বৃহস্পতিবার   ১২ ডিসেম্বর ২০১৯   অগ্রাহায়ণ ২৭ ১৪২৬   ১৪ রবিউস সানি ১৪৪১

ঝালকাঠি আজকাল
৬৭৩

বিয়েতে সৌদি নারীদের পছন্দের শীর্ষে বাংলাদেশি পুরুষরা!

প্রকাশিত: ২৩ জুলাই ২০১৯  

বিয়ের ক্ষেত্রে সৌদি নারীদের পছন্দ তালিকার শীর্ষে রয়েছেন বাংলাদেশি পুরুষরা। দেশটির নারীরা বিশ্বাস করেন, সৌদি পুরুষদের চেয়ে বিদেশী পুরুষ বিয়ে করলে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে অনেক বেশি স্বাধীনতা পাওয়া যায়।

আর এ কারণেই সৌদি আরবে দিন দিন বিদেশী পুরুষ বিয়ের সংখ্যা বাড়ছে। সম্প্রতি সৌদি আরবের প্রভাবশালী গণমাধ্যম আরব নিউজ এক জরিপ রিপোর্টের উদ্ধৃতি দিয়ে এ খবর জানিয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি পুরুষদের স্বামী হিসেবে কমই পছন্দ করেন সে দেশের নারীরা। দাম্পত্য জীবনে স্থিতি ও নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে সৌদি নারীরা বেশির ভাগ ক্ষেত্রে বিদেশিদের স্বামী হিসেবে পেতে চান। বেশির ভাগ সৌদি নারীই চান না তাদের বিয়ে ডিভোর্স কিংবা স্বামীর বহুবিবাহের কারণে ভেঙ্গে যাক।

সৌদির হাদি মাক্কি নামের এক নার্স বলেন, সাংস্কৃতিক বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা এড়াতে ও বিবাহবিচ্ছেদের হার বেশি হওয়ায় অগণিত তরুণী সৌদি পরিবারে বিয়ে করতে ভয় পান। অনেকে চান বিদেশে গিয়ে আরেকটু স্বাধীনভাবে জীবনযাপন করতে, যা তারা নিজেদের সমাজে পারেন না।

তিনি বলেন, নানা কারণে সৌদি অনেক নারীই আরবের অন্য দেশের পুরুষদের বিয়ে করেছেন। আরবের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সত্ত্বার মধ্যে মিল থাকায় এটি সম্ভব হয়েছে।

তবে এর ব্যতিক্রমও রয়েছে। দেশটিতে গভীর উপজাতীয় শেকড় যাদের মধ্যে রয়েছে, তারা খুব কমই নিজের সংস্কৃতির বাইরের মানুষকে বিয়ে করতে আগ্রহী হন।

আইন পরামর্শদাতা আবদুল আজিজ দাশমান বলেন, উপসাগরীয় অঞ্চলের মানুষের মধ্যে কুয়েতের বেশি নাগরিককে বিয়ে করেছেন সৌদি নারীরা। ২০১২ সালের এক জরিপে এ তথ্য উঠে আসে। তবে উপসাগরীয় নয়, এমন দেশগুলোর মধ্যে ইয়েমেনের পুরুষরাই বেশি বিয়ে করেছেন সৌদি নারীদের।

এছাড়াও অন-আরব কাউকে বিয়ে করার ব্যাপারে সামাজিক বারণ থাকা সত্ত্বেও ১১৮ সৌদি নারী পাকিস্তানিদের বিয়ে করেছেন।

আব্দুল আজিজ দাশমান আরো জানান, অনেক সৌদি নারীর কাছে সৌদি নন এমন পুরুষদের বিয়ে করাটা অনেকটা স্বপ্ন সত্যি হওয়ার মতো বিষয়। তবে এক্ষেত্রে আর্থিক অসচ্ছলতার বিষয়টিও মাথায় রাখতে হয়।

তিনি নারীদের সতর্ক করে দিয়ে বলেন, তাদের অর্থের ওপর আগ্রহ আছে এমন পুরুষের প্রতি যাতে তারা ঝুঁকে না পড়েন।

অন্যদিকে প্রতিবেদনে উঠে আসে, নোরা নামের এমন এক সৌদি নারী নিজ সংস্কৃতির কাউকে বিয়ে না করায় আক্ষেপ করেছেন। তিনি বলেন, আমি যদি আমার আত্মীয়দের কথা শুনতাম, তবেই ভাল হতো।

এছাড়া এ ধরনের দম্পতির সন্তানের নাগরিকত্ব নিয়েও সমস্যা হয়। সৌদি শূরা পরিষদের সদস্য সাদাকাহ ফাদেল জানান, প্রায় ৭ লাখ সৌদি নারী বিদেশী বিয়ে করেছেন, যা মোট বিয়ে করা সৌদি নারীদের ১০ শতাংশ। শূরা পরিষদ সৌদি নারীদের বিদেশি স্বামী বা পুরুষদের বিদেশি স্ত্রী ও তাদের সন্তানদের নাগরিকত্ব সম্পর্কিত আইন পরিবর্তন করতে চাইছে।

এদিকে অনেকে আশঙ্কা করছেন, এ আইনের অপব্যবহার হতে পারে। সম্প্রতি সৌদি কর্তৃপক্ষ প্রবাসীদের জন্য সৌদি নারীদের বিয়ে করার ক্ষেত্রে যে বিধি-নিষেধ ছিল সেটা তুলে নিয়েছে।

তাই, এখন থেকে বাংলাদেশীরাও বিয়ে করতে পারবেন সৌদি নারীদের। সেক্ষেত্রে সৌদি নারীদের পছন্দ তালিকার শীর্ষে হতে পারেন বাংলাদেশি পুরুষেরা।

সৌদি আরবে পুরুষদের তুলনায় নারীর সংখ্যা অনেক বেশি। সৌদি পুরুষরা একাধিক বিয়ে করলেও অবিবাহিত থেকে যাচ্ছে সেদেশের অনেক নারী। এমন এক পরিস্থিতিতে সৌদি কর্তৃপক্ষ প্রবাসীদের জন্য সৌদি নারীদের বিয়ে করার বিধি-নিষেধ তুলে নিয়েছে।

কিন্তু এজন্য তাদেরকে ‘স্পেশাল এক্সপ্যাক্ট’ সিস্টেমে পূর্ব হতেই নিবন্ধন করতে হবে। প্রবাসীরা শুধু সৌদি নারীদের বিয়ে করার সুযোগের সঙ্গে সঙ্গে তারা পেনশনসহ বেতন সুবিধাও ভোগ করতে পারবেন!

এই বিভাগের আরো খবর