শনিবার   ২৩ নভেম্বর ২০১৯   অগ্রাহায়ণ ৮ ১৪২৬   ২৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪১

ঝালকাঠি আজকাল

উৎপাদন মৌসুমে কৃষিপণ্য আমদানি নিষিদ্ধ হচ্ছে

প্রকাশিত: ২৪ অক্টোবর ২০১৯  

কৃষককে ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতে কোনো কৃষিপণ্যের উৎপাদন মৌসুমে সেটি আমদানি নিষিদ্ধ করতে যাচ্ছে সরকার। বুধবার সচিবালয়ে কৃষি মন্ত্রণালয়ে দেশের উৎপাদিত শস্য, ফলমূল, শাকসবজি, মসলার বাজারজাতকরণে উৎপাদন ও আমদানির সামঞ্জস্যতা নির্ধারণ বিষয়ক সভায় এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সভা শেষে কৃষি সচিব মো. নাসিরুজ্জামান সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

কৃষি সচিব বলেন, ‘কৃষকরা উৎপাদন করে বাজারে যে পণ্য নিয়ে আসে, তখন বিদেশ থেকে সে পণ্য আমদানি হয়। সেই আমদানির ফলে আমাদের কৃষকরা অনেক সময় ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কৃষকরা ফসল উৎপাদন করে বাজারে নিয়ে আসে তখন দাম কম পায়। কারণ একই সঙ্গে সবাই একই পণ্য উৎপাদন করে, ফলে পণ্যের দাম কমে যায়।’

তিনি বলেন, ‘আবার এই কৃষকই যখন বাজারে ফসলটা কিনতে যায় তখন তাকে বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। এজন্য আমরা বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে সঙ্গে নিয়ে এ রকম একটি অবস্থা তৈরি করতে যাচ্ছি- কৃষকের ঘরে যখন ফসল উৎপাদন হবে তখন আমাদের যেন আমদানিকারকরা বিদেশ থেকে একই ধরনের ফসল বা পণ্য বাংলাদেশে আমদানি না করেন।’

কোন মৌসুমে কৃষক কোন ফসল উৎপাদন করে বাজারে আনা হয়, সেই বিষয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে একটি পত্র দেয়া হবে জানিয়ে নাসিরুজ্জামান বলেন, ‘তখন যেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয় একই ধরনের ফসল বিদেশ থেকে আমদানির অনুমতি না দেয়। তবে বাজারে ঘাটতি থাকলে বা ঘাটতির পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে তখন বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বাজার নিয়ন্ত্রণের জন্য প্রয়োজনীয় ফসল আমদানির অনুমোদন দিতে পারবে।’

কৃষি মন্ত্রণালয়ের চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে উৎপাদন মৌসুমে কৃষিপণ্য নিষিদ্ধের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলে সভায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি জানিয়েছেন।

কৃষি সচিব বলেন, ‘বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে বলা আছে, নিরাপদ ও পুষ্টিযুক্ত খাবার আমাদের উৎপাদন করতে হবে এবং মানুষকে খাওয়াতে হবে। কিন্তু নিরাপদ ও পুষ্টিযুক্ত খাবার উৎপাদনের ক্ষেত্রে আমরা বিশেষ করে নিরাপদ খাবারের ক্ষেত্রে যে বড় বাধা দেখি তা হলো অতিরিক্ত কীটনাশকের ব্যবহার।’

‘কৃষক ফসলে অতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহার করতে এবং অতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহারের ফলে এর একটি ক্ষতিকারক দিক থেকেই যাচ্ছে ফসলে। ফলে আমরা এই কীটনাশকযুক্ত ফসল গ্রহণ করছি। এটা শাকসবজি, ফলমূলসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্যের জন্য প্রযোজ্য। সেটা কীভাবে কমানো যায় সে বিষয় নিয়ে আজকে একটা প্ল্যান তৈরি করার জন্য চিন্তা-ভাবনা করছি।’

Nasir-2.jpg

নাসিরুজ্জামান বলেন, ‘সেজন্য আমরা কয়েক ধরনের পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করেছি। উৎপাদন প্রক্রিয়ায় ও ভোক্তা পর্যায়ে আমরা কাজ করতে চাই। উৎপাদন প্রক্রিয়ায় আমরা কাজটা এভাবে করতে চাই যখন কৃষক কোন কীটনাশক ব্যবহার করবেন, তখন তারা যেন কৃষি অফিসারের নির্দেশনা মেনে ব্যবহার করে।’

কৃষকরা যেন কৃষি অফিসারদের পরামর্শ ছাড়া কোনো ধরনের কীটনাশক ব্যবহার না করেন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘যে পণ্যের জন্য বা যে পোকামাকড়ের জন্য কীটনাশক দরকার নেই, কিন্তু ডিলারদের পরামর্শে কৃষকরা অনেক সময় কীটনাশক ব্যবহার করে থাকেন। এতে পোকামাকড় মরে না, কিন্তু ফসলে সেই কীটনাশকের ক্ষতিকারক মাত্রা থেকে যায়।’

কৃষি সচিব আরও বলেন, ‘এজন্য আমাদের প্রথম টার্গেট কৃষকদের সচেতনতা বাড়াতে কাজ করব। পাশাপাশি আমাদের কৃষি অফিসারদের বলব, তারা যেন কৃষকদের এমন কোনো কীটনাশক ব্যবহার করতে পরামর্শ না দেন, যা ফসলের কোনো উপকারে আসে না। একই সঙ্গে কীটনাশকের অতিরিক্ত ব্যবহার যাতে না করে, সেই বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘কীটনাশকের প্রভাব দূর করতে আমাদের কিছু কিছু পদ্ধতি আছে। পণ্যটা বাজার থেকে কিনে আনার পর কিছু সময় ১৫ থেকে ২০ মিনিট কুসুম গরম পানিতে ভিজিয়ে রাখা হলে ক্ষতিকারক দিক কমে যাবে। এছাড়া আমাদের কিছু টেকনোলজি আছে যা আমরা ভোক্তা পর্যায়ে ব্যাপক আকারে প্রচার করব। যাতে করে আমাদের ফসলকে নিরাপদ রাখা যায়।’

নাসিরুজ্জামান বলেন, ‘আমাদের আরও একটু পরিকল্পনা রয়েছে যে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে কন্টাক্ট ফার্মিং (কৃষকের সঙ্গে চুক্তির মাধ্যমে ফসল উৎপাদন)। এক্ষেত্রে কৃষকরা চুক্তিবদ্ধভাবে নিরাপদ ফসল উৎপাদন করবে।’

তিনি বলেন, ‘সবচেয়ে বেশি ভোক্তা রয়েছে ঢাকা শহরে। আমাদের একটা লক্ষ্য আছে, ঢাকা শহরের জন্য চুক্তিভিক্তিক কৃষক দিয়ে কিছু বিষমুক্ত সবজি উৎপাদন করব। যে ফসলটা আমাদের ঢাকা শহরের বাজারগুলোতে কেনাবেচা হবে।’

সভায় কৃষি মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ছাড়াও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের ও সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

এই বিভাগের আরো খবর