• রোববার   ০২ অক্টোবর ২০২২ ||

  • আশ্বিন ১৬ ১৪২৯

  • || ০৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

ঝালকাঠি আজকাল

পদ্মা সেতুর সুবাতাস বইছে ঝালকাঠির ভাসমান পেয়ারা হাটে: পর্যটকদের ভিড়

ঝালকাঠি আজকাল

প্রকাশিত: ৩০ জুলাই ২০২২  

জহিরুল ইসলাম জলিল: 
‘ঝালকাঠির পেয়ারা’ ঐতিহ্যের বাহক। স্বাদে-গন্ধে অতুলনীয় সুস্বাদু এই পেয়ারা সু-খ্যাতি রয়েছে দেশ ও বিদেশে। পদ্মা সেতু হওয়ায় সকালে পাড়া পেয়ারা সারাদেশের সরবরাহ হচ্ছে বিকেলের মধ্যে। ফলে টাটকা পেয়ারা খেতে পারছেন সবাই। পেয়ারাকে ঘিরে স্থানীয় ভীমরুলী গ্রামের চারটি খালের মোহনায় গড়ে উঠেছে ভাসমান বৃহত্তর পেয়ারা বাজার। পদ্মা সেতু উদ্বোনের পর গতি বেড়েছে ভাসমান হাটের।  পদ্মা সেতু সুবাতাস বইছে, প্রতিদিন শতশত পর্যটক আসছে পেয়ারা বাগান ও ভাসমান বাজার দেখতে। পর্যটকরাও ঘুরে যেতে পারেন দিনের মধ্যেই। কৃষিবিভাগ বলছে এ যেন নতুন দিগন্ত। সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং পদ্মা সেতু হওয়া দ্রুততম সময়ে মধ্যে ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে বিক্রির জন্য নেওয়া যাচ্ছে পেয়ারা। ফলে ভাল দাম পেয়ে খুশী এখানকার  চাষিরা।  

বাংলাদেশের ফ্লোটিং মার্কেট ঝালকাঠি সদর উপজেলার কীর্ত্তিপাশা ভীমরুলি গ্রামের ভাসমান পেয়ারা হাট জমে উঠেছে। সদর কিত্তীপাশা, শতাদশকাঠি ও ভিমরুলিসহ ১০টি গ্রামের বিস্তৃত এলাকা জুড়ে রয়েছে  দেশের তথা এশিয়া মহাদেশের বৃহত্তম পেয়ারা বাগান। এখন পেয়ারার ভরা মৌসুম। কৃষকরা ব্যস্ত বাগান থেকে কচকচে কাঁচা ও পাকা পেয়ারার তুলে বাজারজাত করার কাজে। এক সময় ফেরিতে আটকে থেকে পেয়ারাসহ কাঁচামাল পঁচে যেত। কিন্তু এখন আর সেই শঙ্কা নেই। পদ্মাসেতু উদ্বোনের পর পাল্টে গেছে সেই চিত্র। এখন সকালে পাড়া ঝালকাঠির পেয়ারা ঢাকাসহ দেশের মানুষ বিকেলেই খেতে পারছেন। ফলে টাটকা পেয়ারার স্বাদ পেতে আর কোন বাঁধা নেই। ঝালকাঠির ভীমরুলি গ্রামের ভাসমান পেয়ারা বাজারে তাই ছন্দ বেড়েছে। 

এখন মৌসুমের শুরুতেই দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ফড়িয়ারা (পাইকার) এসে ভিড় করতে শুরু করেছেন। প্রতিদিন ছোট ছোট ট্রাকে করে দেশের বিভিন্ন স্থানে যাচ্ছে ঝালকাঠির ভাসমান বাজারের পেয়ারা। নদী পথেও ট্রলারযোগে পেয়ারা চলে যাচ্ছে বিভিন্ন মোকামে। এদিকে মৌসুমের শুরুতেই ঝালকাঠির ভাসমান পেয়ারা বাজারের অপরূপ দৃশ্য উপভোগ করতে অসংখ্য পর্যটক ভীড় জমাতে শুরু করেছেন। পদ্মা সেতুর বদৌলাতে সহজ হয়েছে পেয়ারা বাজারের ভ্রমণ।

কৃষকরা জানান,সংরক্ষণে ব্যবস্থা না থাকায় পেয়ারা চাষী পেয়ারার ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত। তাই চাষীরা বাধ্য হয়ে পাইকারদের কাছে পেয়ারা বিক্রি করছেন। বড় বড় শহরে এ পেয়ারার কেজি ৪০ থেকে ৫০ টাকা হলেও এখানে তা বিক্রি হচ্ছে মাত্র ১০ থেকে ১২ টাকা কেজি। বর্তমানে প্রতি মন পেয়ারা ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা বিক্রয় করতে হয়। 

শত বছরের বেশি সময় ধরে নারী পুরুষ শতভাগ পরিবার পেয়ারা চাষের সাথে সম্পৃক্ত। ভীমরুলী খালে পেয়ারার সবচেয়ে বড় ভাসমান হাট বসেছে। শ্রাবণ মাসের প্রথম থেকে ভাদ্রমাস পর্যন্ত পেয়ারার মৌসুম। এসময় প্রতিদিনই এখানে পেয়ারা বিক্রি হয়। তবে অন্য দিনের তুলনায় শুক্রবার কেনা বেচা বেশি হয়।  
স্থানীয়রা বলছেন, এ মৌসুমে প্রায় ১০ কোটি টাকার পেয়ারা বিক্রি হবে এখান থেকে।  

পেয়ারা চাষি ভবেন্দ নাথ হালদার বলেন,‘দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের প্রাণের দাবি পদ্মা সেতু চালু হওয়ায় এখানকার উৎপাদিত পেয়ারা,সবজি দ্রুত সময়ের মধ্যে ঢাকাসহ অন্যান্য স্থানে নিয়ে যাওয়া যাচ্ছে। সকালে বাগান থেকে তোলা টাটকা পেয়ারা বিকেলে ঢাকায় মানুষ পাচ্ছে। তাই এবছর দাম ভালো পাওয়া যাচ্ছে। পদ্মা সেতু উদ্বোধন হওয়ায় এ অঞ্চলের চাষিদের ভাগ্য খুলেছে তাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানাই।
পেয়ারা চাষী রিপন হালদার বলেন, এবছর আমাদের পেয়ারা খুব ভালো ফলন হয়েছে। পাইকার পেয়ারা নিকে নিচ্ছেন। পদ্মা সেতু জন্য আরো বেশি পাইকার আসবে আমাদের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটবে আশা করি।  

পর্যটক ব্যারিস্টার সুমাইয়া সোহেন অতিথি বলেন, আমি প্রথম বার এখানে ফ্লোটিং মার্কেট ভাসমান পেয়ারা হাটে দেখতে আসছি। এতো সুন্দর একটি ভাসমান পেয়ারা হাটে দেখে আমি মুগ্ধ হয়েছি। যা শুনেছি নিজের চোখে দিখে তার চেয়েওবেশি সুন্দর দেখেছি। বর্তমান সরকার যে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নত করেছে,পদ্মা সেতু হয়েছে। এখন এটি বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী পর্যটন কেন্দ্র হবে।

উপ-পরিচালক কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কৃষিবিদ মোঃ মনিরুল ইসলাম বলেন, ঝালকাঠিতে এ বছর ৬২৯ হেক্টার জমিতে পেয়ারা চাষ হয়েছে। মৌসুম জুড়ে মোট ফলন হবে ৬ হাজার মেট্রিকটন। যা কৃষক পর্যায় ১০ কোটি টাকায় বিক্রি হবে। গত দুই বছরের ক্ষতি পুষিয়ে এ বছর পেয়ারায় কৃষক লাভবান হবে বলে কৃষি বিভাগ আশা করছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে এবছর কৃষকদের বিভিন্ন রকমের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।  

জুলাই ও আগস্ট এই দুই মাস জুড়ে বরিশাল বিভাগের তিন জেলায় পেয়ারার ভাসমান বাজার বসে। এরমধ্যে ঝালকাঠি সদরের ভীমরুলির প্রাামের ভাসমান বাজারটি সহজ যোগাযোগ ও সৌন্দর্য্যের কারণে সবার পছন্দ।
 

ঝালকাঠি আজকাল