শুক্রবার   ০৬ ডিসেম্বর ২০১৯   অগ্রাহায়ণ ২২ ১৪২৬   ০৮ রবিউস সানি ১৪৪১

ঝালকাঠি আজকাল
১৮

বিসমিল্লাহ’র শানে নুযুল ও ফজিলত

প্রকাশিত: ২১ নভেম্বর ২০১৯  

 

 

বিসমিল্লাহ এর শানে নুযুল: শানে নুযুল মানে আয়াত অবতীর্ণ হওয়ার প্রেক্ষাপট। পবিত্র কোরআনুল কারিমের প্রতিটি আয়াত অবতীর্ণ হওয়ার রয়েছে ভিন্ন ভিন্ন শানে নুযুল বা প্রেক্ষাপট। 

বিসমিল্লাহ অবতীর্ণ হওয়ার প্রেক্ষাপট নিয়ে আলোচনা করা হলো। 

আইয়ামে জাহিলিয়াতের যুগে কাফেররা যখন কোনো কাজ শুরু করতো তাদের দেব দেবীর নামে শুরু করত। তখন আল্লাহ তায়ালা بسم الله নাজিল করেন। বর্ণিত আছে ওই সময় হুজুর (সা.) যে কোনো কাজ بسم الله বলে শুরু করতেন। পরবর্তীতে بسم الله নাজিল হলে হুজুর (সা.) এর ওপর আরো গুরুত্ব বাড়িয়ে দেন। অতএব, যে কোনো কাজ শুরু করার পূর্বে بسم الله বলা সর্বসম্মতিক্রমে রাসূলের সুন্নত।

বিসমিল্লাহ’র ফজিলত: বিসমিল্লাহ এর ফজিলত সম্পর্কে অসংখ্য হাদিস বর্ণিত আছে। যেমন হাদিসে আছে যে, যদি কোনো কাজ বিসমিল্লাহ বলে শুরু করা না হয় তাহলে তা বরকতহীন থেকে যায়। আল্লামা আবু সাঈদ খান (র.) বলেন, হাদিসে এসেছে যে নারী بسم الله বলে ঘর ঝাড়ু দেবে সে বাইতুল্লাহ শরিফ ঝাড়– দেয়ার সওয়াব পাবে। এ ছাড়াও আরো অসংখ্য ফজিলত বর্ণিত আছে।

বিসমিল্লাহ পাঠের বিধান: যে কোনো কাজ শুরু করার পূর্বে বিসমিল্লাহ বলা সুন্নত। কোরআন শরিফ তেলাওয়াত করার পূর্বে بسم الله পড়া সুন্নত। এক সূরা থেকে অন্য সূরায় শুরু করার সময় শুধু বিসমিল্লাহ বলা সুন্নত। তবে যদি সূরায়ে তাওবা তেলাওয়াত শুরু করে তাহলে বিসমিল্লাহ পড়বে না। তেমনিভাবে নামাজ শুরু করার পূর্বে بسم الله বিসমিল্লাহ উভয়টা পড়া সুন্নত। বাকি রাকাতগুলোর মধ্যে সূরায়ে ফাতেহার পূর্বে শুধু বিসমিল্লাহ পড়া সুন্নত। মনে রাখতে হবে, সূরায়ে ফাতেহার পরে অন্য সূরা মিলানোর পূর্বে বিসমিল্লাহ বলা হাদিস দ্বারা প্রমাণিত নয় । এবং কেউ কেউ এটাকে বেদাতও বলেছেন।

বিসমিল্লাহ সূরা ফাতেহার অংশ কিনা?
সূরায়ে ফাতেহার মধ্যে সর্ব সম্মতিক্রমে সাতটি আয়াত রয়েছে। কিন্তু মতবিরোধ হলো ইমাম শাফিয়ী (র.) বিসমিল্লাহ সহ সাত আয়াত বর্ণনা করেন এবং صراط الذين থেকে ولا الضالين পর্যন্ত পুরোটাকে এক আয়াত গণনা করেন। আর ইমাম আবু হানিফা (র.) বিসমিল্লাহ ছাড়া সাত আয়াত বর্ণনা করেন। (সূরায়ে ফাতেহার কালিমার সংখ্যা ২৫, হরফ সংখ্যা ১১৩)।

এই বিভাগের আরো খবর