শনিবার   ২৩ নভেম্বর ২০১৯   অগ্রাহায়ণ ৮ ১৪২৬   ২৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪১

ঝালকাঠি আজকাল
১০

ক্যানসারের বৈশিষ্ট্য গবেষণায় এবার ৫০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ

প্রকাশিত: ২৪ অক্টোবর ২০১৯  

ক্যানসারের প্রাথমিক বৈশিষ্ট্য খুঁজতে কাজ করছেন ব্রিটিশ এবং আমেরিকান বিজ্ঞানীরা। এ গবেষণার প্রধান লক্ষ্য, ক্যানসার হওয়ার আগেই উপসর্গ শনাক্ত করে আক্রান্ত ব্যক্তিকে চিকিৎসার আওতায় নিয়ে আসা। এটি করতে পারলে আক্রান্ত ব্যক্তি দ্রুত ক্যানসার থেকে আরোগ্য লাভ করতে সক্ষম হবেন। এ ক্যানসারের প্রাথমিক বৈশিষ্ট্য খুঁজে বের করার জন্য এক বিষয়ে ধারণা, প্রযুক্তি এবং দক্ষতা বিনিময়ের ক্ষেত্রে যুক্তরাজ্যের চ্যারিটি ক্যানসার রিসার্চ ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়, ম্যানচেস্টার, ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডন এবং যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড এবং ওরেগনের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে জোট গঠন করেছে। বিবিসি

ক্যানসার হওয়ার সময় প্রথম দিন কী অবস্থা হয় সেটি দেখার জন্য ল্যাবরেটরিতে ক্যানসার জন্ম দেয়ারও পরিকল্পনা করছেন বিজ্ঞানীরা। বিজ্ঞানীরা যৌথভাবে চেষ্টা করছেন যে, উচ্চ মাত্রায় ঝুঁকিতে থাকা রোগীদের তুলনামূলক কম জটিল পরীক্ষা যেমন রক্ত, শ্বাস এবং মূত্র পরীক্ষার মাধ্যমে নজরদারিতে রাখা, ইমেজিং কৌশল ব্যবহার করে প্রাথমিক অবস্থায় ক্যানসার শনাক্ত করা যায় কিংবা শনাক্ত করা যায় না এমন লক্ষণও যাতে ধরা পড়ে এমন কৌশল আবিষ্কারের। তবে তারা বলছেন যে, এই চেষ্টা অনেকটা খড়ের গাদায় সুঁই খোঁজার মতো। এর জন্য ৩০ বছর সময়ও লাগতে পারে।

যুক্তরাজ্যের ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউটের প্রাথমিক শনাক্তকরণ গবেষণার প্রধান ডা. ডেভিড ক্রসবি বলেন, সবচেয়ে বড়ো সমস্যা হচ্ছে আমরা কখনো মানুষের শরীরে ক্যানসার জন্মাতে দেখতে পারিনি। যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টারের গবেষকরা ল্যাবে কৃত্রিম প্রতিরোধক কোষ থেকে মানুষের স্তনের টিস্যু জন্মানোর চেষ্টা করছেন যাতে খুব প্রাথমিক অবস্থাতেই ক্যানসার সৃষ্টির সূক্ষ্ম পরিবর্তনও শনাক্ত করা যায়। অধ্যাপক রব ব্রিস্টো বলেন, এটা রোগীর দেহের বাইরে জীবন্ত কোষ ব্যাংকের মতো। তবে সব সময়ই ওভার-ডায়াগনোসিসের একটা ঝুঁকি থেকেই যায়। কারণ, প্রাথমিক অবস্থায় থাকা সব কোষই ক্যানসারে রূপান্তরিত হয় না। আর তাই, মানুষের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের ক্যানসারের ঝুঁকি জানতে হলে ক্যানসার গবেষকদের আরো সুনির্দিষ্ট হতে হবে, মানুষ যে জিন নিয়ে জন্মগ্রহণ করে সেটির বিষয়ে জানতে হবে। যে পরিবেশে তারা বেড়ে ওঠে সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। সেটি সম্ভব হলেই কেবল তারা বুঝতে পারবেন যে, কখন কোন ব্যবস্থা নিতে হবে।

এ পর্যন্ত বিজ্ঞানীরা বলেছেন যে, প্রাথমিক অবস্থায় ক্যানসার শনাক্ত করার যে গবেষণা সেটি এখনো ছোটো মাত্রায় এবং সংযোগহীন। এছাড়া বড়ো আকারে মানুষের মধ্যে পরীক্ষা করার সুযোগও নেই। ডা. ক্রসবি বলেন, এই সমন্বয় আমাদের স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় সাগর সমান পরিবর্তন আনবে, শেষ পর্যায়ে ক্যানসার শনাক্তের পর তার চিকিৎসায় ব্যয়বহুল লড়াইয়ের পরিবর্তে প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করতে সক্ষম হবে। সেটি হলে চিকিৎসা ব্যয়ও উল্লেখযোগ্য হারে কমে আসবে। যুক্তরাজ্যের ক্যানসার গবেষণা প্রাথমিক সনাক্তকরণের গবেষণায় আন্তর্জাতিক যৌথ প্রকল্পে ৫০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছে। যেখানে স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির কানারি সেন্টার এবং ওরেগনের ওএইচএসইউ নাইট সেন্টার ইনস্টিটিউট যৌথভাবে ২০ মিলিয়ন ডলার দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে।

এই বিভাগের আরো খবর