রোববার   ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯   ভাদ্র ৩১ ১৪২৬   ১৫ মুহররম ১৪৪১

ঝালকাঠি আজকাল
১৪

‘খুন হওয়া’ সেই কিশোর বাবা-মাসহ কারাগারে

প্রকাশিত: ৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯  

 

 নিজের ছেলেকে লুকিয়ে রেখে খুন হয়েছে বলে মামলা দিয়ে প্রতারণা করেছিলেন মোহাম্মদ আজম নামে এক ব্যক্তি। এ ঘটনার মামলায় রিমান্ড শেষে সেই ‘খুন হওয়া’ ছেলে আবু সাঈদসহ (১৫) তারা বাবা, মা মাহিনুর বেগম ও আত্মীয় আব্দুল জব্বারকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার (০৩ সেপ্টেন্বর) ঢাকার চিফ ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন বলে বাদীপক্ষের আইনজীবী ওয়াহিদুজ্জামান লিটন  বিষটি নিশ্চিত করেন।
এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হাজারীবাগ থানার উপ পরিদর্শক (এসআই) লন্ডন চৌধুরী দুইদিনের রিমান্ড শেষে আসামিদের আদালতে হাজির করে কারাগারে পাঠানোর আবেদন করেন। গত ৩১ আগস্ট আসামিদের দুইদিনের রিমান্ডে নেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা।
মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০১৪ সালের ১৭ এপ্রিল পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র আবু সাঈদ হারিয়ে যাওয়ার বিষয়ে তার বাবা আজম থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। ওই জিডির পর তিনি অজ্ঞাত পরিচয়ের ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অপহরণ ও মুক্তিপণ দাবির মামলাও করেন। ওই মামলায় বিভিন্ন সময় আসগর আলী, মিলন, সাইফুল ইসলাম হাওলাদার, সোনিয়া আক্তার, তার ভাই আফজাল হোসেন ও শাহীন নামে কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পরবর্তীতে সাইফুল ও আফজাল আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দেন। তারা বলেন, আবু সাঈদকে তারা অপহরণ করে হত্যার পর মরদেহ বরিশালগামী লঞ্চ থেকে নদীতে ফেলে দেন।

ওই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ছিলেন গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের ধানমন্ডি জোনাল টিমের এসআই রুহুল আমিন। তিনিই আসামিদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি গ্রহণের জন্য আদালতে হাজির করেছিলেন। এছাড়া মামলাটি তদন্তের পর ২০১৫ সালের ১৫ জুন আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন তিনি। চার্জশিটে আসগর আলী ও মিলনকে বাদ দিয়ে অপর চারজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করা হয়।

বর্তমানে ঢাকার পাঁচ নম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে নাশি মামলা হিসেবে বিষয়টি বিচারাধীন। মামলাটি সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে যুক্তিতর্কের পর্যায়ে রয়েছে।

ওই মামলায় আপষের কথা বলে বাদী আজম প্রতিপক্ষের কাছ থেকে পাঁচ লাখ টাকাও নেন। কিন্তু সম্প্রতি তিনি স্বীকার করেন তার ছেলে আবু সাঈদ বেঁচে আছে।

পরে গত ৩০ আগস্ট তিনি কৌশলে ছেলেকে নিয়ে আরও দুই লাখ টাকা নেওয়ার জন্য রাজধানীর পল্লবী থানাধীন একটি বাসায় আসেন। এরপরই থানা পুলিশ তাদের আটক করে। তাদের বিরুদ্ধে প্রতারণার মামলা করেন অপহরণ মামলায় আসামি থাকা সোনিয়া আক্তার।

এদিকে, মিথ্যা ওই অপহরণ ও হত্যা মামলায় সোনিয়া আক্তার, তার ভাই আফজাল হোসেন ও আত্মীয় সাইফুল ইসলাম ছয় মাস থেকে তিন বছর পর্যন্ত কারাভোগ করেন। এছাড়া আফজাল হোসেন ও সাইফুল ইসলামকে জোর করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে বাধ্য করেন মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা (বর্তমানে রাজধানীর ডেমরা থানায় কর্মরত) রুহুল আমিন।

এই বিভাগের আরো খবর