• সোমবার ১৫ জুলাই ২০২৪ ||

  • আষাঢ় ৩০ ১৪৩১

  • || ০৭ মুহররম ১৪৪৬

ঝালকাঠি আজকাল

ঝালকাঠিতে ঘূর্ণিঝড় রেমালের তান্ডবে কৃষি ও মৎস্যর ব্যাপক ক্ষতি

ঝালকাঠি আজকাল

প্রকাশিত: ৩ জুন ২০২৪  

ঝালকাঠি প্রতিনিধি: ঝালকাঠিতে ঘূর্ণিঝড়  রেমালের  জলোচ্ছ্বাসে ৬ হাজার ১৯০ হেক্টর জমির কৃষি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভেসে গেছে ২৫১ হেক্টর জমির ২ হাজার ৭০টি পুকুর ও ১৫৯টি মাছের ঘের। এতে প্রায় শত কোটি টাকার ক্ষতি ক্ষতির আশঙ্ক করছেন কৃষক ও মৎস্য চাষীরা। এ ক্ষতি সহযেই পুষিয়ে ওঠা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন তাঁরা। তাই এখন দুশ্চিন্তায় ভুগছেন ভুক্তভোগীরা।

ঝালকাঠি জেলায় এ বছর আউশ বীজতলা ৫৮০ হেক্টর, রোপিত আউশ ৬ হাজার ৭৩০ হেক্টর, আখ ২১৫ হেক্টর, চিনা বাদাম ২০ হেক্টর, মরিচ ১০ হেক্টর, গ্রীস্মকালীন শাক-সবজি ২ হাজার ৩২৫ হেক্টর, পেঁপেঁ ১৪৫ হেক্টর, কলা ৩৭০ হেক্টর, পান ৩২০ হেক্টর ও তিল ৮০ হেক্টর জমিতে চাষাবাদ করেছিলেন কৃষক। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফলনও ভালো হয়েছিল। এতে লাভের আশায় বুক বেঁধে ছিলেন চাষীরা। কিন্তু তাদের সে স্বপ্ন বেশি দিন টিকেনি। ঘূর্ণিঝড় রিমালের তান্ডবে জলোচ্ছ্বাসে সব ফসই এখন পানির নিচে তলিয়ে আছে।

এর মধ্যে ৬ হাজার ১৯০ হেক্টর জমির ফসল ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে কৃষি বিভাগ জানিয়েছে। পানি না কমলে ফসলহানির আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। এতে দুশ্চিন্তায় তাদের কপালে ভাজ পড়েছে। লাভের মুখতো দূরের কথা, ক্ষতি পুষিয়ে ওঠাই সম্ভব নয় বলে দাবি তাদের। এদিকে জলোচ্ছ্বাসে জেলার অধিকাংশ মাছের ঘের ও ছোট বড় কুপুর তলিয়ে গেছে। এতে বাণিজ্যিকভাবে চাষাবাদ করা কয়েক কোটি টাকার বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ভেসে গেছে বলে দাবি করেছেন মৎস্য চাষীরা। সরকারের সহযোগিতা ছাড়া তাঁরা কোনভাবেই ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন না বলে জানিয়েছেন।

কৃষিবিদ মো. মনিরুল ইসলাম জলোচ্ছ্বাসে ক্ষতির কথা স্বীকার করে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বলছে, পানি দ্রুততম সময়ের মধ্যে না কমলে কৃষকের দুর্ভোগ বাড়বে। তবে আশার কথা হচ্ছে বোরো ধান আগেভাগে কেটে ফেলায় কোন ক্ষতি হয়নি বলে জানিয়েছেন এই কর্মকর্তা।
ঝালকাঠি জেলায় ঘূর্ণিঝড় রিমালের তান্ডব সুপার সাইক্লোন সিডরকেও হার মানিয়েছে। ঝড়-জলোচ্ছ্বাসে একজন নিহত ও এক লাখ ৩৮ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষগ্রস্ত হয়েছেন কৃষক ও মৎস্য চাষীরা। তাঁরা এ ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে সরকারের সহযোগিতা কামনা করেছেন।

ঝালকাঠি আজকাল