বৃহস্পতিবার   ২১ নভেম্বর ২০১৯   অগ্রাহায়ণ ৭ ১৪২৬   ২৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪১

ঝালকাঠি আজকাল
১৩

ঘরে বসেই সেবা পাওয়া যাচ্ছে ‘দূতাবাস’ অ্যাপে

প্রকাশিত: ২৪ অক্টোবর ২০১৯  

প্রবাসীদের ভোগান্তি কমানোর জন্য জুলাই মাসে চালু হওয়া ‘দূতাবাস’ অ্যাপটি ইতোমধ্যে ভালো সাড়া ফেলেছে। চার মাসের মাথায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এই অ্যাপে নিবন্ধন করেছেন ৫০ হাজারের বেশি মানুষ। দেশে এবং বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের পুলিশ ক্লিয়ারেন্স, জন্ম ও মৃত্যু সনদ, শিক্ষা সনদ বা অন্যান্য প্রত্যয়নসহ ৩৪ ধরনের সেবা পাওয়া যায় এই অ্যাপের মাধ্যমে। তাই এখন আর এসব কাজের জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, দূতাবাস বা মিশনগুলোতে সশরীরে হাজির হওয়ার প্রয়োজন হয় না।

সম্প্রতি এই অ্যাপটি সেবা প্রদানের ক্ষমতা এবং গুরুত্বের কারণে ‘ই-নথি’ বা ‘৩৩৩’-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ অ্যাপগুলোকে পেছনে ফেলে বেসিস জাতীয় আইসিটির প্রথম পুরস্কার অর্জন করেছে। এর ফলে আগামী নভেম্বরে ভিয়েতনামে অনুষ্ঠিত এশিয়া প্যাসিফিক আইসিটি অ্যাসোসিয়েশনের অ্যাপ প্রতিযোগিতায় জায়গা করে নিয়েছে ‘দূতাবাস’।

এ বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘এটি মন্ত্রণালয়ের জন্য একটি বড় অর্জন। এর পূর্ণ বাস্তবায়ন করার পরে সেবাগ্রহীতার সময় ও খরচ অনেক কমে যাবে।’ তিনি বলেন, ‘এটি সরকারের একমাত্র অ্যাপ, যেখানে সেবা পাওয়ার জন্য অনুরোধ এবং সরকারের সেবা ডিজিটাল মাধ্যমে দেওয়া হয়।’ অ্যান্ড্রয়েড এবং অ্যাপল উভয় মোবাইল ফোনেই এই অ্যাপ ব্যবহার করে সেবা পওয়ার সুযোগ রয়েছে বলেও তিনি জানিয়েছেন।  

বেসিস জাতীয় আইসিটির প্রথম পুরস্কার পাওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা ২০৩০ সালের মধ্যে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ (এসডিজি) বাস্তবায়ন করবো এবং এটি বাস্তবায়নে এই অ্যাপ সরাসরি প্রভাব রাখবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘‘এখন স্লোগান হচ্ছে ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ মানুষের দোরগোড়ায়’ কিন্তু আমাদের স্লোগান হচ্ছে ‘দেশে ও বিদেশে ডিজিটাল বাংলাদেশ এখন মানুষের হাতের মুঠোয়’।’’

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দেশে এবং বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশিদের পুলিম ক্লিয়ারেন্স, জন্ম ও মৃত্যু সনদ, শিক্ষা সনদ বা অন্যান্য প্রত্যয়নসহ ৩৪ ধরনের সেবা দিয়ে থাকে এবং এজন্য বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে একযোগে কাজ করতে হয় বলেও জানান আরেকজন কর্মকর্তা।

তিনি বলেন, ‘ইতোমধ্যে জন্ম সনদের জন্য স্থানীয় সরকার, পাসপোর্ট বা অন্যান্য অভিবাসন তথ্যের জন্য ডিপার্টমেন্ট অফ ইমিগ্রেসন অ্যান্ড পাসপোর্ট, শিক্ষা মন্ত্রণালয়সহ অন্যান্য সরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ডিজিটালি কাজ করার প্রস্ততি শুরু হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশে অবস্থিত বিদেশি মিশনগুলোকে ইতোমধ্যে আমরা জানিয়ে দিয়েছি- পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যেকোনও সেবার কাগজের সনদ এবং ডিজিটাল সনদ যা ইন্টারনেটের মাধ্যমে সরবরাহ করা হয় উভয় যেন তারা গ্রহণ করেন।’

আরেকজন কর্মকর্তা বলেন, ‘পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এখন যারা সেবা নিতে আসছেন, তাদের আমরা এ বিষয়ে অবহিত করছি এবং এরপরে অন্য কোনও সেবা পাওয়ার জন্য তাদের আসার প্রয়োজন হবে না।’

ইতোমধ্যে ‘দূতাবাস’ প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য একটি সেল গঠন করা হয়েছে এবং ২৪ ঘণ্টা সেবা দেওয়ার জন্য লোকবলও নিয়োগ করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এটিকে জনপ্রিয় করার জন্য আমরা পদক্ষেপ নেবো, যাতে করে বিশ্বের যোকোনও প্রান্ত থেকে বাংলাদেশিরা কম খরচে এবং দ্রুততম সময়ে ঝামেলাহীন সেবা পেতে পারে।’

তিনি বলেন,, ‘আমরা আশা করছি, আমাদের এই সেবা পাওয়ার জন্য আগামী কয়েক বছরে অ্যাপটিতে তিন থেকে চার কোটি গ্রাহক হবে।’

সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলীর সময়ে এই অ্যাপ তৈরির কাজ শুরু হলেও এটি পূর্ণতা পায় বর্তমান মন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেনের সময়ে।

এই অ্যাপের মাধ্যমে কোনও ব্যক্তিকে সেবাপ্রদানকারী সংস্থায় সশরীরে হাজির হওয়ার প্রয়োজন হয় না। কারণ গোটা বিষয়টি ডিজিটাল প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সম্পন্ন করা হয়।  

সেবাগ্রহণকারী ব্যক্তিকে প্রথমে ‘দূতাবাস’ আ্যাপে একটি অ্যাকাউন্ট খুলতে হয়। তিনি ৩৪ সেবার যে সেবা পেতে চান সেই সেই মেনুতে ক্লিক করে যে কাগজপত্র জমা দিতে হবে সেগুলোর ছবি তুলে আ্যাপে আপলোড করবেন। একজন যদি শিক্ষা সনদ সত্যায়িত করতে চান তবে তাকে শিক্ষা সনদ, পাসপোর্ট ও জাতীয় পরিচয়পত্রের ছবি মোবাইলে ছবি তুলে আপলোড করতে হবে এবং এরপরে সবকিছু পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তার নিজস্ব তত্ত্বাবাধনে তা সম্পন্ন করবে। এরপর সত্যায়িত সনদ ডিজিটাল পদ্ধতিতে সেবাগ্রহণকারীর অ্যাকাউন্টে পাঠিয়ে দেবে, যা তিনি পরবর্তীতে প্রিন্ট করে প্রয়োজনীয় কাজে ব্যবহার করতে পারবেন।

এই বিভাগের আরো খবর