• শনিবার ২৫ মে ২০২৪ ||

  • জ্যৈষ্ঠ ১০ ১৪৩১

  • || ১৬ জ্বিলকদ ১৪৪৫

ঝালকাঠি আজকাল

মহাসড়কটি বদলে দিয়েছে মানুষের জীবনমান

ঝালকাঠি আজকাল

প্রকাশিত: ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৩  

ঝালকাঠি প্রতিনিধি: ঝালকাঠিতে ১৪০ কোটি টাকা ব্যায়ে জেলার গুরুত্তপূর্ন আঞ্চলিক মহাসড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন এনে গ্রামীণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষে বরিশাল-ঝালকাঠি-রাজাপুর-ভান্ডারিয়া আঞ্চলিক মহাসড়কের উন্নয়ন কাজ সম্পন্ন হয়েছে। সড়ক ও জনপদ অধিদপ্তরের ঝালকাঠি সড়ক বিভাগের আওতায় এ মহাসড়কের ৩৯ কিলোমিটার রাস্তার উন্নয়ন কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ায় এ অঞ্চলের মানুষের জীবনে এসেছে আমুল পরিবর্তন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বপ্ন ‘গ্রাম হবে শহর’ বাস্তবে রূপ দিতে এ আঞ্চলিক মহাসড়কটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

ঝালকাঠি জেলা সড়ক ও জনপদ অধিদপ্তরের বরিশাল-ঝালকাঠি থেকে রাজাপুর হয়ে ভান্ডারিয়ার যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতির লক্ষে ৩৯ কিলোমিটার আঞ্চলিক মহাসড়কের উন্নয়ন কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। এই প্রকল্পটি শুরু হয়েছিল ২০১৮ সালে এবং সমাপ্ত হয়েছে ২০২১ সালের জুন মাসে। ৩টি প্যাকেজে মোট ১৪০ কোটি টাকা ব্যায়ে সম্পন্ন করা এ আঞ্চলিক মহাসড়কটি ২০২২ সালে উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পূর্বে এই রাস্তার প্রস্থ ছিল ১৮ ফুট যা বর্তমানে ২৪ ফুটে প্রশস্ত করা হয়েছে। এই প্রকল্পের আওতায় ৩৯ কিলোমিটার রাস্তাটি পুনঃনির্মাণ ছাড়াও ১টি বেলি সেতু প্রতিস্থাপন করে নতুন কংক্রিটের সেতু নির্মাণ করা হয়েছে।

সম্পূর্নরূপে উন্নয়ন কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর সড়কটি চালু হওয়ায় বরিশাল-ঝালকাঠি-রাজাপুর ও ভান্ডারিয়ার জনগণের জীবনে ব্যাপক ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। ঝালকাঠি, রাজাপুর ও ভান্ডারিয়ার মানুষ এখন এই সড়কটি ব্যবহার করে খুব সহজেই যাতায়াত করতে পারছে। এ আঞ্চলিক মহাসড়কটি ব্যবহার করে পদ্মা সেতু হয়ে খুবই অল্প সময়ের মধ্যে এ অঞ্চলের মানুষ ঢাকা ও খুলনাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যেতে পারছে। এ প্রকল্পটির কাজ সম্পন্ন হওয়ায় আনন্দ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী। তারা বলছেন, এই সড়কটি তাদের যোগাযোগ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বাণিজ্যসহ আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে ব্যাপক ভূমিকা রাখছে। যার ফলে পাল্টে যাচ্ছে পুরো এলাকার চিত্র।

এলাকার যুবক মোঃ ছবির হোসেন বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পরে ঝালকাঠি জেলায় অনেক উন্নয়ন হয়েছে। বড় বড় ভবন, রাস্তা ঘাট ও সড়ক নির্মাণ করেছে। যার ফলে আমাদের সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নতি হয়েছে।এ সড়ক হওয়াতে মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। সড়কে গাড়ি চলাচল বেড়েছে এবং সড়কের জন্য অনেক দোকান পাট হয়েছে। এতে অনেকের ব্যবসা করে এখন পরিবার নিয়ে ভালো আছেন।
এসড়ক নতুন করে নির্মাণ হওয়াতে এঅঞ্চলের কৃষকের ব্যাপক উপকার হয়েছে। কৃষকের উৎপাদিত ফসল এখন জেলা চাহিদা মিটিয়ে ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় যাচ্ছে। খরচ কম ও দ্রুত সময়ে কৃষি পণ্য পাঠাতে পেরে লাভবান হচ্ছে কৃষকরা।  

বরিশাল-খুলনা মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ অংশ এই আঞ্চলিক মহাসড়কটি উন্নয়নের ফলে বরিশাল থেকে ঝালকাঠি হয়ে ভান্ডারিয়া পর্যন্ত চালু হয়েছে বাস সার্ভিস। এছাড়াও এ সড়কটি ব্যবহার করে এ অঞ্চলের জনগণ ভান্ডারিয়া হয়ে অল্প সময়ে মঠবাড়িয়া, পাথরঘাটা ও কাঠালিয়া খুব সহজেই যাতায়াত করতে পারছে।

ঝালকাঠি সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শেখ নাবিল হোসেন জানান, বরিশাল, ঝালকাঠি, রাজাপুর ও ভান্ডারিয়ার মধ্যে যোগাযোগ নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে এ আঞ্চলিক মহাসড়কটি গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখছে। এই অঞ্চলের মানুষ এখন কৃষিপণ্য, মৎস্যজাত পণ্যসহ সকল বাণিজ্যিক পণ্য এই পথে খুব সহজেই পরিবহন করছে পারছে।

আওয়ামী লীগ ও আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকার বরাবরই গ্রামকে উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির কেন্দ্রীয় দর্শন হিসেবে বিবেচনা করে আসছে। নগর ও গ্রামের বৈষম্য দূর করে ‘আমার গ্রাম আমার শহর’ কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠায় এ আঞ্চলিক মহাসড়কটি বিশেষ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন ঝালকাঠি জেলার বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ।

 

ঝালকাঠি আজকাল