• শুক্রবার   ০৭ মে ২০২১ ||

  • বৈশাখ ২৩ ১৪২৮

  • || ২৪ রমজান ১৪৪২

ঝালকাঠি আজকাল

এই সময় ডায়রিয়া হলে কী করবেন?

ঝালকাঠি আজকাল

প্রকাশিত: ২৬ এপ্রিল ২০২১  

ডায়রিয়া একটি পানিবাহিত রোগ। সাধারণত অন্ত্রে বিভিন্ন ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণের ফলে ডায়রিয়া হয়। খাবার বা পানির মাধ্যমে ডায়রিয়ার জীবাণু পেটে গেলেই এ সমস্যাটির সৃাষ্ট হয়। ডায়রিয়া দুই ধরনের হয়, তীব্র ডায়রিয়া ও দীর্ঘস্থায়ী ডায়রিয়া।

ডায়রিয়া হলে শরীরে পানিস্বল্পতা ও লবণের ঘাটতি দেখা দেয়। খাবার স্যালাইনের মাধ্যমেই পানিস্বল্পতা দূর করা যায় প্রাথমিকভাবে ডায়রিয়া সারিয়ে তোলা যায়। যদি স্যালাইনেও ডায়রিয়া না সারে; তাহলে রোগীকে শিরায় উপযুক্ত স্যালাইন দিয়ে চিকিৎসা করতে হয়।

রমজান মাসেও অনেকেই এ সমস্যায় ভোগেন। সারাদিন রোজা রেখে সন্ধ্যায় ইফতারে ভাজা-পোড়া খাওয়ার ফলেও এমনটি হতে পারে। এমন ডায়রিয়া হয়ে থাকে বদহজমের কারণে। ডায়রিয়ার পাশাপাশি এক্ষেত্রে কোষ্ঠকাঠিন্য, এসিড রিফ্লাক্স, পাকস্থলীর আলসার ইত্যাদিও হতে পারে।

আবার মহামারির এ সময় করোনায় সংক্রমিতদের মধ্যেও ডায়রিয়ার প্রকোপ দেখা গেছে। করোনার প্রাথমিক উপসর্গ হিসেবেও দেখা দিতে পারে ডায়রিয়া। এক্ষেত্রে শুরুর দিকে দিনে কমপক্ষে ৩ বার করে এক থেকে আট দিনের মধ্যে এ লক্ষণটি প্রকাশ পায়।

কয়েক দিনের মধ্যেই অবশ্য এ ডায়রিয়া সেরে যায়। তবে কারও কারও ক্ষেত্রে ১৪ দিন পর্যন্ত দীর্ঘ স্থায়ী হতে পারে। করোনা রোগীদের এসজিপিটি এনজাইম বেড়ে যেতে পারে। এতে যকৃতের ক্ষতি হতে পারে। তাই নিজে নিজে ওষুধ সেবন করা উচিত নয় দীর্ঘস্থায়ী ডায়রিয়ার ক্ষেত্রে।

আমেরিকান জার্নাল অব গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিতে প্রকাশিত এক গবেষণা অনুসারে, গবেষকরা ২০৬ জন করোনা আক্রান্তদের মধ্যে ৪৮ জনের ডায়রিয়া ও হজমের লক্ষণ দেখেছেন এবং ৬৯ জনের মধ্যে ডায়রিয়া, হজম এবং শ্বাসযন্ত্রের সমস্যা উভয়ই ছিল।

বেইজিংয়ের এক সমীক্ষা অনুযায়ী, করোনা রোগীদের অনেকেই জ্বর বা ফ্লু জাতীয় লক্ষণ ছাড়াই ডায়রিয়াতে ভুগেছেন অনুভব করতে পারে। ডায়রিয়া কোভিড-১৯ এর প্রথম লক্ষণ হতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে ডায়রিয়ার পরে ফ্লুর লক্ষণগুলো আসতে পারে। ডায়রিয়ার পাশাপাশি করোনা রোগীদের বমিও হতে পারে।

যে কারণেই হোক না কেন, এই সময় ডায়রিয়া হলে প্রথমেই ঘরোয়াভাবেই তা প্রতিরোধের ব্যবস্থা করতে হবে। এজন্য যা করণীয়-

>> খাবার স্যালাইনের বিকল্প নেই এ সময়। তাই বারবার স্যালাইন খেতে হবে।

>> ডায়রিয়া রোগীকে শুকনো খাবারের পরিবর্তে জলীয় খাবার যেমন- পানি, ডাবের পানি, শরবত, স্যালাইন খেতে হবে।

>> এ সময় নরম খাবার খেতে হবে। নরম করে ভাত-খিচুরি, ফিরনি, চালের গুঁড়ার জাউ ইত্যাদি খাওয়া যেতে পারে।

>> এ ছাড়াও ডায়রিয়া সারাতে ঘরোয়াভাবে বিভিন্ন টোটকায় ভরসা রাখতে পারেন। যেমন-আপেল, কলা, লেবু, আদা, জিরা, আপের সিডার ভিনেগার ইত্যাদি খেতে পারেন। এসবে থাকা পুষ্টিগুণ অন্ত্রের ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাসকে ধ্বংস করতে পারে।

>> মলত্যাগে পর অবশ্যই সাবান দিয়ে ভালো করে হাত ধুয়ে নিন।

>> প্রতিবার রান্না করা বা খাবার পরিবেশন করার আগেও হাত ধুয়ে নিন। ব্যবহৃত থালা-বাসন, চামচ-বাটি ইত্যাদিও ভালো করে ধুয়ে নিন।

>> বাসি-পচা খাবার, ভাজা-পোড়া, মাছি বসা খাবার এবং বাইরের খোলা খাবার, শরবত বা ফলের রস খাওয়া থেকে বিরত থাকুন।

>> রান্না করা খাবার বেশিক্ষণ বাইরে রেখে খাবেন না। এতে রোগজীবাণু দ্রুত বৃদ্ধি পায়।

>> পরিষ্কার পাত্রে পানি কিংবা ফোটানো পানি ঠান্ডা করে পান করুন। পানি ফুটিয়ে জীবাণুমুক্ত করতে হলে চুলায় পানি ফুটতে শুরু করার পর ১৫ থেকে ২০ মিনিট পর্যন্ত সময় ফোটাতে হবে।

ঝালকাঠি আজকাল