• বুধবার   ১৪ এপ্রিল ২০২১ ||

  • বৈশাখ ১ ১৪২৮

  • || ০১ রমজান ১৪৪২

ঝালকাঠি আজকাল
ব্রেকিং:
শান্তিরক্ষীদের উপযুক্ত প্রশিক্ষণের বিকল্প নেই : প্রধানমন্ত্রী বিশ্বে শান্তি নিশ্চিত করাটাই চ্যালেঞ্জ: প্রধানমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ স্বীকৃতি পাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যাবর্তন জলবায়ু কূটনীতিতে নতুন গতির সঞ্চার হবে প্রিন্স ফিলিপের মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শোক স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ সরকার গঠিত হয় একাত্তরের ১০ এপ্রিল ডি-৮ সদস্য দেশগুলোর মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্য বাড়াতে হবে:প্রধানমন্ত্রী করোনার ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে ডি-৮ এর প্রতি প্রধানমন্ত্রী আহ্বান আজ বৈঠকে বসছেন ডি-৮ শীর্ষ নেতারা মানুষ বাঁচাতে আরও কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

সংসদের প্রথম অধিবেশনে বঙ্গবন্ধুর অঙ্গীকার

ঝালকাঠি আজকাল

প্রকাশিত: ৭ এপ্রিল ২০২১  

প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৩ সালের এই দিনে জাতীয় সংসদে ভাষণ দেওয়ার সময় জাতিকে এই আশ্বাস দেন যে, গোপন রাজনৈতিক হত্যার অপরাধে অপরাধী দুষ্কৃতকারীদের খুঁজে বের করতে এবং তাদের সমূলে উৎখাত করতে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। তিনি ঘোষণা করেন, জনগণের সক্রিয় সহযোগিতায় সরকার অপরাধীদের খুঁজে বের করবে এবং সমাজ থেকে গুপ্তহত্যাকারীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। আততায়ীর গুলিতে নিহত সাবেক গণপরিষদ সদস্য শওকত আলম ও সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত আব্দুর রবের স্মৃতির প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে বঙ্গবন্ধু এ কথা ঘোষণা করেন। তিনি আততায়ীর গুলিতে নিহত শহীদদের জন্য গভীর শোক প্রকাশ করেন। গোপন হত্যা কিংবা সন্ত্রাস সৃষ্টি—এ দুটির কোনোটিই দেশের জন্য কোনও কল্যাণ সাধন করতে পারে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘যারা গোপন হত্যার আশ্রয় নিয়েছে, তারা গুণ্ডা শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত।’

প্রধানমন্ত্রী শোক প্রস্তাবের ওপর ভাষণদানকালে কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘এ পর্যন্ত আওয়ামী লীগের প্রায় ১৩২ জন গুপ্তহত্যার শিকার হয়েছেন। রাজনৈতিক কর্মীদের গুপ্তহত্যার মাধ্যমে কোনও রাজনৈতিক উদ্দেশ্য সিদ্ধি হয় না।’ আবেগজড়িত কণ্ঠে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘রাজনৈতিক কর্মীরা দেশের স্বাধীনতার জন্য জীবনদান করে, সর্বস্ব হারিয়ে সংগ্রাম করেছেন। আজ দুষ্কৃতকারীরা তাদের নির্মমভাবে হত্যা করছে।’

 ১৯৭৩ সালের ৮ এপ্রিলের পত্রিকার প্রধান শিরোনাম

জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু

বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সংসদীয় গণতন্ত্রের ঐতিহ্য ও নীতিমালা পুরোপুরি মেনে চলবে বলে এদিন  সংসদের ঐতিহাসিক প্রথম অধিবেশনে সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আশা প্রকাশ করেন। স্বাধীন বাংলাদেশের সংবিধানের ভিত্তিতে নির্বাচিত সদস্যদের নিয়ে গঠিত প্রথম জাতীয় সংসদ সংসদীয় গণতন্ত্রের ইতিহাসে এক গৌরবময় ঐতিহ্য গড়ে তুলতে সক্ষম হবে বলে তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন। সংসদ নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নবনির্বাচিত স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারকে অভিনন্দন জানাতে গিয়ে এই আশা ব্যক্ত করেন। প্রধানমন্ত্রী তাঁর দলের পক্ষ থেকে সংসদের মর্যাদা রক্ষার ক্ষেত্রে সর্বতোভাবে সহযোগিতার আশ্বাস দেন। প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণে পর বাংলাদেশ জাতীয় লীগের একমাত্র সদস্য ও প্রবীণ রাজনীতিবিদ আতাউর রহমান খান, অন্যতম সদস্য মানবেন্দ্র লারমা ও আব্দুল্লাহ সরকারকে অভিনন্দন জানান ও সহযোগিতার আশ্বাস দেন। সংসদের বৈঠকের শুরুতে স্পিকার মোহাম্মদউল্লাহ সংসদ সদস্য হিসেবে শপথগ্রহণ করেন। এরপর তিনি সংসদ সদস্যদের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন। সংসদ সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠানের পর স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের অনুপস্থিতিতে সংসদের অধিবেশন পরিচালনার জন্য পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট সভাপতিমণ্ডলীর নাম প্রস্তাব করা হলে তা সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়। সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন—আসাদুজ্জামান খান, এম শওকত আলী খান, চিত্তরঞ্জন সুতার, বেগম নূরজাহান মুরশিদ ও শামসুল হক চৌধুরী।

গণতান্ত্রিক অঙ্গনে নবতর ইতিহাস সৃষ্টি করতে চেয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু। তিনি বলেন, ‘জাতীয় সংসদ অধিবেশনে বাংলাদেশের সংসদ বিশ্বের স্বীকৃত সংসদীয় রীতি-নীতি ও ঐতিহ্য মেনে চলতে সংকল্পবদ্ধ এবং সংসদীয় রীতি-নীতিকে আরও সমৃদ্ধ করার মাধ্যমে এমন একটি মহান ঐতিহ্য স্থাপন করবে, যা বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সংসদ অনুসরণ করবে।’

 ডেইলি বাংলাদেশ অবজারভার, ৮ এপ্রিল ১৯৭৩

প্রধানমন্ত্রীর পদ লাভজনক নয়

এই দিনে জাতীয় সংসদের অধিবেশনে কোরআন ও গীতা পাঠের পর সদস্যদের শপথগ্রহণের প্রাক্কালে ‘প্রধানমন্ত্রীর পদ লাভজনক না, অলাভজনক’ এই মর্মে একটি বৈধতার প্রশ্ন উত্থাপন করেন বিরোধীদলীয় প্রবীণ সদস্য আতাউর রহমান খান। তার এই বৈধতার প্রশ্নটি সংসদের শান্ত পরিবেশকে কিছুটা উত্তপ্ত করে তোলে। উল্লেখযোগ্য যে, জাতীয় সংসদের এদিনের অধিবেশনে এটিই ছিল প্রথম বৈধতার প্রশ্ন।

ঝালকাঠি আজকাল