শ্রাবণ ৩০ ১৪২৯

  • || ১৬ মুহররম ১৪৪৪

ঝালকাঠি আজকাল

দীর্ঘদিন ত্রুটিপূর্ণ ইঞ্জিনেই চলছিল লঞ্চটি, জানলেও নেয়নি ব্যবস্থা

ঝালকাঠি আজকাল

প্রকাশিত: ৩০ ডিসেম্বর ২০২১  

দীর্ঘদিন ধরে ত্রুটিপূর্ণ ইঞ্জিনেই চলতো লঞ্চ এমভি অভিযান-১০। সবশেষ ঝালকাঠিতে সুগন্ধা নদীর অগ্নিকাণ্ড ঘটে লঞ্চটিতে। পুড়েছে অসংখ্য প্রাণ। নিখোঁজ হয়েছেন আরও অনেকে। এমন মর্মান্তিক ঘটনার দায়ভার নেবে কে? প্রশ্ন এখন জনমনে। অগ্নিকাণ্ডের চারমাস আগেও বেপরোয়া গতি নিয়ে চলায় দুর্ঘটনার সম্মুখীন হয় লঞ্চটি। সেসময়ে যাত্রীরা বারবার অভিযোগ করলেও আমলে নেননি বরগুনার বিআইডব্লিউটিএ’র নৌবন্দর কর্মকর্তারা ।

ইঞ্জিনের ত্রুটি নিয়েই দিব্যি চলাচল করতো লঞ্চটি। জেনেশুনে কর্মকর্তারা ছিলেন নীরব। যার ফলস্বরূপ, এতো প্রাণহানি। ত্রুটির কথা খোদ স্বীকার করেন বন্দর কর্মকর্তা মামুনের। এজন্য তিনি দায়ী করেন, নৌপরিবহন অধিদপ্তরকে। দাবি তোলেন, কর্তৃপক্ষ সার্ভে দেওয়ায় লঞ্চটি চলাচল করার অনুমতি পায়।

বরগুনা বিআইডব্লিউটি এর বন্দর কর্মকর্তা মামুন অর-রশিদ বলেন, ‘অনেক আগে থেকেই এই লঞ্চটার ইঞ্জিনে সমস্যা হচ্ছিল। নৌপরিবহন অধিদপ্তর বিষয়টি জানত। এই লঞ্চটি ত্রুটিপূর্ণ থাকলে কেন তারা সার্ভে দিল? সার্ভে দেওয়ার কারণেই লঞ্চটি রুট পারমিট পেয়েছে।’

একেতো যান্ত্রিক ত্রুটি তার ওপর বেপরোয়া গতিতে চলতো অভিযান-১০। এতে অগ্নিকাণ্ডের প্রায় চার মাস আগেও দুর্ঘটনায় পড়ে লঞ্চটি। গত ১২ আগস্ট বেপরোয়া গতির কারণে বিষখালী নদীর চরে কাত হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয় লঞ্চটির। সেসময়েও টনক নড়েনি কর্তৃপক্ষের। এজন্য কর্তৃপক্ষের অবহেলা আর গাফিলতিকেই দুষছেন সচেতন নাগরিক মহল ও স্থানীয়রা।

বরগুনা সচেতন নাগরিক কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট আনিসুর রহমান বলেন, লঞ্চটি দুর্ঘটনার দিন স্বাভাবিক গতিতে চলে নাই, অনেক দ্রুত গতিতে চলছে এবং লঞ্চটি কাঁপছে। আর এর আগে লঞ্চটি একবার দুর্ঘটনার সম্মুখীন হয়েছিল। সেসময় যদি কর্তৃপক্ষ যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করত তাহলে হয়তো আমাদের এই লাশের বোঝা বয়ে বেড়াতে হতো না।

তবে, লঞ্চ দুর্ঘটনায় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য (বরগুনা-১) অ্যাডভোকেট ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু। তিনি বলেন, অবহেলা এবং তাদের গাফিলতি এবং তাদের ব্যর্থতার কারণে ঘটনাটি ঘটে। এ ব্যাপারে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এমভি অভিযান-১০ এ আগুনে এখন পর্যন্ত বরগুনার ৩৮ জন মারা গেছেন।

ঝালকাঠি আজকাল