• শুক্রবার   ১০ জুলাই ২০২০ ||

  • আষাঢ় ২৬ ১৪২৭

  • || ১৯ জ্বিলকদ ১৪৪১

ঝালকাঠি আজকাল
৭২

মায়ের মতো গণমাধ্যমের খেলার বলি হতে চান না প্রিন্স হ্যারি

ঝালকাঠি আজকাল

প্রকাশিত: ১৪ জানুয়ারি ২০২০  

ব্রিটিশ রাজপরিবারের কনিষ্ঠ প্রিন্স ডিউক অব সাসেক্স হ্যারি মনে করেন গণমাধ্যমের খেলার বলি হয়ে প্রাণ হারিয়েছিলেন তার মা প্রিন্সেস ডায়ানা। মায়ের মতো তিনিও গণমাধ্যমের ফাঁদে পা দিতে চান না বলে জানিয়েছেন হ্যারি। গত অক্টোবরের শুরুর দিকে আফ্রিকা সফরকালে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যম আইটিভিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সে ও তার স্ত্রীকে নিয়ে সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত নানা খবর প্রকাশ সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে এসব কথা বলেন হ্যারি। খরব রয়টার্স’র

হ্যারির মা প্রিন্সেস ডায়ানা ও বাবা চার্লস তাদের বিয়ের পর থেকেই ছিলেন ব্রিটিশ গণমাধ্যমের হটকেক। নব্বইয়ের দশকে ডায়ানার সঙ্গে চার্লসের বিশ্বাসঘাতকতা কিংবা ডায়ানার পরকীয়া সংক্রান্ত নানা চটকদার সংবাদে মুখর ছিলো ব্রিটিশ গণমাধ্যম। শেষ পর্যন্ত এসব খবরের কারণেই সম্পর্কে ভাঙ্গন ঘটে চার্লস-ডায়ানার। এমনকি ১৯৯৭ সালে এক গাড়ি দুর্ঘটনায় মৃত্যুর আগ পর্যন্ত ডায়নাকে ছাড়েনি গণমাধ্যমগুলো।

গণমাধ্যমের নজরদারি থেকে এখনও রক্ষা পায়নি ব্রিটিশ রাজপরিবার। চলতি বছর প্রিন্স উইলিয়াম ও হ্যারির সম্পর্কের ভাঙ্গন নিয়ে সংবাদ মাধ্যমে নানা খবর প্রকাশিত হয়। এই ভাঙনের পেছনে প্রিন্স উইলিয়ামের স্ত্রী তথা ডাচেস অব কেমব্রিজ কেট মিডলটন এবং প্রিন্স হ্যারির স্ত্রী ডাচেস অফ সাসেক্স মেগান মার্কেলকে দায়ী করা হয়। তাছাড়া মেগানের বিরুদ্ধে রাজপরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আগ্রাসী এবং অসংযত আচরণের অভিযোগ আনা হয়।

আইটিভিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে প্রিন্স হ্যারি এসব সংবাদকে গণমাধ্যমের খেলা বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘আমার মায়ের সঙ্গে যা যা ঘটেছে তা এখনও আমার স্পষ্ট মনে পড়ে।’ ‘প্রতিবার যখন আমি ক্যামেরার দিকে তাকাই, ক্যামেরার ক্লিকের শব্দ পাই, ফ্ল্যাশের আলো আমার চোখে পড়ে সঙ্গে সঙ্গে আমার অতীত স্মৃতি মনে পড়ে যায়’ বলেন হ্যারি।

বড় ভাইয়ের সঙ্গে সম্পর্কের ব্যাপারে হ্যারি বলেন, ‘সম্পর্কের মধ্যে যেমন ভালো দিন আছে, তেমনই খারাপ সময়ও যায়। হয়ত এই মুহূর্তে দু’জন দুই পথে রয়েছি কিন্তু আমি সর্বদা তার পাশে রয়েছি এবং আমি জানি সেও আমার পাশে আছে। আমি তাকে অনেক ভালোবাসি কিন্তু ব্যস্ততার কারণে আমাদের দু’জনের দেখা হয় না।’

বর্তমানে ব্রিটিশ রাজপরিবার এক অভূতপূর্ব সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। যার সূত্রপাত হয় গত ৮ ডিসেম্বরে। সেদিন হ্যারি এবং মেগান ঘোষণা করেন যে, তারা রাজপরিবারের দায়িত্ব থেকে অবসর নিতে চান। একই সঙ্গে তারা যুক্তরাজ্য এবং উত্তর আমেরিকায় তাদের সময় ভাগাভাগি করে থাকতে চান। তাছাড়া আর্থিকভাবেও স্বাধীন হতে চান, যাতে রাজকোষের অর্থের ওপর তাদের নির্ভর করতে না হয়। রানি বা রাজপরিবারের কোন সদস্যের সঙ্গে আগাম আলোচনা ছাড়াই এমন ঘোষণা দেওয়ার পর তুমুল বিতর্কের সৃষ্টি হয়। সোমবার হ্যারি-মেগানের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনায় বসেছে রাজপরিবার।

ঝালকাঠি আজকাল
আন্তর্জাতিক বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর