রোববার   ১৮ আগস্ট ২০১৯   ভাদ্র ৩ ১৪২৬   ১৬ জ্বিলহজ্জ ১৪৪০

ঝালকাঠি আজকাল
২৭

ঝালকাঠিতে ছাদ কৃষির পরে বাড়ীর ছাদে গবাদীপশুর খামার

প্রকাশিত: ২৩ জুলাই ২০১৯  

ঝালকাঠিতে ছাদ কৃষির পরে নুতন সংযোজন বাড়ীর ছাদে ছালগ লালন পালন শুরু করেছেন একটি প্রকৌশলী পরিবার। ঝালকাঠি সদর উপজেলার বিনয়কাঠী ইউনিয়নের প্রত্যান্ত অঞ্চল মানপাশা গ্রামের বাসিন্দা প্রকৌশলী রেজাউল করিম তার বসত বাড়ীর পাকা ভবনের ৩য় তলায় ব্লাক বেঙ্গল জাতের ছাগলের খামার করেছেন। তার স্ত্রী মানপাশা মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সৈয়দা আফরোজা বেগম এই কাজে স্বামীকে উৎসাহ প্রদান করছেন। মাসুদ নামের এক যুবক এই পরিবারের ছাগল লালন পালনের কাজগুলি আন্তরিকতার সাথে তদারকি ও পরিচর্যা করেন।

৪ বছর পূর্বে এই প্রকল্পের ২টি বাচ্চা দিয়ে লালন পালনের কাজ শুরু হয়। বর্তমানে এই খামারে ১৮টি ছাগল রয়েছে এবং ইতিমধ্যেই প্রাক্ত বয়স্ক ২৫-৩০ হাজার টাকা দামে ১৮টি খাসি বিক্রি করেছেন। এখানে লালন-পালন করা এই জাতের ছাগলগুলি জন্মের পর থেকে মাটিতে পা দেয়নি। প্রতিদিন তাদের চাহিদা মোতাবেক খাবার, পানি ব্যবস্থা করা হচ্ছে। ছাদে ছাগলের জন্য টিনের ঘর করে তাদের মধ্যে ৩ তলা বিশিষ্ট পাটাতন করা হয়েছে, যাতে বৃষ্টি বাদলের দিনে ও প্রখর রোদে ছাগলগুলি তাদের পছন্দমত জায়গায় অবস্থান নিতে পারে।

ছাগল পালনের জন্য চারন ভুমির প্রয়োজন জয় এবং ছাগল আশে পাশের মানুষের কৃষি থেকে নানা ধরনের ফসলাদিন নষ্ট করে কিন্তু ছাদে ছাগল লালন-পালনের কারনে কারো কোন ক্ষতি হয় না কারণ তারা অন্য প্রাণির হাত থেকে নিজেদের নিরাপদ রাখে। এছাড়াও বাড়ীর ছাদটির জায়গায় উৎপাদনশীল ও আর্থিক ভাবে সহায়ক প্রকল্প হিসেবে, বাড়তি আয় পাওয়া যাচ্ছে।

প্রকৌশলীর বসতবাড়ীর ২য় তলায় নানা যাতে কবুতর ও সৌখিন জাতের পাখি লালন পালন করা হচ্ছে। বসত ভবনের সামনে আলাদা করে হাসমুরগীর জন্য খামার করা হয়েছে। এখানে হাস, মুরগী, রাজা হাস এবং টারকি জাতের মুরগী লালন পালন করা হচ্ছে। বাড়ীর সামনে, ১০-১২টি গবাদী পশু নিয়ে দুগ্ধ খামার গড়ে তোলা হয়েছে। প্রতিদিন এখান থেকে ১০ লিটার দুধ উৎপাদন হচ্ছে এবং পরিবারের চাহিদা মিটিয়ে বাজারে বিক্রি করা হচ্ছে। গবাধি পশুরু বর্জ (গোবর) দিয়ে বায়ো গ্যাসের প্লান্ট করা হয়েছে। এই প্লান্ট দিয়ে বায়োগ্যাস ব্যবাহার করে পরিবারটি তার রান্নাবান্না কাজে ব্যবহার করছে। পারিবারিক পুকুরটিতেও মাছ চাষ করা হয়েছে। বাড়ীটি জুরে, বিভিন্ন ধরনের ফল, ফলাদি গাছ লাগিয়ে সবুজ বনায়ন করা হয়েছে। সব মিলিয়ে এই প্রকৌশলী রেজাউল করিমের বসত বাড়ীটি এক ধরনের মিনি চিড়িয়াখানা।
 

এই বিভাগের আরো খবর