শনিবার   ১৯ অক্টোবর ২০১৯   কার্তিক ৩ ১৪২৬   ১৯ সফর ১৪৪১

ঝালকাঠি আজকাল
৫৯

হালদায় ফিরলো সুদিন

প্রকাশিত: ৮ অক্টোবর ২০১৯  

এশিয়ার একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজননকেন্দ্র হালদা নদীর পোনার খ্যাতি দুনিয়াজোড়া হলেও এতোদিন স্থানীয় হ্যাচারি থেকে কেনা কার্পজাতীয় মাছ ছাড়া হতো নদীতে। ফলে এসব মাছ থেকে আশানুরূপ ফল পাওয়া যেত না। এ কারণে হালদা থেকে নেয়া রেণু থেকে প্রক্রিয়াজাত পোনা মাছ ফের হালদায় ছাড়া হচ্ছে।

হালদা নদীতে এক লাখ পোনা মাছ ছাড়ার এ উদ্যোগ নিয়েছে হাটহাজারী উপজেলা প্রশাসন। এরই অংশ হিসেবে প্রথম পর্যায়ে মঙ্গলবার (৮ অক্টোবর) হালদা নদীর সাত্তারঘাট অংশে ১০ হাজার এবং গড়দুয়ারা নয়াহাট এলাকায় ১০ হাজার পোনা ছাড়া হয়েছে।

 

halda

হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুহুল আমিন জানান, গত ২৫ মে হালদা নদীতে মা-মাছ ডিম ছাড়ে। এরপর স্থানীয়রা সেই ডিম সংগ্রহ করে হ্যাচারি অথবা মাটির তৈরি কুয়ায় স্থানীয় পদ্ধতিতে রেণু উৎপাদন করে। উৎপাদিত এক কেজি রেণু ক্রয় করে গত জুন থেকে গড়দুয়ারা ইউনিয়নের একটি পুকুরে নিবিড় পরিচর্যা করা হয়। মাছগুলো ৬ ইঞ্চি বা তার বেশি আকার ধারণ করায় আজ স্থানীয় জনগণ ও যারা হালদাকে ভালোবাসে এমন ব্যক্তিদের নিয়ে হালদা নদীতে অবমুক্ত করা হয়েছে।

halda

তিনি বলেন, প্রথমবারের মতো উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে হালদা নদীর পোনা হালদায় ফেলার লক্ষ্যে একটি প্রকল্প গ্রহণ করি। প্রকল্পের মেয়াদ ধরা হয় গত ৩০ এপ্রিল থেকে ৩০ আগস্ট। তারই ধারাবাহিকতায় আজ প্রথম পর্যায়ে সাত্তারঘাট অংশে ১০ হাজার এবং গড়দুয়ারা নয়াহাট এলাকায় ১০ হাজার পোনা ছাড়া হয়েছে। বাকিটা বিভিন্ন ধাপে ফেলা হবে।

 

halda

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের হালদা রিভার রিচার্স ল্যাবরেটরির সমন্বয়ক অধ্যাপক ড. মনজুরুল কিবরিয়া বলেন, উদ্যোগটি প্রশংসনীয়। অতীতে স্থানীয় হ্যাচারি থেকে পোনা নিয়ে ছাড়া হলেও হালদার পোনা হালদাতে ছাড়ার কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি। এবার হালদার পোনা হালদায় ছাড়ার কারণে মাছের পরিমাণ বৃদ্ধি পাবে।

 

এই বিভাগের আরো খবর