বৃহস্পতিবার   ০৫ ডিসেম্বর ২০১৯   অগ্রাহায়ণ ২১ ১৪২৬   ০৭ রবিউস সানি ১৪৪১

ঝালকাঠি আজকাল
৪৩২

চালু হলো ঝালকাঠির হাস প্রজনন কেন্দ্রের বাচ্চা সরবারহ

প্রকাশিত: ২২ জানুয়ারি ২০১৯  

সংস্কারের ৩বছর পর ২০১৮ সালের নভেম্বর মাসে প্রানী সম্পদ মন্ত্রনালয়ের আওতায় ঝালকাঠি গাবখান এলাকার একমাত্র হাঁস পালন কেন্দ্রটি পূণরায় চালু হয়েছে। ২০০৬-০৭ অর্থ বছরের ২৩ এপ্রিল ঝালকাঠির গাবখান এলাকার ২ একর জমির উপর প্রায় ৩ কোটি টাকা ব্যয়ে কেন্দ্রটি চালুর ২ বছর পরেই প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে এর কার্যক্রমও বন্ধ হয়ে যায়।
এরপর প্রায় একযুগ পর  কেন্দ্রটি গত ২০১৫-১৬ অর্থ বছরে ৮৪ লাখ টাকা ব্যয়ে সংস্কার কাজ শুরু করে শেষ করে কেন্দ্রটি পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেয়া হয়। দুমাস পূর্বে কেন্দ্রটি চালু হলে আবার জেলায় উন্নত মানের হাঁসের বাচ্চা সরবরাহ করা শুরু হওয়ায় হাঁস পালনে আগ্রহীরা খামার স্থাপন ও অর্থ উপার্জনের মাধ্যমে স্বাবলম্বী হতে নতুন করে খামার স্থাপনের কাজ শুরু করেছে। 
 
ইউনিট সূত্র জানায়, প্রায় ১০বছর স্থবির থাকা হাঁস পালন কেন্দ্রটি বর্তমানে ২টি শেড চালু করা হয়েছে। একটিতে ১ দিনের বাচ্চা সর্বচ্চো ১৫ দিন পর্যন্ত রাখা হয়। পরের ধাপে ২৮ দিন অপর শেডে রাখা হয়। তবে এবার চালু হওয়ার পর প্রথম ধাপে আনা ১ হাজার বাচ্চা দ্বিতীয় ধাপে নেয়ার আগেই বিক্রি হয়ে গেছে। বর্তমানে দ্বিতীয় পর্যায়ে কেন্দ্রটিতে ৯শ বাচ্চা প্রতিপালন করা হচ্ছে বলে জানাগেছে।
 
সূত্র আরো জানায়, কেন্দ্রটিতে ১ দিন থেকে ৪২ দিন পর্যন্ত প্রতিটি হাসের বাচ্চা বিক্রি হয় ৬০ টাকায় ও ৪৩ দিন থেকে প্রতিটি হাঁস বিক্রি হয় ৭৫ টাকা। ভারতীয় জিনডিং জাতের এ হাস প্রতি মাসে ২৭ থেকে ২৮টি ডিম দেয়। এবার দ্বিতীয় পর্যায়ে কেন্দ্রটি চালু হলেও লোকবল সংকট রয়েছে। আপাতত ২ জন কর্মচারী দিয়ে চালু করা হাঁস পালন কেন্দ্রতে ১ জন প্রেষনে ও অন্যজন মাষ্টাররোলে কর্মরত।
 
এ প্রসঙ্গে ঝালকাঠি সদর উপজেলার প্রানী সম্পদ কর্মকর্তা নাসির আহমেদ জানান, এই কেন্দ্রটি ইতিপূর্বে প্রকল্পের আওতায় থাকায় মেয়াদ শেষ আর চালু করা যায়নি। দীর্ঘ প্রায় একযুগ ধরে কার্যক্রম বন্ধ হয়ে পড়ে থাকে। এনিয়ে বিভিন্ন মিডিয়ায় সংবাদ প্রকাশসহ এ অঞ্চলের চাহিদা বিবেচনায় আবার এটি সংস্কার করে চালু করা হয়েছে। আপাতত এখানে ২জন কর্মচারীকে প্রেষনে এনে আমাকে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। তবে এবার রাজস্ব খাতের মাধ্যমেই চালু হওয়ায় এটি আর বন্ধ হবার সম্ভাবনা নেই।
 
জেলা প্রানী সম্পদ বিভাগ সূত্র জানায়, ধান নদী খাল এই তিনে বরিশাল প্রবাদটির সাথে এ অঞ্চলে হাঁস পালনের একটি সম্পর্ক রয়েছে। কারন হাঁসের অবাধ বিচরণের জন্য খাল বা উম্মুক্ত জলাশয়বেশী পছন্দের যা বরিশাল অঞ্চলের সব জেলাতেই আছে। সেই বিবেচনা করেই সরকারী উদ্যোগে এখানে কেন্দ্রটি স্থাপন করা হয়েছে।
 
ঝালকাঠিসহ বরিশাল বিভাগে হাসের বাচ্চার প্রচুর চাহিদা থাকায় এখানে পালিত বাচ্চার পরিমানের তুলনায় চাহিদা ২/৩ গুন বেশি। তাই এখানে উৎপাদিত হাসের বাচ্চা ঝালকাঠিতে বিক্রি হয়ে যাওয়ায় অন্য জেলার ক্রেতাদের সরবারহ করা যাচ্ছেনা।
 
ঝালকাঠি প্রানী সম্পদ বিভাগ সূত্র জানায়, জেলায় ছোট বড় মোট ১২২টি হাঁসের খামার রয়েছে। এসব হাঁসের খামারে মোট ৫ লাখ ২৯ হাজার ২৬৮টি হাস রয়েছে। তারপরেও শুধু ঝালকাঠি জেলাই বছরে ৪০ হাজার হাঁসের বাচ্চার চাহিদা রয়েছে।
 
দক্ষিনাঞ্চলের আবহাওয়া ও পরিবেশ হাঁস পালনের সবচেয়ে উপযোগী। তাছাড়া হাঁসের মাংস ও ডিমের চাহিদাও অনেক বেশী। তাই সরকারের এই হাঁস পালন কেন্দ্রটি পূণরায় চালু হওয়ায় যেমন এ অঞ্চলে হাঁসের চাহিদা পূরণ করবে, তেমনি স্থানীয় খামারীরা বিক্রি করেও অনেক লাভাবন হবে বলে খামারীরা জানিয়েছে।
এই বিভাগের আরো খবর