• মঙ্গলবার ২৩ এপ্রিল ২০২৪ ||

  • বৈশাখ ৯ ১৪৩১

  • || ১৩ শাওয়াল ১৪৪৫

ঝালকাঠি আজকাল
ব্রেকিং:
দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বাংলাদেশ সর্বদা প্রস্তুত : প্রধানমন্ত্রী দেশীয় খেলাকে সমান সুযোগ দিন: প্রধানমন্ত্রী খেলাধুলার মধ্য দিয়ে আমরা দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারি বঙ্গবন্ধুর আদর্শ নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে হবে: রাষ্ট্রপতি শারীরিক ও মানসিক বিকাশে খেলাধুলা গুরুত্বপূর্ণ: প্রধানমন্ত্রী বিএনপির বিরুদ্ধে কোনো রাজনৈতিক মামলা নেই: প্রধানমন্ত্রী স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে পশুপালন ও মাংস প্রক্রিয়াকরণের তাগিদ জাতির পিতা বেঁচে থাকলে বহু আগেই বাংলাদেশ আরও উন্নত হতো মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার প্রতি নজর রাখার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রী আজ প্রাণিসম্পদ সেবা সপ্তাহ উদ্বোধন করবেন

ষড়যন্ত্র তো ছিল, আছে: দুর্ভিক্ষ সৃষ্টির শঙ্কার বিষয়ে শেখ হাসিনা

ঝালকাঠি আজকাল

প্রকাশিত: ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৪  

বাংলাদেশে কৃত্রিম দুর্ভিক্ষ সৃষ্টির শঙ্কার কথা আগেই জানিয়ে দেশবাসীকে সতর্ক হতে বলেছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। চলতি বছরের মার্চে দেশে কৃত্রিম দুর্ভিক্ষ সৃষ্টি করার শঙ্কা আছে কিনা–এ সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, ষড়যন্ত্র তো ছিল, ষড়যন্ত্র তো আছে।

শুক্রবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টায় গণভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। জার্মানের মিউনিখে অনুষ্ঠিত ‘মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনে’ অংশ নেওয়ার বিষয়ে দেশবাসীকে জানাতে এ সংবাদ সম্মেলন করেন তিনি।

চলতি বছরের মার্চে দেশে কৃত্রিম দুর্ভিক্ষ সৃষ্টির শঙ্কার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি আসার পর থেকে আমাকে বারবার বাধা দেওয়া, ক্ষমতায় যেন না যেতে পারি। পঁচাত্তরে জাতির পিতাকে হত্যার কথাই ধরুন, শিশু রাসেলকেও তো ছাড়েনি। কেন, যাতে ওই রক্তের কেউ যেন বাংলাদেশের ক্ষমতায় আসতে না পারে। আমি এবং ছোট বোন বিদেশে থাকায় বেঁচে গেছি। তারপর ফিরে এসে দায়িত্ব নিয়েছি। আমার চেষ্টাই হচ্ছে, যে স্বপ্ন নিয়ে জাতির পিতা দেশ স্বাধীন করেছেন, সেই স্বপ্ন পূরণ করা। সেক্ষেত্রে ষড়যন্ত্র প্রত্যেকবারই হচ্ছে। বারবার মানুষের ভোটের অধিকার আমরাই আন্দোলনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত করেছি, গণতান্ত্রিক ধারা ফিরিয়ে এনেছি। যার সুফল দেশবাসী পাচ্ছে।’

23-02-24-PM Press Conference-4সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা (ছবি: ফোকাস বাংলা)

তিনি বলেন, ‘নির্বাচন যাতে না হয়, সে জন্য বিরাট চক্রান্ত ছিল—সেটি আপনারা জানেন। ২৮ অক্টোবরের ঘটনাটা একবার চিন্তা করেন। ২০১৩, ১৪, ১৫ সালের সেই অগ্নিসন্ত্রাস। তারপর আবার গত বছরের ২৮ অক্টোবর…। এগুলো হঠাৎ করে করা, তা নয়—পরিকল্পিত। যারা এই ধরনের নির্বাচন বানচালের পক্ষে তারা যখন দেখলো, নির্বাচন কিছুতেই আটকাতে পারবে না, কারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ততা আছে, তখন চক্রান্ত হলো যে জিনিসের দাম বাড়বে। তারপর সরকার জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হবে। তখন আন্দোলন করে সরকারকে উৎখাত করবে। এটি তাদের পরিকল্পনার একটা অংশ। কাদের সেটা আপনারা ভালো বোঝেন। আমি আর কারও নাম বলতে চাই না, বলার দরকারও নেই আমার। কিন্তু এই চক্রান্তটা আছে।’

সরকারপ্রধান বলেন, ‘তবে আমি বলতে পারি। এই যে দেখেন, কালকে বৃষ্টি হলো! কথায়ই তো আছে—‘যদি বর্ষে মাঘের শেষ, ধন্যি রাজার পুণ্য দেশ’। এই যে মাঘের শেষেও বৃষ্টি হলো, ফাল্গুনের শুরুতেই বৃষ্টি। আমের মুকুল তরতাজা হয়ে উঠছে। ক্ষেতে ধানের চারা রোপণ, সেখানেও সেচের প্রয়োজন হবে না। ভালো বৃষ্টি হলে ফসল ভালো হবে। খাদ্যপণ্য উৎপাদনে কোনও অসুবিধা হবে না।’

করোনাকাল, বিশ্বব্যাপী স্যাংশন, পণ্য পরিবহনে বাধাগ্রস্ত হওয়ার সময় থেকেই নিজেদের খাদ্য নিজেদের উৎপাদনের তাগিদ দেওয়ার কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘তখন থেকেই নিজেদের খাদ্য নিজেরা উৎপাদন করতে হবে বলে যাচ্ছি। এক ইঞ্চি জমিও যেন অনাবাদি না থাকে। সেটি বলা না, কার্যকরও করেছি। আমাদের পরিবারের যত জমি ছিল সেগুলোর সঙ্গে আশপাশের সব জমি পরিষ্কার করা এবং সেগুলোতে চাষ করা আমরা শুরু করে দিয়েছি। নিচু জমিতে মাছ আর উঁচু জমিতে ধান চাষ করতে বলেছি। যার যত জমি আছে, সে হিসেবে ভাগ পাবে। ফলে এবার কম করে হলেও ১০-১৫ হাজার টাকা করে একেকজন পেলো।’

23-02-24-PM Press Conference-1প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা (ছবি: ফোকাস বাংলা)

একসময় অভাব বলতে পেটে ভাত নেই শোনা যেত– মন্তব্য করে শেখ হাসিনা বলেন, এখন কী সেই কথাটা বলে? বলে না। কী বলে? ডিমের দাম, পেঁয়াজের দাম, গরুর মাংসের দাম অথবা পাঙাশ মাছের পেটি খেতে পারছে না—এই তো! এটা কি একটা পরিবর্তন না? ১৫ বছরে এই পরিবর্তনটা তো এসেছে, সেটা তো স্বীকার করবেন। ১৫ বছর আগে কী ছিল? ভাতের জন্য হাহাকার ছিল। একটু নুন ভাত। ভাতের ফেন চেতো। এখন তো তা চায় না।

ডিম লুকিয়ে রেখে দাম বাড়ানোর ঘটনায় সরকার উৎখাতের আন্দোলন করে, তাদের কারসাজি আছে—সেটি মনে হয় না? এমন প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, এর আগে এই রকম পেঁয়াজের খুব অভাব। দেখা গেলো, বস্তায় বস্তায় পচা পেঁয়াজ পানিতে ফেলে দিচ্ছে। এই লোকগুলোকে কী করা উচিত? সেটা আপনারাই বলেন। একটা গণধোলাই দেওয়া উচিত। সরকার কিছু করতে গেলে বলবে সরকার করছে। তার থেকে পাবলিক কিছু করলে, প্রতিকার করলে, সব থেকে ভালো। কেউ কিছু বলতে পারবে না। জিনিস লুকিয়ে রেখে পচিয়ে ফেলে দেবে, আর জিনিসের দাম বাড়বে! পেঁয়াজ আমাদের যথেষ্ট উৎপাদন হচ্ছে। সেটা আমরাই শুরু করেছি। পেঁয়াজের বীজ উৎপাদন আমরা শুরু করেছি। কোন কোন এলাকায় পেঁয়াজ হয়, সেগুলো আমরা খুঁজে বের করেছি। কাজ করে যাচ্ছি। আগামীতে বাইরে থেকে আনতে হবে না। তবে আমদানির কথাটা বলতে হয় এই কারণে যে এত পেঁয়াজ আসছে নিউজ হলে যারা লুকিয়ে রাখে তারা তাড়াতাড়ি বের করে। বাজারে তার একটা প্রভাব আছে। সে জন্য দাম সামঞ্জস্য হয়। এটা বাস্তবতা, খুব খোলামেলা কথা বলছি। লুকানোর কিছু নেই।

ঝালকাঠি আজকাল