বৃহস্পতিবার   ২৪ অক্টোবর ২০১৯   কার্তিক ৮ ১৪২৬   ২৪ সফর ১৪৪১

ঝালকাঠি আজকাল
২২৭

মহাসড়কের কাজে পানি না দেওয়ায় চলাচলে চরম দুর্ভোগ  

প্রকাশিত: ৮ জানুয়ারি ২০১৯  

রাজাপুর প্রতিনিধিঃ আওয়ামীলীগ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঝালকাঠি জেলা বাসীকে উপহার স্বরূপ দেওয়া সড়ক ও জনপদ বিভাগে আড়াইশ কোটি টাকার ২টি মেঘা প্রকল্প আঞ্চলিক মহাসড়কের  ঝালকাঠির কালিজিরা থেকে ভান্ডারিয়া পর্যন্ত ৩৮ কি.মি. সড়ক ১৮ ফুট থেকে ২৪ ফুট চওড়া করে নির্মাণ ও রাজাপুর-কাঁঠালিয়া ও আমুয়া পর্যন্ত মহাসড়কের ৩১ কি. মি. ২৪ ফুট সড়ক প্রশস্ত করণের কর্মকান্ডে প্রকৌশল ও ঠিকাদারের নানা অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা ও সেচ্ছাচারিতায় অতিষ্ঠ হয়ে শিক্ষার্থী, পথচারী, বৃদ্ধ, শিশুসহ এলাকাবাসী পড়েছে সীমাহীন দুর্ভোগে মুখ থুবড়ে পড়ছে জনজীবন। 
প্রকল্প সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান খান বিল্ডার্স, ওরিয়েন ট্রেডার্স ও অহেদ কনস্ট্রাকশ ১২৫ কোটি ৫৪ লাখ টাকা ব্যয়ে ও রানা বিল্ডার্সের পক্ষে ইসলাম ব্রাদার্স ১২৪ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্প বাস্তবায়নে কাজ করছে। প্রকল্পের ধুলা ব্যবস্থাপনার কথা মাথায় রাখেন নি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো। আবার কাজ শেষেও 'উন্নয়নস্থল' থেকে উড্ডীন ধুলা কীভাবে স্তিমিত হতে পারে এ ব্যাপারে মাথাব্যথা নেই এদের। ফলে এই সকল প্রকল্পে ধুলা উড়তেই থাকছে। সড়কের চলমান উন্নয়নের মধ্যেই ঝাঁকুনি দিয়ে চলছে গাড়ি, উড়ছে ধুলা সড়কের দোকানপাট, গাছ-গাছালিতে ধুলার আস্তর পড়ে আছে। ধুলায় মাখামাখি হয়ে চলছেন পথচারিসহ স্কুলগামি শিশুরা। দিনে দিনে এই অবস্থা ভয়াবহ হয়ে এর মাত্রা প্রতি কিউবিক মিটারে হয়তো ৯০০ মাইক্রোগ্রামে পৌঁছেছে (১০ মাইক্রোমিটার ব্যাসের থেকেও বড় বস্তুকণা), ধারনা করা হচ্ছে যা বিশ্বে সবচেয়ে বেশি মাত্রার হবে হয়তো। 
সড়ক বিভাগের তত্ত্বাবধানে প্রায় ১ বছর আগে সড়কের উন্নয়ন কাজ শুর হলেও এখনও দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি। এছাড়া ধীরগতির কাজ আর নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহারে ধুলায় নাকাল সড়কটি ও চলাচলকারি মানুষগুলো। আঞ্চলিক মহাসড়কের এই উন্নয়ন কাজের ধীরগতিতে রাজাপুর উপজেলার প্রায় ৫০ কিলোমিটার সড়ক এখন ধুলার রাজ্যে পরিণত হয়েছে। ধুলার কারণে সড়কের পাশে অবস্থিত বিভিন্ন দফতর, শিক্ষা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বাসাবাড়িতে বসবাসরত মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। এছারা সড়ক উন্নয়ন কাজের মান নিয়েও স্থানীয়দের মধ্যে রয়েছে ক্ষোভ। ধুলা আর বস্তুকণা সহনীয় মাত্রার চেয়ে বেশি থাকায় শ্বসনতন্ত্র-সংক্রান্ত বিভিন্ন রোগে ভুগছে এলাকাবাসী। প্রকল্পের যথাযথ সমন্বয়, সুষ্ঠুতা ও সময়-ব্যবস্থাপনা হচ্ছে না ফলে উন্নয়ন স্বস্তির বদলে অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে এ উন্নয়ন। জনকল্যাণ নিশ্চিত করার জন্যই উন্নয়ন পাশাপাশি জনস্বাস্থ্য, নির্মল পরিবেশ, স্বস্তিবিধানও এর অংশ। এই ধুলার দুর্ভোগ থেকে মুক্তি দিতে কোনো প্রযুক্তি হাতে না থাকলেও পানি ছিটানোর নির্দেশনা উন্নয়ন কাজগুলোর ঠিকাদারদের দেওয়া আছে বলে সংস্থার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। পানি ছিটানোর বিশেষ গাড়ি(স্পেশাল ওয়াটার বাউজার) দিয়ে সড়কগুলোতে সকাল-দুপুর দুইবেলা পানি ছিটানো হবে। এলাকাবাসী দাবি জানিয়েছে, যাত্রী, চালক, পথচারী ও আশপাশের মানুষ সবার কথা ভেবে প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাসহ কর্তা ব্যক্তিরা সদয় দৃষ্টি দিবেন এবং সংশ্লিষ্টরা পানি ছিটানোর কাজটি করবেন। 
এ ব্যাপারে ঝালকাঠি সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী শেখ নাবিল হোসাইন এর কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান উন্নয়নকাজের ফলে সৃষ্ট ধুলা নিয়ন্ত্রণে কোনো প্রযুক্তি নেই তবে আমরা নিয়মিত ঠিকাদারদের পানি ছিটানোর কাজটি করার জন্য তাগিত দিয়ে থাকি। সংশিষ্টরা পানি ছিটানোর কাজটি ঠিকমত করছেন না বলে অভিযোগ রয়েছে সত্যি আমি এ ব্যাপারে বিশেষ খেয়াল রাখছি। উন্নয়ন কাজ শুকনো মৌসুমে দ্রুত করা যায় বলে এগুলো এখন গতি পেয়েছে। এ কারণেও ধুলা বেড়েছে। তিনি জানান অনেকদিন বৃষ্টি না থাকায় এমনিতেই ধুলা বেড়ে গেছে। এছাড়া একমাত্র রাস্তা বলে তা বন্ধ করে কাজ করা যায় না। গাড়ি চলার পাশাপাশি কাজ করতে হয়। এ কারণে সড়কে ধুলা ওড়ে। উন্নয়ন কাজ শেষ হলে দুর্ভোগ কমবে।