শুক্রবার   ১৩ ডিসেম্বর ২০১৯   অগ্রাহায়ণ ২৯ ১৪২৬   ১৫ রবিউস সানি ১৪৪১

ঝালকাঠি আজকাল
৬৭৩

রাজাপুরে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে আলোচনার শীর্ষে লাইজু

প্রকাশিত: ২৬ জানুয়ারি ২০১৯  

 রাজাপুর প্রতিনিধি :

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরপরই উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের ঘোষনায় মাঠে নেমে পড়েছেন ঝালকাঠি জেলার রাজাপুর উপজেলার সম্ভাব্য প্রার্থীরা। ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগের মনোনয়ন পেতে ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রার্থীরা। তাদের প্রচার-প্রচারনায় রীতিমত দখল হতে শুরু করেছে রাজাপুর উপজেলার নির্বাচনি মাঠ। সূত্রে জানা যায়, ইতোপূর্বে বিএনপি প্রায় সকল স্থানীয় সরকার পরিষদ নির্বাচনে অংশ নিলে ও সর্বশেষ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও নিজেদের অবস্থান থেকে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে অংশগ্রহন না করার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আগামী উপজেলা পরিষদ নির্বাচন প্রথম বারের মত দলীয় প্রতীকে করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তফশীল ঘোষণা না হলেও বসে নেই সম্ভাব্য উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থীরা অনেকেই দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন দলীয় মনোনয়ন পেতে। উপজেলায় সম্ভাব্য উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থীদের নানা কৌশলে দৃশ্যমান প্রচার প্রচারণা চলছে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত। এ ক্ষেত্রে প্রচার প্রচারণার নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে ফেসবুক। প্রচারার নানা চিত্র এখন শোভা পাচ্ছে ফেসবুক পেইজে। প্রতিদিন বিভিন্ন গ্রাম ও উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ বাজার গুলো চষে বেড়াচ্ছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা। পোষ্টার আর বিলবোর্ডে ছেয়ে ফেলা হয়েছে উপজেলার লোকালয় গুলো। পাশাপাশি, দিনরাত গণসংযোগে ব্যস্ত সময় কাটছে চেয়ারম্যান প্রার্থীদের। সে হিসেবে নৌকা প্রতীকে রাজাপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে আলোচনার শীর্ষে রয়েছেন তৃনমূল থেকে উঠে আসা ছাত্রজীবন থেকে আওয়ামী রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকা উপজেলা মহিলালীগের সভাপতি ও উপজেলা পরিষদেরমহিলা ভাইস চেয়ারম্যান আফরোজা আক্তার লাইজু।

তবে সংসদ নির্বাচনের মত উপজেলা নির্বাচনেও প্রাধান্য পাচ্ছে দলীয় মনোনয়নের বিষয়টি। অনেক হেভিওয়েটদের মধ্যে উপজেলা নির্বাচনের বাসনা থাকলেও লবিং গ্রুপিংয়ের ঝামেলা এড়াতে পিছিয়ে যাচ্ছেন তারা। এবার উপজেলা নির্বাচনে বর্তমান চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ মনিরুজ্জামানও মনোনয়ন চাইছেন ও প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।
নারী নেতৃ আফরোজা আক্তার লাইজু বলেন, ‘আর্থসামাজিক ও নারী উন্নয়নে কাজ করতে গিয়ে নারীর পাশাপাশি অনেক পুরুষের সহযোগিতা পেয়েছি। সবার উৎসাহ ও অনুপ্রেরণায় আমার কাজের পরিধি বাড়াতে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবো। রাজাপুরের সার্বিক উন্নয়নের স্বার্থে সবাইকে সাথে নিয়ে চেয়ারম্যান হিসেবে কাজ করতে চাই।
সম্ভাব্য আরেক চেয়ারম্যান প্রার্থী উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা অ্যাড. এ.এইচ.এম. খাইরুল আলম সরফরাজ বলেন, ‘আওয়ামীলীগ নির্বাচন মুখী ও জনপ্রিয় একটি দল। টানা তৃতীয় বারের মত সরকার গঠনের মধ্য দিয়ে সেটা প্রমাণিত হয়েছে। দলে নেতার সংখ্যাও অনেক বেশি। উপজেলা নির্বাচনকে ঘিরে দলের নেতা-কর্মীরা বেশ উজ্জীবিত। রাজাপুর উপজেলায় আমি ছাড়াও একাধিক নেতা গণসংযোগ করছেন। এ ক্ষেত্রে দলীয় শৃঙ্খলা মেনে জনপ্রিয়তার মাপকাঠিতে যোগ্য ব্যক্তিই মনোনয়ন পাবেন বলে তিনি মন্তব্য করেন।
এ ছাড়াও চেয়ারম্যান পদে আওয়ামীলীগের মনোনন প্রত্যাশি সম্ভব্যরা হলেন সাবেক চেয়ারম্যান মিলন মাহমুদ বাচ্চু, জেলা আওয়ামীলীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক অ্যাড. বাবু সঞ্জীব কুমার বিশ্বাস, রাজাপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ও হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের ঝালকাঠি জেলা সভাপতি বাবু চন্দ্র শেখর হালদার।
উল্লেখ্য, উপজেলা পরিষদ নির্বাচন প্রথমবার ১৯৮৫ সালে তালুকদার শামিম জাহাঙ্গির, দ্বিতীয় বারের ১৯৯০ সালে আঃ শুকুর মৃধা, তৃতীয়বার ২০০৯ সালে মিলন মাহমুদ বাচ্চ ুমৃধা, চতুর্থবার ২০১৪ সালে অধ্যক্ষ মনিরউজ্জামান রাজাপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে দ্বায়িত্ব পালন করেন।  

 

এই বিভাগের আরো খবর