বৃহস্পতিবার   ১৪ নভেম্বর ২০১৯   কার্তিক ২৯ ১৪২৬   ১৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪১

ঝালকাঠি আজকাল
৪৯১

মাদ্রাসা পরিচালনা পরিষদের নৈরাজ্য থামাতে কঠোর হচ্ছে সরকার

প্রকাশিত: ২৪ আগস্ট ২০১৯  

 


দেশের মাদ্রাসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা নিয়ে নৈরাজ্যের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটি বা পরিচালনা পরিষদ গঠন বা নির্বাচন থেকে শুরু করে দাতা সদস্য নির্বাচনসহ বিভিন্ন বিষয়ে অভিযোগ আরও বেড়েছে। অধ্যক্ষ বা সুপার, পরিচালনা পরিষদের সভাপতিসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগও সাধারণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এতে শিক্ষার্থীদের পাঠদান ব্যবহত হচ্ছে বছরের পর বছর। শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ড সূত্রে জানা গেছে মাদ্রাসাগুলোতে এ নৈরাজ্য বন্ধে ও পাঠদান স্বাভাবিক করতে সরকার কঠোর হচ্ছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন ও উন্নয়ন) এ কে এম জাকির হোসেন ভুঞা  বলেন, ‘সমস্যা সমাধানে আমরা কঠোর হচ্ছি। মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ড এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিয়েছে। কমিটি সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করতে এবং কমিটি প্রধানসহ সদস্যদের কার্যপরিধি নিয়ে প্রস্তাব দেওয়া হবে। সমস্যা সমাধানে শিগগিরই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা পরিষদের সঙ্গে মন্ত্রীর বৈঠকের কথা রয়েছে।’

মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ডের তথ্যমতে, দেশের ৯৪টি মাদ্রাসা চিহ্নিত করা হয়েছে যেসব মাদ্রাসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটি বা পরিচালনা পরিষদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। গত ১ আগস্ট মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ড এসব মাদ্রসা পরিচালনা পরিষদের সমস্যা সুনির্দিষ্ট করতে জেলা শিক্ষা অফিসারদের সরেজমিন পরিদর্শনের নির্দেশ দিয়েছে। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, সরেজমিন পরিদর্শন করে সমস্যা সুনির্দিষ্ট করে এক সপ্তাহের মধ্যে তা প্রতিবেদন আকারে পাঠাতে হবে।

মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ডের দেওয়া তথ্যে জানা গেছে, ৯৪টি মাদ্রাসার কমিটি গঠন ও কমিটির বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়ম নিয়ে সবচেয়ে বেশি অভিযোগ। অধ্যক্ষ বা সুপার এবং পরিচালনা পরিষদ বা ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির বিরুদ্ধেই প্রায় সব অভিযোগ। বিগত সময়ে অধ্যক্ষ বা সুপারদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হলেও তা খুব বেশি কাজে লাগেনি।

চিহ্নিত ৯৪ মাদ্রাসার মধ্যে ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগের ১১টি, রাজশাহী ভিবাগের ১৩টি, রংপুর বিভাগ ২৭, খুলনা ১২, বরিশাল ১৫ এবং সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগের ১৪টি মাদ্রাসা রয়েছে।

মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ডের তথ্যমতে, চিহ্নিত মাদ্রাসাগুলোর মধ্যে সিলেট বিভাগের সুনামগঞ্জ জেলার জামালগঞ্জ উপজেলার লহ্মীপুর তায়িদুল ইসলাম রাহমানিয়া দাখিল মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটিতে একাধিক ব্যক্তিকে স্থানীয় সংসদ সদস্য কমিটির সভাপতি মনোনয়ন দেওয়ায় সমস্যা সৃষ্টি হয়। কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার নাবিয়াবাদ ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা পদ নিয়ে সিভিল রিভিশন মামলার কারণে সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে।

এছাড়া ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগের নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলার নারান্দিয়া দাখিল মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটি গঠন, জামালপুরের সরিষাবড়ি উপজেলার মহিষা বাদুরিয় দাখিল মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটি গঠন ও বাতিল, গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার পটকা দাখিল মাদ্রাসার অ্যাডহক কমিটি নিয়ে বিরোধ এবং টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার পাঁচটিকড়ী দাখিল মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচন নিয়ে অনিয়ম নিয়ে সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। ৯৪টি মাদ্রাসার অন্যগুলোতেও এমন সমস্যা রয়েছে বলে জানা গেছে।

এই বিভাগের আরো খবর