• বুধবার   ২২ সেপ্টেম্বর ২০২১ ||

  • আশ্বিন ৭ ১৪২৮

  • || ১৩ সফর ১৪৪৩

ঝালকাঠি আজকাল

টিটোর সর্বাত্মক সমর্থন ঘোষণা

ঝালকাঠি আজকাল

প্রকাশিত: ২৯ জুলাই ২০২১  

প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যুগোস্লাভিয়ায় প্রেসিডেন্ট মার্শাল টিটোর সঙ্গে শীর্ষ বৈঠক সমাপ্ত করেছেন। এদিন (২৯ জুলাই) বঙ্গবন্ধু ব্রিওলি ত্যাগ করেন। সেসময় প্রেসিডেন্ট টিটো বঙ্গবন্ধুকে আন্তরিক বিদায় সংবর্ধনা জানান। দ্বীপে ২৪ ঘণ্টা অবস্থানকালে বঙ্গবন্ধু প্রেসিডেন্ট  টিটোর সঙ্গে রাতে এক শীর্ষ বৈঠকে মিলিত হন এবং দুই বিশ্বনেতার মাঝে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে, বিশেষ করে উপমহাদেশ ও মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা  হয়। প্রেসিডেন্ট মার্শাল টিটো বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নৈশভোজে নিমন্ত্রণ করেন। বঙ্গবন্ধুর সম্মানে প্রদত্ত অনুষ্ঠানের ভাষণে তিনি যেসব দেশ বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়নি, সেই সব দেশকে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের বাস্তবতা মেনে নেওয়া এবং  অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান।

প্রেসিডেন্ট টিটো সাম্প্রতিক জোট নিরপেক্ষ সম্মেলনে বাংলাদেশের যোগদান এবং জাতিসংঘে বাংলাদেশের ন্যায়সঙ্গত আসন লাভের বিষয়-সহ সব আন্তর্জাতিক বিষয়ে বাংলাদেশকে তার সর্বাত্মক সমর্থন দেওয়ার কথা ঘোষণা করেন। বাংলাদেশের জাতীয় পুনর্গঠনে যুগোস্লাভিয়া সহযোগিতা প্রদানের কথাও ঘোষণা করেন। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাঁর ভাষণে আশা প্রকাশ করেন, যুগোস্লাভিয়ার অব্যাহত সমর্থন এবং অন্যান্য দেশের সহযোগিতায় পাকিস্তানে জোর করে আটকে রাখা বাঙালিরা ঘরে ফিরতে পারবে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে বাংলাদেশের পক্ষে সমর্থন দেওয়ায়  সরকার ও জনগণের পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন বঙ্গবন্ধু। তিনি বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের দিনগুলোতে তিনি যখন পাকিস্তানের বন্দিশালায় ছিলেন, তখন তাঁর প্রাণ রক্ষার জন্য যুগোস্লাভিয়া হস্তক্ষেপ করেছিল। বঙ্গবন্ধু বলেন, ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের দিনে প্রেসিডেন্ট টিটো এবং যুগোস্লাভিয়ার জনগণ সমর্থন দিয়েছেন, বাংলাদেশের মানুষ কোনোদিন তা ভুলবে না।’ বাংলাদেশ আর যুগোস্লাভিয়া —এ দুটি দেশের মধ্যে সাদৃশ্য রয়েছে, তার উল্লেখ করে বঙ্গবন্ধুর বলেন, বাংলাদেশ ও যুগোস্লাভিয়ার মধ্যে বন্ধুত্বের সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে।’

 দৈনিক ইত্তেফাক, ৩০ জুলাই ১৯৭৩

মার্শাল টিটো প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের গতিশীল নেতৃত্বের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা প্রকাশ করেন এবং বাংলাদেশের জনগণের জন্য বঙ্গবন্ধুর অপরিসীম ত্যাগের কথা উল্লেখ করেন। বাংলাদেশের জনগণের ঐতিহাসিক বীরত্ব-সংগ্রামের তিনি প্রশংসা করেন।স তিনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশের পুনর্গঠনে তাদের সমর্থন ও সহযোগিতা দেওয়ার কথাও ঘোষণা করেন। বাংলাদেশকে তার দেশের কারিগরি ও অর্থনৈতিক সাহায্য দানের কথাও জানান তিনি।

ভারত-পাকিস্তান আলোচনার মেয়াদ বাড়লো

ভারত ও পাকিস্তানের প্রতিনিধিদল সরকারি পর্যায়ে এ দিন  দীর্ঘ বৈঠকে মিলিত হয়। বৈঠক শেষে আভাস পাওয়া যায় যে, আরও বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। আড়াই ঘণ্টা বৈঠক শেষে ভারতীয় প্রতিনিধি দলের নেতা পি এন হাকসার বলেন, ‘আমি এখনও আশাবাদী, যত দিন আমাদের প্রয়োজন হবে, তত দিন আমরা এখানে অবস্থান করবো।’ পাকিস্তানি বেতার জানায়, আরও আলোচনার সম্ভাবনা আছে। তবে তার জন্য কোনও সময়সীমা নির্দিষ্ট করা হয়নি। এদিন বৈঠকের পর এমন একটা জল্পনা সৃষ্টি হয়েছে যে, একটা ফর্মুলার ব্যাপারে দুই প্রতিনিধিদলেরই তাদের সরকারের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করার প্রয়োজন আছে।

 ডেইলি অবজারভার, ৩০ জুলাই ১৯৭৩

এর আগে রাওয়ালপিন্ডি থেকে ইউএনআই-এর খবরে বলা হয়, ভারত ও পাকিস্তানের প্রতিনিধিদল ১১ দফা আলোচনা বৈঠকে মিলিত হয়। কতিপয় প্রশ্নে পাকিস্তানের অনমনীয় মনোভাবের দরুন আলোচনার ভবিষ্যৎ এখনও অনিশ্চিত। কয়েকদফা বৈঠকের পর জানা গেছে যে, আরও এক দফা বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। তবে সেটা কখন অনুষ্ঠিত হবে তা নির্দিষ্ট হয়নি। ভারতীয় প্রতিনিধি দলের নেতারা বৈঠক থেকে হোটেলে ফিরে এসে সাংবাদিকদের প্রশ্ন এড়িয়ে যান। তবে আভাস দেন যে, আলোচনায় অগ্রগতি হয়েছে। এক প্রশ্নের জবাবে পিএন হাসকার বলেন, তিনি সব সময় আশা নিয়েই বেঁচে আছেন। আলোচনায় অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে কিনা, জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, আশা কি অচল অবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ!

গত দুদিন থেকে পর্যবেক্ষকদের ধারণা হচ্ছে, আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। তবে সমাধান থেকে কতদূর রয়েছে সে সম্পর্কে আভাস পাওয়া যায়নি। রাওয়ালপিন্ডি থেকে এপি’র খবরে বলা হয় যে, আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে গিয়েছে এবং ভারতীয় প্রতিনিধি দল তাদের নয়াদিল্লিতে যাত্রা পিছিয়েছে। ভারতীয় প্রতিনিধি দল নয়াদিল্লি এবং যুগোস্লাভিয়ায় সফররত বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলেছেন। বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনে অসুবিধার কারণে আলোচনার পদ্ধতি এমন হচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যুদ্ধবন্দিদের প্রস্তাবিত বিচার স্থগিত রাখা এবং ভারত ১৯৫ জন যুদ্ধাপরাধীর বিচারের জন্য বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর করবে না, পাকিস্তান সেই প্রতিশ্রুতি আদায়ে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ বলে মনে হয়।

ঝালকাঠি আজকাল