মঙ্গলবার   ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯   আশ্বিন ১ ১৪২৬   ১৭ মুহররম ১৪৪১

ঝালকাঠি আজকাল
৪৯

ডেঙ্গু প্রতিরোধে ঈদের ছুটিতেও কাজ করবেন শিক্ষকরা

প্রকাশিত: ৭ আগস্ট ২০১৯  

ঈদের ছুটিতে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ডেঙ্গু প্রতিরোধ কার্যক্রম চলবে। এ লক্ষ্যে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে ৬ সদস্য করে একটি বা একাধিক টিক গঠন করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ঈদের ছুটিতে প্রতি ৪৮ ঘণ্টা পরপর পরিচ্ছন্ন অভিযান চালাতে বলা হয়েছে এই টিমের সদস্যদের।

মঙ্গলবার রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে আয়োজিত রাজধানীর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধানদের এক সভায় এই নির্দেশনা দেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. সোহরাব হোসাইন। একই দিনে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত একটি পরিপত্র জারি করা হয়েছে।

সভায় সোহরাব হোসাইন বলেন, সারাদেশের প্রতিষ্ঠানে এই কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে হবে। কার্যক্রম সম্পর্কে নিয়মিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে প্রতিবেদন দেবে। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মককর্তা জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে প্রতিবেদন পাঠাবেন। জেলা থেকে সেই রিপোর্ট সরাসরি মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতরে (মাউশি) ডেঙ্গু প্রতিরোধ সেলে পাঠাতে হবে।

অনুষ্ঠানে নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা, কোথাও যাতে পানি না জমে সেদিকে নজর রাখাসহ অন্যান্য কার্যক্রম চলছে। কিন্তু ঈদের ছুটিতে যদি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এই কার্যক্রম অব্যাহত না রাখা হয় তাহলে ডেঙ্গু মশা বংশ বিস্তার করতে পারে। আর ডেঙ্গুর ডিম যেহেতু ৭২ ঘণ্টায় প্রজনন হয়, তাই ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বা একদিন পরপর এই পরিষ্কার কার্যক্রম অব্যাহত রাখা দরকার। সেই নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

অনুষ্ঠানে সোহরাব হোসাইন শিক্ষকদের উদ্দেশ্যে বলেন, প্রতীকীভাবে আপনাদের সঙ্গে মতবিনিময় করা হচ্ছে। আসলে আপনাদের মাধ্যমে আমরা সারাদেশের প্রতিষ্ঠান প্রধান ও শিক্ষকদের সঙ্গেই কথা বলছি। আমাদের এই নির্দেশনা সারাদেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্যই প্রযোজ্য।

তিনি বলেন, প্রতি একদিন পরপর প্রতিষ্ঠানের খেলার মাঠ, ঝোপঝাড়, আশপাশ এলাকা এবং যেসব জায়গায় পানি জমতে পারে সেসব এলাকা চিহ্নিত করে পরিষ্কার করতে হবে। প্রয়োজনে হারপিক ব্যবহার করতে হবে বাথরুমে। ১৩ দিনের জন্য ঈদের ছুটি থাকবে। এই ছুটিতে প্রতিষ্ঠান একেবারে বন্ধ থাকতে পারবে না। কমপক্ষে ৬ জনের একটি টিম থাকবে। সেই টিম প্রতিষ্ঠানে ডেঙ্গু প্রতিরোধের কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কারিগরি ও মাদরাসা বিভাগের সচিব মো. মুনশী শাহাবুদ্দীন আহমেদ। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের (মাউশি) মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. এসএম গোলাম ফারুক এতে সভাপতিত্ব করেন। এছাড়া মাউশির পরিচালক অধ্যাপক শাহেদুল খবীর চৌধুরী বক্তৃতা করেন। সভার শুরুতে শিক্ষকদের পক্ষ থেকে ডেঙ্গু প্রতিরোধের ব্যাপারে মতামত গ্রহণ করা হয়। এ সময় মিরপুরের মডেল স্কুলের প্রধান শিক্ষক আনোয়ার হোসেন, মতিঝিল মডেল স্কুল ও কলেজের সিনিয়র শিক্ষক আবুল কাসেম প্রমুখ।

উল্লেখ্য, ডেঙ্গুু প্রতিরোধ কার্যক্রমের জন্য মাউশিতে একটি সেল গঠন করা হয়েছে। এতে একজন উপপরিচালক সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছেন। ডেঙ্গু প্রতিরোধ কার্যক্রমে একজন মাউশির পরিচালক (প্রশিক্ষণ) অধ্যাপক প্রবীর কুমার ভট্টাচার্যকে ফোকাল পয়েন্ট নিযুক্ত করা হয়েছে। এ ব্যাপারে সার্বক্ষণিক কাজ করছেন তিনি।

এই বিভাগের আরো খবর