শনিবার   ২৩ নভেম্বর ২০১৯   অগ্রাহায়ণ ৮ ১৪২৬   ২৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪১

ঝালকাঠি আজকাল

বিদেশে টাকা পাচার রোধে বিশেষ উদ্যোগ ব্যাংকগুলোর

প্রকাশিত: ২৪ অক্টোবর ২০১৯  

আমদানি-রফতানির আড়ালে দেশ থেকে টাকা পাচার ঠেকাতে বহুমুখী উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। পণ্য পরীক্ষায় সব বন্দরে বসানো হবে বিশেষ স্ক্যানার। রফতানি আয়ের যে অর্থ ফেরত আসে না তা আনার উদ্যোগ নেয়া হবে। আমদানির বিল পরিশোধের আগে যাচাই করা হবে পণ্যের আন্তর্জাতিক দর। সূত্র জানায়, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশ থেকে আমদানি-রফতানির আড়ালে টাকা পাচারের পরিমাণ বেড়ে গেছে। আন্তর্জাতিক কয়েকটি সংস্থার জরিপে বেরিয়ে এসেছে এমন তথ্য। 

আগে দেশ থেকে হুন্ডি ও চোরাচালানের মাধ্যমে টাকা পাচার হলেও এখন হচ্ছে ব্যাংকিং চ্যানেলে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তদন্তেও ব্যাংকিং চ্যানেলে টাকা পাচারের ঘটনা ধরা পড়েছে। বেশির ভাগ টাকাই পাচার হয়েছে আমদানি পণ্যের মূল্য বেশি দেখিয়ে। এছাড়া বেশি দামের পণ্যের এলসি খুলে কম দামের পণ্য এনে, আমদানির ঘোষণার চেয়ে কম পরিমাণে পণ্য এনে এবং কিছু ক্ষেত্রে একেবারেই পণ্য না এনে শুধু টাকা পাচার করা হয়েছে। ঠিক বিপরীতভাবে রফতানির মূল্য কম দেখিয়ে, ঘোষিত পরিমাণের চেয়ে বেশি পণ্য রফতানি করে, রফতানি মূল্যের চেয়ে কম মূল্যে দেশে এনে এবং পণ্য একেবারেই দেশে না এনেও টাকা পাচার করা হয়েছে।

বাণিজ্যিক ব্যাংক ও এনবিআরের কাস্টমস বিভাগ এসব বিষয় তদারকি করে। তাদের যোগসাজশে নানা অনিয়মের মাধ্যমে টাকা পাচার হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ কারণে এবার টাকা পাচার ঠেকাতে বাংলাদেশ ব্যাংক ও এনবিআর মাঠে নেমেছে। আমদানি পণ্যের মূল্য এলসিতে যা লেখা হচ্ছে বিল পরিশোধের সময় তা যাচাই করবে ব্যাংক। এর মাধ্যমে পণ্যের মূল্যের চেয়ে বেশি অর্থ বিদেশে পাঠানো ঠেকানো যাবে। এলসির ঘোষণা অনুযায়ী পণ্য দেশে আসছে কিনা, সে বিষয়টি তদারকি করবে কাস্টমস। প্রয়োজনবোধে ব্যাংক ও কাস্টমস সমন্বয় করে এসব বিষয় তদারকি করবে।

এনবিআর সূত্র জানায়, বন্দরে স্ক্যানার বসলে মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে পণ্য আমদানি যেমন বন্ধ হবে, তেমনি বন্ধ হবে এর মাধ্যমে অর্থ পাচার। একইভাবে রফতানি পণ্য বন্দরে প্রবেশের ক্ষেত্রে স্ক্যানার দিয়ে যাচাই করা হবে। মিলিয়ে দেখা হবে এলসির সঙ্গে। ফলে পরিমাণে বেশি বা এক পণ্যের নামে অন্য পণ্য রফতানি বন্ধ হবে।

এই বিভাগের আরো খবর