মঙ্গলবার   ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯   আশ্বিন ১ ১৪২৬   ১৭ মুহররম ১৪৪১

ঝালকাঠি আজকাল
৩২৯

ইংল্যান্ডে বাংলাদেশী ০৫ প্রতারক চক্রের সর্বোচ্চ সাড়ে দশ বছর জেল

প্রকাশিত: ২৫ নভেম্বর ২০১৮  

বৃটিশ অনলাইন পত্রিকা বার্কি এন্ড ড্যাগেনহ্যাম পোস্ট এর ২৩ নভেম্বর ২০১৮ এর বরাতে জানা যায় যে, বৃটেনে অবস্থানরত বাংলাদেশী ০৫ প্রতারক চক্রের হোতা পলাতক আবুল কালাম মুহাম্মদ রেজাউল করিম ওরফে একেএম-এর সহযোগীরা ৩২টি ভূয়া প্রতিষ্ঠানের কাগজ-পত্র তৈরি করে উক্ত প্রতিষ্ঠানসমূহের নামে বিভিন্ন মিথ্যা তথ্য সন্নিবেশ করে বাংলাদেশী নাগরিকদের জন্য ৯০০ টি ভিসা আবেদনপত্র জমা প্রদান করে। 

এই জালিয়াত চক্র সনাক্ত করনের পর বিগত ৩৫ সপ্তাহ বিচার প্রক্রিয়া শেষে গত শুক্রবার একেএম নামে পরিচিত রেজাউল করিম (৪২), ঠিকানাঃ আলবার্ট বেসিন ওয়ে, বেকটন, ইংল্যান্ড-কে তার অনুপস্থিতে সাড়ে দশ বছরের কারাদন্ড প্রদান করা হয়। 

তার শ্যালক ইনামুল করিম (৩৪) ও কাজী বরকত উল্লাহ (৩৯), উভয়ের ঠিকানাঃ হালবুত স্ট্রিট, দাগেনহাম; জলপা ত্রিবেদি (৪১), আলবানস, ইংল্যান্ড এবং মোহাম্মদ তমিজ উদ্দিন (৪৭), উইটান স্ট্রিট, বেথনাল গ্রিন, ইংল্যান্ড-সকলকেই একই কাজে সহযোগিতার জন্য বিভিন্ন মেয়াদে কারাদন্ড প্রদান করা হয়। 

এ বিষয়ে সাউথওয়ার্ক ক্রাউন কোর্টের বিচারপতি মার্টিন গ্রিফিথ বলেন, “প্রতারনার আশ্রয় নিয়ে হোম অফিসকে বোকা বানিয়ে ভিসা মন্জুর করানোর অভিযোগে তাদেরকে এই শাস্তি প্রদান করা হলো। আঠারোজনকে মিথ্যা তথ্যের উপর ভিত্তি করে ভিসা প্রদান প্রমানিত হয়েছে। বৃটিশ কর্তৃপক্ষ তাদের মধ্যে তিনজনকে সাধারন ব্রিটিশ নাগরিকত্ব এবং দুইজনকে আজীবনের জন্য অবস্থানের অনুমতি প্রদান করে।” 

জানা যায় যে, কারাদন্ড প্রাপ্তরা গত জুলাই থেকে পলাতক থাকায় রায় ঘোষণার সময় তাদের কেউই উপস্থিত ছিলনা। বরকত উল্লাহ-এর আইনজীবি নাইজেল স্যাংস্টার বলেন, “তার মক্কেল বাংলাদেশে নাকি অন্য কোন দেশে আছেন, তা তার জানা নেই।” 

উল্লেখ্য যে, গত ৩১ ডিসেম্বর, ২০০৮ থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারী, ২০১৩ এর মধ্যে ভিসার জন্য মিথ্যা আবেদনপত্র তৈরির অভিযোগে উক্ত পাঁচজনকেই প্রতারণার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল। রেজাউল করিম, ইনামুল করিম ও বরকত উল্লাহ-কে ২০১৭ সালেও বিভিন্ন সংস্থার নাম ব্যবহার করে ইমিগ্রেশন জালিয়াতি চালিয়ে যাওয়ার জন্য পুণরায় গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। যুক্তরাজ্যে বসবাস করার উদ্দেশ্যে মিথ্যা তথ্য দিয়ে আবেদন করার কারনে তারা তিনজনই গত ১লা মার্চ ২০১৩ থেকে ৫মে ২০১৭ এর মধ্যে অভিযুক্ত হয়েছিল। 

বিচারক গ্রিফিথ- রেজাউল করিমকে সাড়ে দশ বছর, ইনামুল করিমকে নয় বছর চার মাস, বরকত উল্লাহকে পাঁচ বছর দশ মাস, জলপা ত্রিবেদিকে তিন বছর এবং তমিজ উদ্দিনকে আড়াই বছরের কারাদন্ড প্রদান করেন। 

জলপা ত্রিবেদি ছিলেন একজন দক্ষ একাউনটেন্ট এবং তমিজ উদ্দিন ছিলেন একজন ব্যারিস্টার। তারা কোর্টের কাঠগড়ায় দাঁড়ানো অবস্থায় বিচারক তাদের বলেন, “ইংল্যান্ডের ইমিগ্রেশান পলিসির উপর এটা এতই সূক্ষ্ম আক্রমন ছিল যে তিনি খুব সহজেই ভুল করে তাদের খালাস দিয়ে দিতে পারতেন।” 

অভিযোগ আছে যে, এই ইমিগ্রেশন কেলেংকারী চলাকালীন সময়েও উক্ত অভিযুক্ত পাঁচ ব্যক্তি তাদের কিছু ক্লায়েন্টদের কাছ থেকে বৃটেনে বসবাস করার অনুমতির বিনিময়ে তাদের জালিয়াতি ইমিগ্রেশন পরিষেবাগুলির জন্য ৭০০ পাউন্ড করে দাবী করেছিল। কতিপয় ভূয়া প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করে তারা গত ছয় বছরকালীন সময়ের জন্য ইংল্যান্ডের রেভিনিউ ও কাস্টমস বিভাগের নিকট ১৩ মিলিয়ন পাউন্ড ট্যাক্স রিপেমেন্ট দাবী করেছিল। গত ২০১১ সালে হোম অফিস কর্তৃক টিয়ার-১ সাধারন ও উদ্যোক্তা ভিসার আবেদনে একটি সন্দেহজনক প্যাটার্ন ধরা পড়ার পর এই সমুদয় প্রতারণার বিষয়টি সর্বপ্রথম ফাঁস হয়। 

ধরাপড়ার পর এই গ্যাং জানায় যে, তাদের ক্লায়েন্টদেরকে কাগজ-পত্রে তারা তাদের এমপ্লয়ী হিসেবে প্রদর্শন করত। সকল এমপ্লয়ীদের জন্য তারা ট্যাক্সের জাল পে-স্লীপ তৈরি করত আর ইমিগ্রেশনের আবেদন পত্রে টায়ার-১ ভিসার জন্য মিথ্যা তথ্য সংযোজন করে দিত। কারন, এই সময়ে ইংল্যান্ডে বসবাসের সুযোগের জন্য টায়ার-১ (সাধারন ও উদ্যোক্তা) ভিসা ছিল সর্বাধিক কার্য্কর। এছাড়াও, তাদের ক্লায়েন্টদের ব্যাংক একাউন্টে তারা পর্যাপ্ত টাকা জমা প্রদান করত যেন কর্তৃপক্ষকে বোঝানো যায় যে তারা উচ্চ বেতনে চাকরী করে। ফলশ্রুতিতে, একজন ফাস্ট ফুড রেস্টুরেন্ট শ্রমিকও তার বার্ষিক আয় ৬০,০০০ পাউন্ড প্রদর্শন করতে সক্ষম হতো। ভেরিফিকেশ শেষ হলেই পরবর্তী মাসে ব্যাংক থেকে তাদের টাকা ফিরিয়ে নেয়া হতো। এভাবে শুধুমাত্র ২০০৮ থেকে ২০১৩ সালের মধ্যে কয়েক মিলিয়ন পাউন্ড বিভিন্ন ব্যাংকের একাউন্টে হস্তান্তর করা হয়। 

জালিয়াত চক্রের সদস্য ত্রিবেদী অফিসিয়াল চিঠির মাধ্যমে সত্যায়ন করে দিতেন যে, উক্ত টাকা সমুহ ভিসা আবেদনকারীরা তাদের ব্যবসায় বিনিয়োগ করেছে। এভাবে শত শত ট্যাক্স রিপেমেন্ট দাবী করা হয় এবং আরও কয়েক লক্ষ ট্যাক্স রিপেমেন্ট দাবীর প্রক্রিয়া চলমান রাখা হয়েছিল। ফলশ্রুতিতে বৃটিশ সরকারের প্রায় ১,৭২,০০০ পাউন্ড ট্যাক্স রিপেমেন্টের দাবীর প্রেক্ষিতে জালিয়াত চক্রকে প্রদান করতে হয়েছে। বৃটিশ রেভিনিউ ও কাস্টমস বিভাগ জানায় যে, যদি এই জালিয়াত চক্রকে ধরা না যেত, তাহলে তাদের প্রায় ১৩ মিলিয়ন পাউন্ড ক্ষতির সম্মুখীন হতে হতো। 

সূত্রঃBarking and Dagenham POST (23 November 2018)

https://www.barkinganddagenhampost.co.uk/news/crime-court/fraudsters-jailed-over-fake-visa-and-tax-repayment-scam-1-5793168

এই বিভাগের আরো খবর