সোমবার   ১৬ ডিসেম্বর ২০১৯   পৌষ ১ ১৪২৬   ১৮ রবিউস সানি ১৪৪১

ঝালকাঠি আজকাল
১২২

অনলাইনে ‘৫ তারকা’ হোটেল বুকিং, এসে দেখেন কিছু নেই

প্রকাশিত: ৩০ নভেম্বর ২০১৯  

 


সপরিবারে বিদেশে ছুটি কাটাতে যাবেন, তাই ঝামেলা এড়াতে আগেভাগেই অনলাইনে পাঁচ তারকা হোটেলের রুম ভাড়া করেছিলেন একজন। এর জন্য গুনতে হয়েছিল মোটা অংকের টাকা। কিন্তু নির্ধারিতে দিনে গন্তব্যে পৌঁছে রীতিমতো চক্ষু চড়কগাছ সবার। যে হোটেলে তারা বুকিং দিয়েছিলেন, সেখানে ওই নামে কোনো হোটেলই নেই।

বিপত্তি এখানেই শেষ নয়। বাধ্য হয়ে সেখানে আরেকটি হোটেলে উঠতে হয় তাদের। সেখানেও ছিল প্রতারণা। হোটেলটি ভেঙে ফেলার কাজ চলছিল, সবকিছুই ছিল ভাঙাচোরা, অপরিচ্ছন্ন, দুর্গন্ধযুক্ত। সেখান থেকে তারা যান এলাকার আরেকটি হোটেলে। তবে সেই অভিজ্ঞতাও সুখকর হয়নি। সুযোগ বুঝে তারা বড় অংকের অর্থ দাবি করে বসে। হয় টাকা দাও, নাহয় রাস্তায় থাকো। সেদিন তাদের এত সাধের ভ্রমণ পরিণত হয়েছিল এক ভয়ংকর দুঃস্বপ্নে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম মেট্রো জানায়, গত আগস্টের এ ঘটনায় ভুক্তভোগীদের একজন লিংকনশায়ারের বাসিন্দা মার্ক মোল্ড (৩৩)। তিনি লাভহলিডেস নামে একটি ট্রাভেল কোম্পানির মাধ্যমে ৩ হাজার ৪৬৫ পাউন্ডের বিনিময়ে (৩ লাখ ৭৯ হাজার টাকা প্রায়) দুই সপ্তাহের জন্য মিশরের একটি পাঁচ তারকা হোটেলে রুম ভাড়া করেন। অনলাইনের বিজ্ঞাপন অনুসারে ক্রিস্টাল অ্যাক্যুয়া পার্ক অ্যান্ড হোটেলটি সৈকতের কাছে, ওয়াটার পার্কসহ নানা ধরনের বিলাসবহুল সুবিধা থাকার কথা।

ভ্রমণে মার্ক আর তার স্ত্রী সারাহর সঙ্গী ছিলেন বান্ধবী নাটালি বার্নস এবং তার দুই শিশুসন্তান কাইজিয়া ও টাই। পরিকল্পনামাফিক নির্ধারিত দিনে মিশরের হুরঘাদা শহরে উপস্থিত হন তারা। কিন্তু বাস থেকে নেমেই প্রচণ্ড রকম ধাক্কা খান সবাই। ক্রিস্টাল অ্যাক্যুয়া পার্কের বদলে মার্কদের নিয়ে যাওয়া হয় প্যারাডাইস গোল্ডেন ৫ নামে একটি হোটেলে।

মার্ক বলেন, আমাদের দেখে হোটেলের কর্মকর্তারা খুবই অস্বস্তিতে পড়েন। তার বুঝতে পারছিলেন না আমাদের নিয়ে কী করবেন। হোটেলের ডেপুটি ম্যানেজার বারবার আমাদের দিকে তাকাচ্ছিলেন, ফোনে কথা বলছিলেন। তাছাড়া আমাদের ভাড়া করা হোটেলের নাম প্যারাডাইসও নয়।

প্যারাডাইস হোটেলে নোংরা বাথরুম। ছবি: সংগৃহীত

তিনি বলেন, হোটেলটির রুমগুলো ছিল একেবারে অপরিচ্ছন্ন, ধুলাবালিতে ভরা, বিছানার চাদর ছেঁড়া, প্রসাবের গন্ধ, বাথরুমের কমোড ভাঙা, গোসল করতে গেলে পুরো বাথরুম পানিতে ভরে যাচ্ছে, সুইমিংপুলগুলোও ছিল ময়লা-আবর্জনায় ভরপুর। বারের সিলিং খুলে পড়ছিল, সোফার কাপড় ছেড়া, পর্দা নোংরা আর ছেঁড়া, খাবারের মান জঘন্য। তাদের লাইফগার্ডরা সাঁতারও জানেন না। কারণ, আসল লাইফগার্ডরা চলে গেছেন, এখন সেখানে আছেন শুধু বাগান-মালিরা। কোনো রুমেই এসি চলে না। আরও অনেক সাধারণ সেবাও বন্ধ। কারণ হোটেলটি আসলে ভেঙে ফেলা হচ্ছিল। এটি কোনোভাবেই পর্যটক থাকার মতো পরিস্থিতিতে ছিল না।

দ্রুতই ট্রাভেল কোম্পানিতে অভিযোগ করেন মার্ক মোল্ড। পরে জানা যায়, তারা যে হোটেলটি ভাড়া করেছেন, আসলে ক্রিস্টাল অ্যাক্যুয়া পার্ক নামে সেখানে কোনদিনই কোনো হোটেল ছিল না। পুরো বিজ্ঞাপনটাই ভুয়া।

সুদূর ইংল্যান্ড থেকে এসেছেন, হুট করে ফিরেও যাওয়া যাবে না। এজন্য পাশের আরেকটি হোটেলে যান মার্ক ও তার সঙ্গীরা। কিন্তু কপাল মন্দ! দুর্ভোগ সেখানেও। 

ভেঙে ফেলা হচ্ছিল প্যারাডাইস হোটেল। ছবি: সংগৃহীত

কেমপিনস্কি হোটেল সোমা বে নামে ওই হোটেলের লোকজন তাদের কাছে আট হাজার পাউন্ড (৮ লাখ ৭৬ হাজার টাকা প্রায়) ডিপোজিট দাবি করে বসেন। 

মার্ক বলেন, আমাদের টাকা দিতে বাধ্য করা হয়। নাহয় রাস্তায় ফেলে রাখা হতো। 

সব ধরনের বিলের টাকা আগাম দেওয়া হলেও হোটেলটিতে ভ্রমণের পুরো সময়জুড়ে খাবার ও পানির জন্য তাদের আলাদাভাবে বিল পরিশোধ করতে হয়েছে। 

দুর্ভোগের কাহিনী এখনো শেষ হয়নি। ফেরার পথে মার্কদের বাস ভুল পথে চলে যায় এবং তাদের বাধ্য হয়েই ট্যাক্সি ভাড়া করে বিমানবন্দরে পৌঁছাতে হয়।

তবে এত দুর্ভোগের মধ্যে একটুখানি সৌভাগ্য হচ্ছে, অসংখ্যবার অভিযোগের পর কেমপিনস্কি হোটেল কর্তৃপক্ষ অবশেষে তাদের ডিপোজিটের টাকা ফিরিয়ে দিয়েছে। আর ট্রাভেল কোম্পানি লাভহলিডেসও ৪ হাজার ৯৪২ পাউন্ড ক্ষতিপূরণ দিয়েছে।

মার্ক, তার স্ত্রী, বন্ধু ও বন্ধুর ছেলে-মেয়ে। ছবি: সংগৃহীত

মার্ক বলেন, এই ভ্রমণ নিয়ে আমরা খুবই উৎসাহিত ছিলাম, বিশেষ করে শিশুরা। কিন্তু এটি ছিল দুর্ভোগ, অশ্রু ও অসুস্থতার রোলারকোস্টারের মতো। মনে হয় সবারই মনে হয়েছে, আমরা একটি দুঃস্বপ্ন দেখলাম।

এদিকে, মার্কদের এমন দুর্ভোগের জন্য ক্ষমা চেয়েছে লাভহলিডেস কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি, তাদের ওয়েবসাইট থেকে ক্রিস্টাল অ্যাক্যুয়া পার্ক অ্যান্ড হোটেলের বিজ্ঞাপন সরিয়ে ফেলা হযেছে। তবে অন্য ওয়েবসাইটে এখনো রয়েছে এই ভুয়া হোটেলের বিজ্ঞাপন। এজন্য সবাইকে সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে লাভহলিডেস।

এই বিভাগের আরো খবর